‘হাত ধরে টানাটানি, আমাকে জোর করতে লাগলেন, তারপর…’, কেরিয়ারের শুরুতে কাস্টিং কাউচের শিকার, ইন্ডাস্ট্রির নোংরা দিক তুলে ধরলেন ইন্দ্রানী হালদার

টলিউডের পরিচিত মুখ ইন্দ্রানী হালদার (Indrani Halder)। ছোট পর্দা থেকে বড় পর্দা দাপিয়ে কাজ করে বেরিয়েছেন। কেমন ছিল ইন্দ্রানী হালদারের অভিনয় জীবনের শুরুটা। ইন্ডাস্ট্রিতে থাকতে গেলে নাকি অনেক কিছু করে উঠতে হয়‌। এমন‌ অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিনেত্রী ইন্দ্রানী হালদারের (Indrani Halder)। সম্প্রতি, এক অনুষ্ঠানে ইন্দ্রানী হালদার তার জীবনের গোপন কথা ফাঁস করলেন নিজেই।

অভিনেত্রী (Indrani Halder) বলছেন, “আমার স্ট্রাগালের কথা যেটা কোনদিনও কেউ জানে না, এই প্রথম আমি কথাটা পাবলিকলি বলবো। আমার জীবনের প্রথম দিকের ছবি, তখন আমার বয়স মাত্র কুড়ি বছর। বম্বেতে সেই ছবির শুটিং হয়েছিল। সেই ছবির প্রযোজক বোম্বের, নায়ক এখানকার এবং বোম্বের অনেক নামিদামি শিল্পী ছিলেন সেই সিনেমাতে। ছবিটার বেশিরভাগ শুটিং হয়েছিল বম্বেতে। প্রথম লটে মা গিয়েছিলেন আমার সঙ্গে। সেকেন্ড লটে কিছুটা শুটিং ও ডাবিং ছিল। যেদিন আমি যাব সেদিন সকালবেলা আমার ফ্লাইটের টিকিট কাটা হলো, আমার বাবার সঙ্গে যাবেন তার টিকিট কাটা হলো সেদিন বিকেলের। আমি বুঝতে পারিনি কেন।”

ইন্দ্রানী হালদার (Indrani Halder) তার জীবনের স্ট্রাগলের কথা শেয়ার করে বলেছেন, “প্রথমবার যখন আমি গিয়েছিলাম আমাকে ডাকা হয়েছিল সান এন্ড সানডে ফাইভ স্টার হোটেলে। সেবার যখন গেলাম আমাকে নিয়ে যাওয়া হল লিঙ্ককিং রোডের লিঙ্ক ওয়ে বলে একটি হোটেল আছে সেখানে। পৌঁছানো মাত্রই আমার কাছে ফোন আসে, ফোন করেন প্রযোজক, বলেন আমি যেন হোটেল রুমে থাকি তিনি আসছেন আমার সঙ্গে দেখা করতে। তখন সবে নতুন মোবাইল উঠেছে। প্রথমে ভয় পেয়ে ডিরেক্টরকে ফোন করেছিলাম। বলেছিল বাঘ ভাল্লুক নয় খেয়ে ফেলবে না।”

সেদিনের ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে অভিনেত্রী (Indrani Halder) বলেন, “যথারীতি প্রযোজক আমার হোটেলের দরজায় বেল বাজান। কথা বলে, তিনি কিছুক্ষণের মধ্যে আমার হাত ধরে টানাটানি শুরু করলেন, আমাকে রীতিমতো জোর করতে লাগলেন। আমি যখন তাকে ছেড়ে দিতে বলেছিলাম তখন আমাকে বলেছিল বড় বড় অভিনেত্রীরা আমার পায়ের তলায় থাকে, আমি বলেছিলাম দেখুন আপনি আমাকে আমার প্রতিভা দেখে নিয়েছেন, আমি কিন্তু আপস করেই কাজ করব না। তখন শুধু ঠাকুরকে ডেকেছিলাম। মনে মনে ভাবছিলাম আজ কী তবে রে’প হবে আমার‌।”

অভিনেত্রী (Indrani Halder) জানিয়েছেন, ঠাকুরের নাম যতই তিনি হয়তো সেই ভয়ংকর কিছুর হাত থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছিলেন। তিনি বলেছেন, “ভাগ্যবশত সেদিন ওনার ফোনটা বেজে ওঠে ফোনে ছিলেন ওনার স্ত্রী। তখন আমার মাথায় হঠাৎ করে বুদ্ধি খেলে গেল আমি গিয়ে দরজার ছিটকানিটা খুলে দিয়ে কাশতে শুরু করি। প্রযোজক আমাকে অনেকবার চুপ করতে বলেছেন। স্বাভাবিকভাবেই আমি চুপ না করাতে ওনার বউয়ের কানে আমার আওয়াজটা যায় এবং প্রযোজক বলতে বাধ্য হন যে উনি আমার সাথে দেখা করতে এসেছেন। সে যাত্রায় উনি চলে গিয়েছিলেন। বলেছিলেন, তোমার জীবনে কিচ্ছু হবে না। অনেক ভাবনা চিন্তার পর আমি বুঝতে পারলাম উনি আমার সাহসটা বাড়িয়ে দিয়ে গেলেন আমি আপোষ করে ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করতে আসিনি আর কোনদিনও আপোষ করবো না।”

RELATED Articles