ছোট পর্দা ও বড় পর্দায় দাপিয়ে কাজ করেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী অঞ্জনা বসু (Anjana Basu)। নায়ক-নায়িকার মা-কাকিমা বা বাড়ির প্রধান গৃহিণীর চরিত্রে তার রাশভারী অভিনয় রীতিমত মুগ্ধ করে দর্শককে। বধূবরণ ধারাবাহিকে তার অভিনীত ইন্দিরা চরিত্র আজও দর্শকের মনের মনিকোঠায় রয়ে গেছে। কিন্তু অনেকেই জানেন না জনপ্রিয় এই অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে!
১০ই এপ্রিল ১৯৭৫ সালে হাওড়ার একটি যৌথ পরিবারে জন্ম হয় অঞ্জনা বসুর। নাট্য দলের সদস্য হওয়া সত্ত্বেও অঞ্জনা বসুর বাবা চাইতেন না মেয়ে অভিনয়ের সাথে যুক্ত হোক। তবে নাচ শেখার ক্ষেত্রে কোনও বাধা দেয় নি পরিবার, সেই কারণে ছোট থেকে ভারতনাট্যম শিখেছেন অভিনেত্রী।
একইসাথে অত্যন্ত মেধাবী অঞ্জনার আগ্রহ ছিল কবিতা পাঠ ও লেখালেখির প্রতিও। হাওড়া গার্লস স্কুলে লেখাপড়া শেষ করে তিনি মনোবিদ্যা নিয়ে ভর্তি হন বিজয় কৃষ্ণ গার্লস কলেজে। এরপর তিনি স্নাতকোত্তর পড়বার জন্য কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজাবাজার সায়েন্স কলেজে ভর্তি হলেও বিয়ের কারণে লেখাপড়ায় ইতি টানতে হয় তাকে।
বিয়ের পর বর সুমন্ত্র বসুর সঙ্গে তিনি চলে যান পাটনায়। সেখানে জন্ম হয় তাদের একমাত্র পুত্র সন্তান অরিত্রর। এরপর সংসারে বেশ কিছু বছর ব্যস্ত থাকার পর তিনি ফিরে আসেন কলকাতায় আর এইসময় অভিনেত্রী পেশা হিসেবে বেছে নেন অভিনয়কে। প্রথমে মডেলিং করতে শুরু করেন অভিনেত্রী তারপর সেখান থেকেই ছোটপর্দায় কাজ করেন তিনি।
২০০৩-এ আলফা বাংলার রবির আলো ধারাবাহিকে প্রথমবার অভিনয় করেন অঞ্জনা বসু। এরপর ২০০৫ সালে ‘রাত বারোটা পাঁচ’ ছবিতে কাজ করার মধ্য দিয়ে বড় পর্দায় পা রাখেন তিনি। বাই বাই ব্যাংকক, ল্যাপটপ, ব্যোমকেশ ফিরে এলো, অভিমান, কিশমিশ অপরাজিত ইত্যাদি ছবিতে তার অভিনয় মন কেড়েছে চলচ্চিত্র প্রেমীদের।
তবে বড় পর্দার থেকে ছোট পর্দায় তার কাজগুলো যেন আরও জনপ্রিয়- জাগরণ, বিজয়িনী পিলু ,মন মানে না, রূপসাগরে মনের মানুষ, উড়ান ইত্যাদি ধারাবাহিকে তার অভিনয় অনবদ্য। তার বর সুমন্ত্র বসু এয়ারলাইন্স কোম্পানিতে কর্মরত, কর্মসূত্রে দিল্লিতে থাকেন তিনি। মাঝেমধ্যেই বিদেশ যান তিনি, কাজের ফাঁকে করেন সঙ্গীত চর্চাও।
অঞ্জনার ছেলে অরিত্রর বয়স এখন ২৩ বছর। বিদেশে থেকে লেখাপড়া করছেন তিনি। গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করে অরিত্র এখন ইউনিভার্সিটি অফ শিকাগো থেকে পি এইচ ডি করছেন। তবে স্বামী, স্ত্রী ও সন্তান তিনজন তিনদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকলেও নানান রকম অনুষ্ঠানে তারা একত্রিত হন এবং তাদের একসাথে দেখা যায়।





