টেলিভিশনের জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘কম্পাস’-এর শুটিং করতে গিয়েই বড় বিপদের মুখে পড়লেন অভিনেত্রী অন্বেষা রায় মুখোপাধ্যায়। শুক্রবার নিয়মমাফিক সেটে পৌঁছে কাজ শুরু করেছিলেন তিনি। শুরুতে সব কিছু স্বাভাবিক থাকলেও হঠাৎ করেই শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করেন অভিনেত্রী। শট দেওয়ার মাঝেই তাঁর তীব্র পেটব্যথা শুরু হয় বলে জানা গিয়েছে। প্রথমে উপস্থিত অনেকে বিষয়টি বুঝতে না পারলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে ওঠে। দ্রুত শুটিং বন্ধ করে তাঁকে সেট থেকে সরিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন অভিনেত্রী এবং ধীরে ধীরে সুস্থ হওয়ার চেষ্টা করছেন।
হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর নিজের শারীরিক অবস্থার কথা জানিয়েছেন অন্বেষা। অভিনেত্রীর কথায়, তিনি আগে বুঝতেই পারেননি যে তিনি অন্তঃসত্ত্বা। পরে চিকিৎসকের মাধ্যমে জানতে পারেন প্রায় দু’মাসের গর্ভধারণ হয়েছিল তাঁর। বিষয়টি সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত হওয়ায় তিনি নিয়মিত শুটিং চালিয়ে যাচ্ছিলেন। কাজের ব্যস্ততার মধ্যেও শরীরে বিশেষ কোনও সমস্যা টের পাননি বলেই জানান তিনি। তাই এমন আকস্মিক পরিস্থিতি তৈরি হবে, তা ভাবেননি অভিনেত্রী। হঠাৎ ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় মানসিকভাবেও তিনি ভেঙে পড়েছেন। মা হওয়ার সম্ভাবনা হারানোর কষ্ট এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেননি তিনি।
ঘটনার মুহূর্তের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে অন্বেষা বলেন, শুটিং চলাকালীন আচমকাই তাঁর শরীরে অস্বস্তি শুরু হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায় এবং তখনই গর্ভপাত ঘটে বলে জানান অভিনেত্রী। সেটে উপস্থিত সহকর্মীরা দ্রুত বিষয়টি বুঝতে পেরে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। সময় নষ্ট না করে তাঁকে কাছের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা জরুরি চিকিৎসা শুরু করেন এবং পরে অস্ত্রোপচারও করা হয়। চিকিৎসকদের তৎপরতায় আপাতত বিপদ কেটেছে বলে জানা গিয়েছে। তবে শারীরিক দুর্বলতার পাশাপাশি মানসিক ধাক্কাও এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেননি অন্বেষা।
নিজের শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অভিনেত্রী জানান, পরিস্থিতি আরও ভয়ঙ্কর হতে পারত। চিকিৎসকেরা যথাসাধ্য চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত সন্তানকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, সময়মতো হাসপাতালে না পৌঁছালে তাঁর নিজের জীবনও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারত। এই কঠিন অভিজ্ঞতার কারণে তিনি ভীষণ মানসিক কষ্টের মধ্যে রয়েছেন। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী এখন সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হচ্ছে তাঁকে। হাসপাতালেই চলছে তাঁর চিকিৎসা এবং পর্যবেক্ষণ। পরিবারের সদস্যরাও এই কঠিন সময়ে অভিনেত্রীর পাশে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ১৫ বছরের ‘বঞ্চনা’ শেষ! তৃণমূল আমলে বন্ধ থাকা গণশক্তিতে ফিরল সরকারি বিজ্ঞাপন, শুভেন্দুর প্রথম সিদ্ধান্তেই বাংলার রাজনীতিতে বড় বার্তা বিজেপির!
অভিনেত্রী জানিয়েছেন, এই কঠিন পরিস্থিতিতে তাঁর সহকর্মীরা যথেষ্ট সাহায্য করেছেন। শুটিং ফ্লোরে উপস্থিত সকলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় সময়মতো চিকিৎসা সম্ভব হয়েছে। তাঁর স্বামীও শুরু থেকেই হাসপাতালে পাশে রয়েছেন। অন্বেষা বলেন, সহকর্মীদের সহযোগিতা না পেলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারত। বর্তমানে তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন। যদিও এই মানসিক ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে কিছুটা সময় লাগবে বলেই মনে করছেন ঘনিষ্ঠরা। সুস্থ হওয়ার পর আবারও কাজে ফিরতে চান অভিনেত্রী, তবে আপাতত চিকিৎসা এবং বিশ্রামই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে তাঁর কাছে।





