সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় (Sabitri Chatterjee) বাংলার সিনে জগতে এক উজ্জ্বল নাম। একটা সময় দর্শকদের মনে ঝড় উঠতো তার অভিনয়ে। একের পর এক বহু হিট ছবি তিনি সকলকে উপহার দিয়েছেন। এমনকি উত্তম কুমারের সঙ্গেও তিনি বহু ছবিতে অভিনয় করেছেন। নাকি খোদ মহানায়ক তার অভিনয়ে মুগ্ধ ছিলেন। সেই সাবিত্রী চ্যাটার্জী একটা সময় কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে দিন যাপন করেছেন।
স্বাধীনতার পূর্বে, অখণ্ড ভারতে জন্ম হয়েছিল কিংবদন্তি অভিনেত্রী সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের। সেটা ছিল ১৯৩৭ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি। বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলার একটা ছোট শহরে কমলাপুরে জন্মগ্রহণ করেন সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় (Sabitri Chatterjee)। তাঁর বাবা শশধর চট্টোপাধ্যায় ছিলেন রেলের স্টেশনমাস্টার।
প্রথম যখন সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় (Sabitri Chatterjee) কলকাতা এসেছিলেন তখন তার বয়স ছিল খুবই কম। কলকাতা আসার ঘটনাটি খুবই কাকতালীয়ভাবে ঘটে যায় তার সাথে। বশিয়ান অভিনেত্রী সাবিত্রী চ্যাটার্জী নিজেই সে কথা জানিয়েছেন।
সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় (Sabitri Chatterjee) সাক্ষাৎকারে জানান, “আমি কিন্তু দেশ ভাগের জন্যে এখানে আসিনি। তার কলকাতায় আসার অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে অভিনেত্রী বলেছেন, আমাদের পাশের বাড়িতে টাইফয়েডের জন্য একটি ছেলের চোখ নষ্ট হয়ে যায়। তাকে নিয়ে আসা হচ্ছিল কলকাতাতে চিকিৎসার জন্য। আমি তাদের সঙ্গে আসার জন্য বায়না ধরি।”
সাক্ষাৎকার এই অভিনেত্রী জানান, “আমার বাবা-মা চোদ্দ পুরুষের কেউ কলকাতা দেখেনি। তাই আমার ইচ্ছা ছিল ট্রাম গাড়ি দেখব, বাসে উঠে বসব। আমার টাইফয়েড হয়েছিল একটা সময়। তখন ওষুধ খাবার জন্য আমাকে (Sabitri Chatterjee) অনেকে অনেক টাকা দিত। সেই টাকা থেকে বেশ কিছু টাকা আমি জমিয়ে রেখেছিলাম। সেখান থেকে এই টাকা নিয়ে বাড়ির সকলকে বলি বাবাকে বোঝাতে আমায় কলকাতা যাওয়ার জন্য যেন ছেড়ে দেয়।”
অভিনেত্রী (Sabitri Chatterjee) জানান, “আমার বাংলাদেশের প্রতিবেশীরা গিয়েছিলেন সাত দিনের জন্য। তবে আমি আর ফিরিনি। বাবা চিঠি পাঠিয়েছিলেন আমাকে এখানেই রেখে দিতে দিদির বাড়িতে। দিদির বাড়ি ছিল কলকাতায় সেখানেই থেকে গেছিলাম।”
১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় কিশোরী বয়সে কলকাতার দিদির বাড়ি টালিগঞ্জে চলে আসেন সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় (Sabitri Chatterjee)। টালিগঞ্জেই তাঁর বেড়ে ওঠা। তাই সেই সময় বাংলা ছবির তারকাদের খুব কাছ থেকেই দেখার সুযোগ পেয়েছিলেন।





