‘এক আকাশের নীচে’র মাধ্যমে অভিনয় জীবনে পা রেখেছিলেন তিনি। এখনও পর্যন্ত সকলের কাছে তিনি ‘পাখি’ হয়েই থেকে গিয়েছেন। কেন অন্য কোনও চরিত্র ‘পাখি’র জায়গা দখল করতে পারল না? কেনই বা গত একুশ বছর ধরে স্রেফ কয়েকটা ধারাবাহিক ও অল্প সংখ্যক ছবিতেই আটকে থাকল তাঁর অভিনয় কেরিয়ার? এসব কিছু নিয়ে এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে খোলাখুলি আলোচনায় বসলেন অভিনেত্রী কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়।
কনীনিকার কথায়, তিনি শুরুই করেছিলেন ‘এক আকাশের নীচে’ ধারাবাহিক দিয়ে। রবি ওঝার মতো পরিচালক, একঝাঁক তাবড় তাবড় অভিনেতা। তিনি নিজের অভিনয়ের সবটাই শিখেছেন তাদের থেকেই। কিন্তু আজকালকার ধারাবাহিকের সঙ্গে যেন মানুষ নিজেকে মেলাতে পারে না।
একুশ বছরে অনেকটাই কম কাজ করেছেন কনীনিকা। সমস্ত কাজ মেলালে হয়ত খুব জোর সাত-আট বছর কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। এই বিষয়ে অভিনেত্রী বলেন, “রবি ওঝার ছবি ‘আবার আসব ফিরে’ করার সময়ে শুনেছিলাম আমি নাকি ভবিষ্যতের সবচেয়ে প্রতিশ্রুতিমান তারকা। তবু কেউ ডাকল কি? আসলে সময় আর ভাগ্য একটা বড় ব্যাপার। আমার লড়াইটা বেশি হয়ে গিয়েছে। কাজ কম। বলিউডে কিছু দিন গিয়েছিলাম। সেখানেও একই তো হাল হল”।
কিন্তু কেন এমনটা হল। কেন কাজ করার সুযোগ পেলেন না তিনি। অভিনেত্রীর কথায়, “ইন্ডাস্ট্রি তো বলে আমি নাকি বড্ড নাকউঁচু, ভীষণ অহঙ্কারী। তাই হয়তো কাজ দিতে চায় না। আসলে আমি খুব স্পষ্টবক্তা ধরনের। কোনও কিছু পছন্দ না হলে সেটা সোজাসুজি বলি, দরকারে সটান বেরিয়েও আসি। আর তেল-টেলও দিতে পারি না একদম। সেটাই হয়তো আমায় অপছন্দের কারণ”।
কোনও ধারাবাহিকে কাজ করার পর টানা আবার বিরতি নিলে কী কোনও মানসিক অবসাদ কাজ করে না অভিনেত্রীর মধ্যে? কনীনিকার কথায়, “হ্যাঁ, হবে না কেন! কিন্তু আমার পাশে কিছু মানুষ আছেন, আমার পরিবার, মা, বাবা, কাকা, বোন। এখন আমার মেয়ে কিয়া। এরাই আমায় অবসাদে তলিয়ে যেতে দেয়নি”।
টলি না টেলিপাড়ার অনেকেই এখন রাজনীতিতে। কনীনিকাও কী সেরকম কিছু ভাবছেন? তাঁর কথায় রাজনীতি তিনি পেরে উঠবেন না। কারণ রাজনীতি করার মতো বোধবুদ্ধি নাকি তাঁর মধ্যে একেবারেই নেই।
কনীনিকার কর্মজীবন তো বটেই, তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও বেশ চর্চা রয়েছে। প্রযোজক সুরজিত হারিকে বিয়ে করেছেন তিনি। সুরজিত ডিভোর্সি। কনীনিকার সঙ্গে বিয়ের সময় দশ বছরের ছেলে ছিল তাঁর। প্রযোজককে বিয়ে করার জন্য অনেকেই আগে ভাবতেন হয়ত তাঁর সঙ্গে কথা বললেই তাঁর স্বামী প্রযোজনায় রাজি হয়ে যাবেন। কিন্তু কনীনিকার কথায়, তাদের কাজ সম্পূর্ণ আলাদা। তারা একে অপরের কাজে জড়ান না।
এতগুলো বছর ইন্ডাস্ট্রিতে কাটিয়ে ফেললেন তিনি। কতটা বদল এসেছে ইন্ডাস্ট্রিতে? অভিনেত্রীর কথায়, “এখন তো আমাকে টলিপাড়ার ‘বড়’দের দলে ফেলে দেওয়া হয়েছে। আমি তো আসলে তা নই। একুশ বছরে কাজ তো করেছি মাত্র সাত-আট বছর। বাকিটা বিরতি আর অপেক্ষা। আর সেই ফাঁকগুলোতে ইন্ডাস্ট্রি অনেকখানি বদলে গিয়েছে। ধারাবাহিকের চরিত্র বদলেছে। শ্যুটিংয়ের চরিত্রও। এখন দেখি অনেক ক্ষেত্রেই পরিচালকের চেয়ে গল্পলেখক, প্রযোজক বা চ্যানেলের কথার বা সিদ্ধান্তের গুরুত্বই বেশি”।
কাজের ফাঁকে ফাঁকে শুটিং ফ্লোরে বা মেয়েকে নিয়ে রিল ভিডিও-ও বানান কনীনিকা। তাঁর কথায়, রিল ভিডিও এখন তারকাদের ইমেজ বেচার বিজ্ঞাপন। দর্শকদের সামনে থাকার প্রচেষ্টা। তিনি এও মনে করেন যে সারাক্ষণ রিল ভিডিও বানিয়ে শুটিং ফ্লোরে যদি আসল অভিনয়টাই না করা যায়, তাহলে কিন্তু দর্শক এমনিও বেশিদিন মনে রাখবে না।





“হিরণের বাড়িতে দু’টো বউ, সোহমের কিন্তু একটাই বউ…” দলীয় প্রার্থীর প্রশংসা করে, বিপক্ষ তারকা প্রার্থীকে খোঁচা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের! নির্বাচনের প্রাক্কালে শাসকদল বনাম বিজেপির সংঘাতে উত্তেজনা তুঙ্গে!