অরিজিৎ সিংয়ের গানের ভক্ত দেশের নানা কোণায় ছড়িয়ে আছে। ৮ থেকে ৮০, সবাই তাঁর কণ্ঠে মুগ্ধ। তবে, একসময় নিজেই নিজের কণ্ঠের প্রতি একেবারে অনাগ্রহী ছিলেন তিনি। নিজের কণ্ঠের প্রতি এক ধরনের ঘৃণা ছিল অরিজিতের, যা তিনি সম্প্রতি একটি পডকাস্ট শোতে শেয়ার করেছিলেন। তিনি জানান, যখন তিনি কেরিয়ার শুরু করেছিলেন, তখন মানুষ তাঁর কণ্ঠ পছন্দ করত না। এমনকি, নিজেকে বদলাতে প্রচুর পরিশ্রম করতে হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর কণ্ঠের টেক্সচার বদলে যায় এবং আজকের অরিজিৎ সিংয়ের কণ্ঠের সেই বিশেষ সুর সৃষ্টি হয়।
অরিজিৎ সিংয়ের কণ্ঠের উন্নতির জন্য তিনি যে পরিমাণ পরিশ্রম করেছেন, তা সত্যিই আশ্চর্যজনক। গায়কের মতে, “গলা ভেঙে ভেঙে আজকের কণ্ঠ তৈরি করেছি।” নিজের কণ্ঠের প্রকৃত পরিবর্তনের জন্য তিনি নিয়মিত রেওয়াজ করতেন। কণ্ঠের প্রজেকশন পরিবর্তন করার জন্য অনেক রাত জেগে গান অনুশীলন করতেন। তিনি আরও বলেন, “গলা ক্লান্ত হয়ে পড়লে তখন শুতে চলে যেতাম, তারপর আবার সকালে উঠে রেওয়াজ করতাম।” এত কষ্টের পর, অরিজিৎ সিং নিজেই তাঁর সঙ্গীত জীবনকে পুনর্নিমাণ করেন।
অরিজিতের সঙ্গীত যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০০৫ সালে, যখন তিনি ফেম গুরুকুল নামক রিয়েলিটি শোতে অংশ নেন। যদিও সেই প্রতিযোগিতা জেতেননি, কিন্তু সেখান থেকেই তাঁর জীবনে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হয়। এরপর তিনি মার্ডার ছবির “ফির মহব্বত” গানে প্লেব্যাক করেন, যা জনপ্রিয়তা অর্জন করে। তবে অরিজিত সিং সত্যিকার অর্থে পরিচিতি পান ২০১৩ সালে, আশিকি ২ ছবির “তুম হি হো” গানটি দিয়ে। সেই গান ছিল তাঁর কণ্ঠের গুণ এবং আবেগের এক চমৎকার মিলন, যা শোনার পর, দর্শকরা তাঁর প্রতি নিজেদের ভালোবাসা আরও গাঢ় করে।
বর্তমানে, অরিজিত সিং নিজের কণ্ঠে সেই সুর ধরেছেন, যা হাজারো মানুষের হৃদয় স্পর্শ করে। কিন্তু ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে অরিজিৎ ঘোষণা করেন, তিনি আর প্লেব্যাক গান করবেন না। তাঁর মতে, কিছু নির্দিষ্ট প্রজেক্টে তিনি সই করেছেন, সেগুলো সম্পূর্ণ করবেন, তবে নতুন কোনো প্লেব্যাক প্রজেক্টে অংশ নেবেন না। ভবিষ্যতে নিজের স্বাধীন কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে তিনি নিজের গান তৈরি করবেন এবং ছবি বানাবেন।
আরও পড়ুনঃ রবিবার ফের বাংলায় মোদীর ঝড়! বনগাঁ–আরামবাগে জোড়া জনসভা, বিকেলে উত্তর কলকাতায় মেগা রোড শো!শেষ মুহূর্তে তুঙ্গে প্রচার
অরিজিৎ সিংয়ের এই দীর্ঘ যাত্রা এবং সংগ্রামের মধ্যে একটি বড় বার্তা লুকিয়ে রয়েছে। নিজের প্রতি বিশ্বাস এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে যে কেউ যে কোন বাধা অতিক্রম করতে পারে, তা আবারও প্রমাণিত হলো তাঁর জীবনের গল্পে। ২৫ এপ্রিল ১৯৮৭ সালে মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে জন্মগ্রহণ করা এই গায়ক, আজ গোটা পৃথিবীতে গানের এক নক্ষত্র। তাঁর কণ্ঠের সাথে একসময় যাঁরা পরিচিত ছিলেন না, আজ তাঁর গান শুনে মুগ্ধ হন তারা। অরিজিত সিংয়ের জীবন, সংগ্রাম এবং সাফল্য সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক।





