সংকটজনক অবস্থায় বাঙালীর ফেলুদা, পুরনো ক্যানসার উদ্বেগ বাড়াচ্ছে চিকিৎসকমহলে

বর্ষীয়ান অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের শারীরিক অবস্থার ক্রমশ অবনতি হচ্ছে, এ নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন চিকিৎসকেরা। তাঁর করোনা সংক্রমণের মাত্রা আশঙ্কাজনক না হলে সৌমিত্রবাবুর স্নায়বিক অবস্থার বিশেষ উন্নতি হয়নি গত দু’দিনে। সোমবার সন্ধ্যেয় মেডিকেল বুলেটিনে এমন কথাই বলে হয়েছে। তবে টক্কর দিয়ে সমানে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন প্রিয় ফেলুদা।

সূত্রের খবর, তাঁকে বাইপ্যাপ ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে। তাঁর হৃদস্পন্দন অনিয়মিত। তাছাড়া সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ও ক্যালসিয়ামের মাত্রাও ক্রমশ ওঠানামা করছে। আজ মঙ্গলবার, সৌমিত্রবাবুর ইকো কার্ডিগ্রাফি, ইসিজি-সহ আরও অন্যান্য রক্ত পরীক্ষা করানো হবে।

একদিকে করোনা তো ছিলই, তার সঙ্গে দোসর অভিনেতার পুরনো প্রস্টেট ক্যানসার, যা নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে ছড়িয়েছে তাঁর মস্তিস্কে ও ফুসফুসে। মুত্রথলিতেও ধরা পড়েছে সংক্রমণ। শনিবারের পর রবিবারও তাঁকে প্লাজমা থেরাপি দেওয়া হয়। এরপর খানিকটা স্থিতিশীল ছিলেন তিনি কিন্তু সোমবার রাতে ফের তাঁর অবস্থার অবনতি ঘটে। হাসপাতাল সূত্রের খবর, মাঝেমধ্যেই জ্বর আসছে অভিনেতার। রাইলস টিউবের মাধ্যমে খাবার খাচ্ছেন সৌমিত্রবাবু। দিনেরবেলা একটু ঘুমলেও একটানা ঘুমোচ্ছেন না তিনি। অক্সিজেনের অভাব ঘটছে। তবে এখনই তাঁকে আর প্লাজমা থেরাপি দেওয়া হবে না বলে জানা গিয়েছে।

সৌমিত্রবাবুর চিকিৎসায় ১২ সদস্যের একটি মেডিকেল দল গঠন করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে এই দলে দুইজন সরকারী হাসপাতালের চিকিৎসকও রয়েছেন। প্রতি মুহূর্তে অভিনেতার শারীরিক পরিস্থিতির খেয়াল রাখছেন তারা।

প্রসঙ্গত, গত সোমবার সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসে। পরের দিনই তাঁকে বেলভিউ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। প্রথমের দিকে তাঁর করোনা অবস্থার উন্নতি হলেও শুক্রবার আচমকা বিগড়ে যায় তাঁর শারীরিক অবস্থা। এরপরই তাঁকে আইটিইউ-তে স্থানান্তরিত করা হয়।

বাংলা চলচ্চিত্রের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। অপু চরিত্র থেকে শুরু করে বাঙালীর আবেগময় চরিত্র ফেলুদা, সব ক্ষেত্রেই নিজের অসামান্য অভিনয় ফুটিয়ে তুলেছেন তিনি। তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করে চলেছেন গোটা টলিপাড়া থেকে তাঁর ভক্তমহল।

RELATED Articles