‘কোনও সনাতনী মমতাকে ভোট দেবে না!’ – হলদিয়ার মঞ্চ থেকে হুঙ্কার শুভেন্দুর

হলদিয়ার রাজনীতির ময়দান ফের উত্তপ্ত। সামনেই লোকসভা নির্বাচন, তার আগে রাজনৈতিক তরজায় সরগরম বাংলা। এবার বিজেপির বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী মঞ্চ থেকে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তার সরকারের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ তুলে রাজ্যকে বিজেপির হাতে তুলে দেওয়ার ডাক দিলেন তিনি। শুভেন্দুর দাবি, সাধারণ মানুষ এবার প্রস্তুত, ২০২৪-এ মোদীর হাতেই বাংলা তুলে দেওয়া হবে।

রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক তরজা যেন চরমে পৌঁছেছে। সাম্প্রতিক কালে সরস্বতী পুজো, মহাকুম্ভ বা রাম নবমী নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে। এ নিয়ে বিজেপি বারবার শাসকদলের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছে। শুভেন্দু এবার সেই বিষয়গুলোকেই হাতিয়ার করলেন। পাশাপাশি রাজ্যের নিয়োগ দুর্নীতি, শিল্পের অভাব, এবং সংখ্যালঘু তোষণের অভিযোগ এনে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করেন।

এদিনের সভা থেকে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, “কোনও সনাতনী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভোট দিতে পারে না, পারে না, পারে না… সরস্বতী পুজো, মহকুম্ভকে ‘মৃত্যু কুম্ভ’ বলার পর কেউ ভোট দেবে না। মানুষ প্রস্তুত, এই রাজ্য মোদীজির হাতে তুলে দেওয়ার জন্য।” পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, বাংলার হিন্দু জনসংখ্যা কমে আসছে। “৮৫ শতাংশ থেকে তা আজ ৬৭ শতাংশে নেমে এসেছে। এখনও যদি ঐক্যবদ্ধ না হন, তাহলে এই বাংলাও একদিন বাংলাদেশ হয়ে যাবে,” দাবি শুভেন্দুর। এখানেই থামেননি তিনি। শুভেন্দুর অভিযোগ, ২৬ তারিখ তৃণমূল ভোটে জেতার জন্য সংখ্যালঘু ভোটকে কাজে লাগিয়ে, হিন্দু ভোট বিভক্ত করার চেষ্টা করবে। তাই তিনি অনুরোধ করেন, জাতপাতের রাজনীতি দূরে রেখে সবাইকে বিজেপিকে ভোট দিতে।

শুধু ধর্মীয় বিষয় নয়, এদিনের সভা থেকে শিল্প ও কর্মসংস্থান নিয়েও তৃণমূলকে একহাত নেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, “হলদিয়াকে শুকিয়ে দিয়েছে ওরা। কোনও নিয়োগ নেই। যুবকদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। টাটাকে হাতে পায়ে ধরে ফিরিয়ে আনতে হবে।” পাশাপাশি তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে মায়েদের ৩০০০ টাকা দেওয়া হবে, ২০০ ইউনিট বিদ্যুৎ ফ্রি হবে এবং বছরে নিয়ম করে এসএসসি নিয়োগ হবে।
শুভেন্দু আরও দাবি করেন, “আমাদের বন্ধু মুসলিমরা গায়ে মাখবেন না। আমি ভারতীয় মুসলিমদের বলছি না, রোহিঙ্গাদের বলছি।” তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল সরকার রাজ্যের নির্দিষ্ট একটি সম্প্রদায়কে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে।

আরও পড়ুনঃ হাওড়ার বেলগাছিয়ায় রাতারাতি গৃহহীন ১৫ হাজার মানুষ! প্রশাসনের গাফিলতিতেই সর্বনাশ?

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে এসে শুভেন্দুর সাফ কথা, “শুধু বাড়ি থেকে বেরবেন, তারপর কী করতে হবে আপনারা জানেন।” তিনি দাবি করেন, তৃণমূলের অনেক নেতা-নেত্রী গোপনে বিজেপিকে সমর্থন করছেন। এমনকি, কিছু পুলিশ কর্তা বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে ইঙ্গিত দেন তিনি। শুভেন্দুর দাবি, “তৃণমূল সরকার আমার বিরুদ্ধে কিছু লোককে লেলিয়ে দিয়েছে। কিন্তু আমি ভয় পাই না। আমরা হাইকোর্টকে সম্মান জানাই, তবে সবকিছু জানি। বিজেপি আসবে, তারপর ২৫ বছর আমাদের আন্ডারে থাকতে হবে।”
এক কথায়, এদিন হলদিয়ার সভা থেকে শুভেন্দুর চ্যালেঞ্জ স্পষ্ট— এবার উল্টে দেবেন তাঁরা। লোকসভা নির্বাচনের আগে এই বক্তব্য কতটা প্রভাব ফেলবে, তা সময় বলবে। তবে রাজনীতির উত্তাপ যে আরও বাড়বে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles