আর মাত্র একদিন। এরপরই বাংলা মেতে উঠবে মা কালীর আরাধনায়। দিকে দিকে চলছে প্রস্তুতি। দুর্গামায়ের বিদায়ের পর এবার মা কালীর মর্ত্যে আসার পালা। বাংলার নানান প্রান্তে একাধিক এমন কালীপুজো হয়, যা বহু প্রাচীন। আর এই কালীপুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে মানুষের অনেকটা আবেগ। সেরকমই একটি পুজো হল নৈহাটির বড়মার পুজো।
এই বছর বড়মার পুজো শতবর্ষে পড়ল। ফলে পুজোর আড়ম্বর আরও বেশি। মায়ের এই বিশাল রূপ দেখতে ও পুজো দিতে অনেক দূরদূরান্ত থেকেও মানুষ আসেন এই এলাকায়। বড়মার কাছে নিজের ইচ্ছা জানালে বড়মা তা পূরণ করেন, এমন কথাই প্রচলিত রয়েছে।
এই বছরের আবার বিশেষত্বও রয়েছে। কালিপুজোর সময় বড়মার মাটির মূর্তি গড়ে পুজো হলেও আগে বছরের বাকি দিনগুলিতে মন্দিরে বড়মার ছবিতেই পুজো হত। তবে এই বছর তৈরি হয়েছে বড়মার কষ্টিপাথরের মূর্তি। লক্ষ্মীপুজোর দিন প্রাণ প্রতিষ্ঠা হয়েছে সেই মূর্তিতে। গোটা বছরই এবার মন্দিরে পূজিত হবে দেই মূর্তি। এই নতুন মন্দির ও বড়মার নতুন মূর্তি দেখতে এমনিতেই ভক্তদের ঢল নেমেছে কালীপুজোর আগে থেকেই।
তবে কালীপুজোতে কখন নেওয়া শুরু হবে বড়মার পুজো?
বড়মা মন্দির ট্রাস্টের তরফে জানানো হয়েছে, আগামী রবিবার অর্থাৎ ১২ নভেম্বর রাত ১২ টা থেকে বড়মার পুজো শুরু হবে। রাত ২ টোয় হবে অঞ্জলি। অঞ্জলির পর ভোগ বিতরণ করা হবে। মায়ের পুজো নেওয়া শুরু হবে ১১ নভেম্বর শনিবার সকাল ৮টা থেকে। আর রবিবার ১২ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভক্তরা মায়ের পুজো দিতে পারবেন। মন্দির ট্রাস্ট সূত্রে খবর, একটানা পুজো নেওয়া করা হবে।
ভক্তরা অনলাইন মাধ্যমেও দিতে পারবেন পুজো। শনিবার রাত ১০টার মধ্যে ৮২৪০৮২০০৩০৩ নম্বরে হোয়্যাটসঅ্যাপ করতে হবে। সেখানে পুজোতে নিজের নাম ও গোত্র লিখে পাঠাতে হবে বলে জানিয়েছে মন্দির ট্রাস্ট।
কীভাবে শুরু হল বড়মার পুজো?
কালীপুজোতে কৃষ্ণনগরে বড় আকারের কালী মূর্তিতে কালীপুজো হয়। সেই পুজো দেখেই নৈহাটির বাসিন্দা ভবেশ চক্রবর্তী বড়মার পুজো শুরু করেন। তারপর থেকেই বছরের পর বছর ধরে চলে আসছে এই পুজো। এই বছর ৫২ ফুটের বড়মার মূর্তি গড়ে তাতে পুজো হবে বলে জানা গিয়েছে।





