Groom in palki: পালকিতে বউ যায় একথা সবাই জানে, তবে এবার পালকিতে যাচ্ছে বর।বেশিরভাগ সময় আমরা দেখতে পাই প্রাইভেট গাড়িতে ফুল দিয়ে সাজিয়ে বিয়ে করতে আসে বর। পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা দেখা গেল অবাক দৃশ্য। বর্তমান উন্নতির যুগে বর ধরে রাখল প্রাচীন ঐতিহ্য। ফুল দিয়ে সাজানো গাড়ি নয় বর এলো ফুল দিয়ে সাজানো ঐতিহ্যবাহী পালকি চেপে (Groom in palki)। গরবেতার সন্ধিপুরের বাসিন্দা ইব্রাহিম খান, সাবেকি পালকিতে এলেন বিয়ে করতে। বর কে দেখতে থিকথিকে ভিড় হয়েছে রাস্তায়। পালকিতে চেপে বিয়ে করতে এল বর (Groom in palki)। বর যাত্রী এলো গরুর গাড়িতে চেপে।
পাত্র ইব্রাহিম খানের কথায়, “মারুতি, বুলেরো গাড়ি, বাস এখন তো সবাই যাচ্ছে যানবাহনে। কিন্তু আগেকার স্মৃতি বা কথা মনে রাখার চেষ্টা করেনা। তাই আগেকারের পুরনো স্মৃতি রাখার জন্য টানা গাড়ি বা পালকি করা হয়েছে (Groom in palki)। আমার বাবা আমার স্বপ্ন পূরণ করেছে। বাবা যে এত কিছু আয়োজন করেছে এটা আমি ভাবতেও পারিনি। আমার বাবা মা আত্মীয়-স্বজন সবার চেষ্টা না থাকলে এটা কখনোই হতো না। সবাই খুব খুশি, সবাই আমার পাশে আছে।”
ইব্রাহিমের দিদা ফিরদৌসী বেগম জানাচ্ছেন, “এটা তার ইচ্ছাতেই হয়েছে। অনেক লোক টাটা সুমো,মারুতি, বাস করছে অতএব আমি চাই পুরনো স্মৃতি ফিরে আসুক। আমি বাচ্চা বয়স থেকে ওকে বড় করেছি, লেখাপড়া শিখিয়েছি। ওর জন্মস্থান কৃষ্ণপুরে কিন্তু ও বড় হয়েছে আমার কাছেই। তার জন্যই আমার এই ইচ্ছা হয়েছে। আমার এই ইচ্ছা পূরণ করার জন্য আমি মোষ গাড়ি ও পালকি করেছি (Groom in palki)। পুরনো দিনের স্মৃতি ফিরিয়ে আনার জন্য আমি এমনটা করতে চেয়েছিলাম”।
ইব্রাহিমের দিদা তার নাত বউয়ের কথা ও বলেছেন। তার মুখেই জানা গেছে ইব্রাহিমের বউয়ের নাম সোহেলী বেগম। জানা গেছে ইব্রাহিমের বিয়ে হবে পশ্চিম মেদিনীপুরের কৃষ্ণপুরে। বিয়ের এমন আয়োজনে হতবাক গ্রামবাসীরা। বরকে দেখতে বেরিয়ে এলেন রাস্তায়। পুরনো দিনের ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে ও বিয়ের আনন্দকে স্মৃতি হিসেবে তুলে রাখতেই ইব্রাহিমের বাড়ির তরফে এই আয়োজন করা হয়েছে (Groom in palki)।
এ প্রসঙ্গে ইব্রাহিমের বাবা ইসমাউল বলেন, “আমার তিন ছেলে। আজ আমার বড় ছেলের বিয়ে। ছেলেরা যখন ছোট, তখন থেকেই আমার ইচ্ছে ছিল ছেলেদের ১০-১৫ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে বিয়ে হলে পালকি এবং গরুর গাড়িই ব্যবহার করব (Groom in palki)। আজ আমার ইচ্ছে পূর্ণ হল। আমি চাই ছেলে ও বৌমা এ বার সুখে সংসার করুক।”





