ষাটের দশকের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী ছিলেন তিনি। বাংলা ছবি (Tollywood) দিয়ে কেরিয়ার শুরু করেও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন হিন্দি ছবির দুনিয়াতেও। তবে বাংলা এবং হিন্দি উভয় সিনেমার জগত তাকে ঠিক ব্যবহার করতে পারেনি। অল্প কয়েকটি ছবি করেই হারিয়ে যান সিনেমার জগত থেকে। শেষ জীবন কাটে চরম মানসিক অবসাদে। তিনি অভিনেত্রী সুমিতা সান্যাল (Sumita Sanyal)।
১৯৪৫ সালে ৯ই অক্টোবর সুমিতা সান্যাল এর জন্ম দার্জিলিং এ। বাবা গিরিজা গোলকুন্ডা সান্যাল তার নাম রাখেন মঞ্জুলা। মঞ্জুলার পড়াশোনা কার্শিয়াং এ। সেখানে তার আলাপ হয় শিক্ষিকা লীলা দেসাই এর সঙ্গে। এই লীনা দেসাই মঞ্জুলাকে ‘শুচরিতা’ নাম সুপারিশ করেন। এই নাম নিয়েই পরিচালক বিভূতি লাহার পরিচালনায় খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন ছবিতে অভিনয় করে। প্রথম ছবিতেই তিনি অভিনয় করেন মহানায়ক উত্তম কুমারের বিপরীতে। এরপরেও উত্তম কুমারের সাথে কাজ করেছেন নায়ক, দেওয়া-নেওয়া ছবিতে।

তার অভিনয়ে জীবনের দ্বিতীয় ছবি ছিল আকাশ প্রদীপ। এই ছবির চলাকালীনই ছবির পরিচালক কনক মুখোপাধ্যায় শুচরিতার নাম বদলে করে দেন সুমিতা। এরপর থেকে এই নাম নিয়েই অভিনেত্রীর পথ চলা। ১৯৬৮ সালে আশীর্বাদ ছবিতে অভিনয় করে হিন্দি ছবির জগতে পা রাখেন তিনি। ১৯৭১ এ পরপর তিনটি ছবি আনন্দ, গুড্ডি এবং মেরে আপনে এই তিনটি ছবি দারুন জনপ্রিয় হয়। তিনটি ছবিতেই অভিনেত্রী সুমিতার অভিনয়ের দারুন প্রশংসা হয়। ক্রমেই জনপ্রিয়তা আর শীর্ষে উঠে যান অভিনেত্রী। কুহেলি, সাগিনা মাহাতো, তিন ভুবনের পারে, আপনজন, হারানো প্রেম ইত্যাদি ছবিতে তিনি দাপটের সঙ্গে অভিনয় করে মন জিতে নেন দর্শকদের।
চলচ্চিত্র ছাড়াও থিয়েটারের মঞ্চে অভিনয় করেছেন সুমিতা। তারও অভিনয় দক্ষতা ছিল অসামান্য। তা সত্ত্বেও অল্প কিছু বাংলা এবং হিন্দি ছবি করেই হারিয়ে যান সিনেমার জগৎ থেকে। । তার অভিনীত শেষ ছবি ছিল ১৯৯৬ সালে দ্য পিকক স্প্রিং।ছবির প্রস্তাব পেলেও আর অভিনয় করতে চাননি তিনি। আস্তে আস্তে নিজেকে সরিয়ে নেন অভিনয় জগৎ থেকে। কিন্তু কেন?
স্বামী সুবোধ রায় প্রয়াত হলে সুমিতা নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েন। তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। এরপর নিজের বোন এবং ভগ্নিপতির অকাল মৃত্যুতে একদমই ভেঙে পড়েন সুমিতা সান্যাল। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন তিনি। মানসিক অবসাদ গ্রাস করে তাকে। বেশ কিছু বছর বার্ধক্য জনিত কারণে অসুস্থ থাকার পর ২০১৭ সালে ৯ই জুলাই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হন অভিনেত্রী সুমিতা সান্যাল।





