বছর গড়ালেই লোকসভা নির্বাচন। এই মুহূর্তে জনসংযোগ বাড়াতে উঠেপড়ে লেগেছেন নানান রাজনৈতিক নেতারা। পিছিয়ে নেই তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। ফের একবার ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’-এ শান অভিষেকের। নিজের সংসদীয় এলাকার ৭০ হাজার বৃদ্ধাকে এবার বার্ধক্য ভাতা দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন তৃণমূল নেতা।
কী জানিয়েছেন অভিষেক?
গতকাল, শুক্রবার ফলতায় এক বস্ত্র বিতরণী অনুষ্ঠানে যোগ দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে তিনি বলেন, “আমি যখনই রাস্তায় বেরিয়েছি, ফলতা, মহেশতলা সহ যেখানে গিয়েছি, সেখানেই অনেক বয়স্ক মহিলারা আমাকে ধরেছেন। তাঁরা বলেছেন, বার্ধক্য ভাতা পাই না। দুয়ারে সরকারে অনেকবার বলেছি। বয়স হয়ে গিয়েছে, ছেলেপুলে নেই, একটু ব্যবস্থা করে দাও। এবার তাদের সেই কাতর আবেদনে সাড়া দিলেন অভিষেক। দুয়ারে সরকারের মাধ্যমেই ডায়মন্ড হারবারের বৃদ্ধাদের এবার বার্ধক্য ভাতা দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন তিনি।
এদিন অভিষেক বলেন, “গত এক-দেড় মাস ধরে আমি ডায়মন্ড হারবার লোকসভা এলাকার প্রশাসনের কাছে খবর নিয়েছি। জেনেছি ৭০ হাজার মানুষ দুয়ারে সরকার শিবিরে নতুন করে বার্ধক্য ভাতা পাওয়ার জন্য নাম লিখিয়েছেন। তাঁদের আমরা আমাদের সাধ্যমতো বার্ধক্য ভাতা দেব। সরকার যবে দেবে দিক। তার আগে আগামী বছরের ১ জানুয়ারি থেকে আমরা আমাদের সাধ্যমতো বার্ধক্য ভাতা পৌঁছে দেব। ডায়মন্ড হারবার লোকসভায় এক থেকে দেড় লক্ষ তৃণমূল কর্মী রয়েছেন। তাঁদের থেকে সাহায্য নিয়ে বার্ধক্যভাতা দেওয়া হবে। এটাই ডায়মন্ড হারবার মডেল। কারও যদি গায়ে লাগে, তা হলে কিছু করার নেই”।
বার্ধক্য ভাতা দেওয়ার ঘোষণা করার পাশাপাশি এদিন বিরোধীদেরও কটাক্ষ করেন তৃণমূল যুবরাজ। তাঁর কথায়, “এটাই জনপ্রতিনিধির কাজ। জনপ্রতিনিধির কাজ মানুষে মানুষে বিভাজন করা নয়। টাকা নিয়ে সেটিং করা নয়। বরং নিজের জীবন বিপন্ন করে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো”।
করোনাকালে ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’ নিয়ে বেশ আলোচনা শুরু হয়। সেই সময়ের সাফল্যের কথা তুলে ধরেন এদিন অভিষেক। বলেন, “২২ শতাংশ সংক্রমণের হারকে ১০ দিনে দুই শতাংশে নামিয়ে এনেছিলাম। এক দিনে ৫০ হাজার টেস্ট করিয়েছিলাম। সারা ভারতে কেউ পেরেছে? বাংলা তো ছেড়ে দিন”। তবে ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই মুহূর্তে অভিষেকের এমন ঘোষণা লোকসভা নির্বাচনে জনসংযোগ বাড়ানোর জন্যই।





