‘রাজনীতির নেতা মন্ত্রীদের সৌজন্য শিক্ষা দিতে হবে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বারোটা বাজছে’, রাজনীতিবিদদের কটাক্ষ অম্বরীশের, কার দিকে নিশানা?

ইতিমধ্যেই লোকসভা নির্বাচনে দ্বিতীয় দফা সম্পূর্ণ হয়েছে। জোর কদমে চলছে নির্বাচনী প্রচার। ‌ ঘাটাল এলাকায় প্রায়শই দেখা যাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী দেবকে। প্রচারে বেরিয়ে জনসংযোগ করছেন তিনি। মিশে যাচ্ছেন জনতাদের সাথেই। কখনো কাউকে বুকে জড়িয়ে ধরে আবার কখনো ব্যাট হাতে খুদেদের সাথে এক রাউন্ড ক্রিকেট খেলে মন জয় করে নিচ্ছেন দেব। রাজনীতিবিদরা অনেক সময় বাকি সব নেতা মন্ত্রীদের তুলনায় দেবের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন। 

লোকসভা নির্বাচনের আবহে অভিনেতা অম্বরীশ ভট্টাচার্য (Ambarish Bhattacharya) তৃণমূলের বিদায়ী সাংসদ দেবকে বলেছেন, “আমার একটি অনুরোধ রয়েছে তুমি রাজনীতি অভিনয়ে এসব ছেড়ে দিয়ে একটা স্কুল খোলো, সেই স্কুলটাই রাজনীতির নেতা মন্ত্রীদের একটু সৌজন্য শিক্ষা দেওয়া হবে। কিভাবে কথা বলতে হয়। চারিদিকে তারা যেভাবে কথা বলছে, এটা সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমি আর মেনে নিতে পারছি না। এতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বারোটা বাজছে, পাশাপাশি বাংলা ভাষাটার পঞ্চতপ্রাপ্তি ঘটছে‌। এই স্কুলটা অবশ্যই যখন তুমি খুলবে অগ্রাধিকার দিয়েও নেতা মন্ত্রীদের তাতে তারা একটু শিখুন কিভাবে পাবলিক সার্ভেন্ট হিসেবে কিভাবে কথা বলতে হয়, চ্যানেলে বা জনসভায় গিয়ে বা বিরোধীদের এগেনস্টে। যেহেতু তুমি সৌজন্যে জানো বলে আমার মনে হয়েছে। কিছুদিন আগেই দেখেছি তুমি কিভাবে একজনকে জড়িয়ে ধরেছ, জয় শ্রীরাম বলাতে। তাই তোমাকে এটা বলছি”।

ভোটের পরে অধিকাংশ প্রতিনিধিকেই নিজেদের সংসদীয় এলাকায় দেখা যায় না। এই প্রসঙ্গে অভিনেতার (Ambarish Bhattacharya) বক্তব্য, “কোনও প্রতিনিধিই তো ভোটের পরে এলাকায় আসেন না। আমার মনে হয়, প্রত্যেক প্রতিনিধির ভোটের পরে নিয়ম করে প্রতি মাসে নিজেদের অঞ্চলে ঘুরতে আসা উচিত। সেই অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে কথা বলা উচিত। যে ভাবে ভোটের আগে রোদের মধ্যে ভোট চাইতে যান বা ভোট পাওয়ার পরে ধন্যবাদ জানাতে যান, সেখানেই থেমে গেলে চলবে না। তার বাইরেও নিজের অঞ্চলে যাওয়া উচিত।”

গত ২৬ শে এপ্রিল রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে প্রচার করেন দেব। গেছিলেন হুগলির পান্ডুয়াতে। সেখান থেকেই কাঞ্চন কল্যাণ বিতর্ক নিয়ে মন্তব্য করেন দেব। তার কথায়, ‘কল্যাণ দা তাঁর মতো করে কাজ করেছেন। তবে আমি চাই আমার হয়ে কাঞ্চন দা প্রচার করুন। আমি ওঁকে ফোন করে আমার হয়ে প্রচারে আসার জন্য অনুরোধ করেছি। উনি আগামী ৩০ এপ্রিল আমায় সময় দিয়েছেন।’ অর্থাৎ আগামী ৩০ এপ্রিল ঘাটালে যাচ্ছেন কাঞ্চন মল্লিক। সেখানে গিয়ে তিনি দেবের হয়ে প্রচার সারবেন।

একজন বিধায়কের জনপ্রতিনিধি হওয়ার দরুন তাঁর কর্তব্যের মধ্যে পড়ে তিনি সেই দলের প্রার্থীদের হয়ে প্রচার করবেন। সেটা করতে গিয়েই আগের দিন অপমানিত হয়েছেন কাঞ্চন মল্লিক। তবে এদিন দেব যা করলেন তাতে আবারও প্রশংসিত হলেন কাঞ্চন। দেব এদিন জানান, তার দৃঢ় বিশ্বাস কাঞ্চন তার হয়ে প্রচার করলে তার ভোট বাড়বে।

RELATED Articles