টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী নবনীতা দাস, দীর্ঘ সময় ধরে পর্দার বাইরে থাকলেও সম্প্রতি এক নতুন সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনায় এসেছেন। তিনি সম্প্রতি প্রায় এক কোটি টাকার গাড়ি কেনার পর থেকে নানা ধরনের সমালোচনার শিকার হন। বিশেষ করে তার প্রাক্তন স্বামী জিতু কমলের সাথে বিচ্ছেদের প্রসঙ্গ উঠে আসে। তবে দীর্ঘদিন মুখ না খুললেও, এবার নবনীতা নিজের মনের কথা খোলামেলা ভাবে জানিয়েছেন। তিনি জানান, পুরনো সম্পর্কের অভিজ্ঞতা তাকে জীবনের প্রতি আরও শক্তিশালী ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দিতে সাহায্য করেছে।
নবনীতা জানিয়েছেন, যদিও তার জীবনে কিছু খারাপ অভিজ্ঞতা ছিল, তবুও তিনি ভালোবাসার প্রতি নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করতে চান না। বরং, তিনি জীবনের নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করে অনেক কিছু শিখেছেন এবং নিজেকে নতুনভাবে চিনতে পেরেছেন। বর্তমানে, তিনি আবার বিয়ে করার কোনো পরিকল্পনা না থাকার কথা জানিয়েছেন। তবে, যদি এমন একজন মানুষ তার জীবনে আসে, যার চিন্তা-ভাবনা তার সাথে মিলে, তবে বাঙালি না হলেও তার জন্য কোনো সমস্যা নেই।
বর্তমানে নবনীতা একা থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং নিজের জীবনকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে চাচ্ছেন। তিনি মনে করেন, একজন স্বাধীন নারী হিসেবে কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি। বিয়ে বা সম্পর্কের চেয়ে তার কাছে মাতৃত্বের গুরুত্ব অনেক বেশি। নবনীতা বলছেন, “বাচ্চাদের নিয়ে কাজ করার অনুভূতি একেবারে আলাদা। আমি মা হতে চাই এবং যদি কখনো সেই সুযোগ আসে, আমি তা পুরোপুরি গ্রহণ করব।” এর মাধ্যমে তিনি জীবনের নতুন উদ্দেশ্য এবং দৃষ্টিভঙ্গি পেয়েছেন।
নবনীতা দাস বর্তমানে বেঙ্গালুরুতে একটি ব্যবসা পরিচালনা করছেন এবং সেখানেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছেন। তবে ছোটপর্দা থেকে দূরে থাকার পরেও তিনি বলেছেন, যদি ভালো সুযোগ আসে, তাহলে তিনি আবার পর্দায় ফিরবেন। তার কথায়, “বয়স বা পরিস্থিতি যাই হোক, আমি কখনোই আমার প্যাশনকে পর্দার বাইরে রাখতে চাই না।” এই ভাবনা তাকে আরও আত্মবিশ্বাসী ও স্বাধীন করে তুলেছে এবং তিনি নিজেকে নতুনভাবে চিনতে শিখেছেন।
আরও পড়ুনঃ প্রিয়াঙ্কা নয়, শুভশ্রী হওয়ার কথা ছিল ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’-এর নায়িকা! কী হয়েছিল যে তাড়াতাড়ি মুখ্য ভূমিকায় বদল আনেন রাজ? রাহুল অরুণোদয় কী জানিয়েছিলেন?
মোটকথা, নবনীতা দাস তার জীবনের পরবর্তী অধ্যায়ে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে চাইছেন। তিনি পুরনো সম্পর্কের ব্যর্থতা বা খারাপ অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে জীবনকে নতুনভাবে গঠন করার পথে এগিয়ে যাচ্ছেন। তার জন্য এখন সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মাতৃত্ব এবং তার নিজস্ব পরিচয় গড়ে তোলা। আসলে, নবনীতার জীবনের নতুন দিগন্ত উন্মোচন হয়েছে মাতৃত্বের ভাবনায়, যা তাকে আরও শক্তিশালী ও আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।





