‘প্রশাসন এমন কাজ করবে কেন যে শাসকদলকেই বিচার চাইতে হবে…’, আর জি কর কাণ্ড নিয়ে আত্মসমালোচনা কুণালের, ‘উনিও কী মমতার পদত্যাগ চাইছেন’, প্রশ্ন বিজেপির

আর জি কর কাণ্ড নিয়ে এখন সমস্ত মহলেই শোরগোল। তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের ঘটনার প্রতিবাদে সরব সকলে। বিরোধী দল যেমন এই ইস্যুতে প্রতিবাদ জানিয়েছে, তেমনই আবার শাসক দলের তরফেও বিচার চাওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে এবার এই ঘটনায় প্রশাসনের দিকেই আঙুল তুললেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। আর তা নিয়ে শুরু বিস্তর চর্চা।

আর জি কর কাণ্ড নিয়ে যে তৃণমূলের মধ্যে বিভাজন দেখা দিয়েছে, তা বেশ স্পষ্ট। এক শিবিরের দাবী, প্রশাসনের অক্ষমতার জন্যই এই ঘটনা ঘটেছে। আর সেই শিবিরে পড়েন কুণাল ঘোষের মতো নেতারা। আবার অন্যদিকে, কলকাতা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়ের মতো নেতারা। আর জি কর কাণ্ড নিয়ে এর আগে নানান তারকা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের বিঁধেছেন কুণাল। এবার তাঁর পোস্টে ধরা পড়ল আত্মসমালোচনার কথা।  

কুণালের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তিনি লিখেছেন, “নাগরিকদের মিছিল, জুনিয়র ডাক্তারদের মূল দাবি আমিও সকলের মতই সমর্থন করি। বিচার চাই। প্রশাসনের কিছু পদক্ষেপকে মানুষ ভুল বুঝেছেন। সেখান থেকে বিরক্তি, অবিশ্বাসের বাতাবরণ তৈরি হয়েছে বলেই নাগরিকদের পথে নামতে হচ্ছে। নির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপে এই পরিস্থিতি সামলানোর দায়িত্বও সরকারের”।

কুণালের কথায়, “নাগরিকদের মিছিল, জুনিয়র ডাক্তারদের মূল দাবি আমিও সকলের মতই সমর্থন করি। বিচার চাই। প্রশাসনের কিছু পদক্ষেপকে মানুষ ভুল বুঝেছেন। সেখান থেকে বিরক্তি, অবিশ্বাসের বাতাবরণ তৈরি হয়েছে বলেই নাগরিকদের পথে নামতে হচ্ছে। নির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপে এই পরিস্থিতি সামলানোর দায়িত্বও সরকারের”।

নিজের পোস্টে বিজেপি ও সিপিএমকে বিঁধতেও ছাড়েন নি তিনি। তবে নাগরিক সমাজের কাছে কুণালের আবেদন, “দোষীদের চরম শাস্তি হোক। যদি কেউ-কারা আড়াল করে থাকে, চিহ্নিত হোক, শাস্তি হোক। প্রশাসনের কিছু পদক্ষেপ মানুষ ভালোভাবে নেননি। সেটা প্রশাসন দেখুক। এনিয়ে নাগরিক আন্দোলন সমর্থনযোগ্য। কিন্তু বিরোধী দলগুলোর রাজনৈতিক ইভেন্টের ফাঁদে পা দেবেন না”।

আরও পড়ুনঃ অসুরক্ষিত সরকারি হাসপাতাল? সরকারি হাসপাতালে যৌন নির্যাতনের শিকার নাবালিকা, গ্রেফতার হাসপাতালেরই কর্মী

অন্যদিকে আবার কুণালের এই পোস্ট নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়ে নি বিজেপি। বিজেপি নেতা সজল ঘোষ এই বিষয়ে বলেন, “কুণাল ঘোষও কী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ চাইছেন? উনি তো নিজে বলছেন শাসক এমন কাজ বারবার করবে কেন! আসলে কুণাল ঘোষের মতো লোকেরা কখন কাকে খোঁচা দেয়, কখন কাকে চুমু খায় তা বোঝা বড় দায়। অর্থাৎ একে নিয়ে কথা বলাই মুশকিল’।

RELATED Articles