সাধারণ মানুষের কাছে কি ভগবান তুল্য হতে পারেন কোন অভিনেতা! তা নিয়ে অনেকেই অনেক সময় কথা বলেছেন। তবে বিভিন্ন সময় বহু উদাহরণ পাওয়া গেছে যেখানে অভিনেতা অভিনেত্রীকে ভগবানের আসনে বসিয়ে পুজো করেন মানুষেরা। তেমনই একজন সঞ্জয় পাটোদিয়া। দক্ষিণ কলকাতার বন্ডেল রোডে থাকেন সঞ্জয় পাটোদিয়া। তিনি অমিতাভ বচ্চনের (Amitabh Bachchan) বড়ো ভক্ত। এত বড় ভক্ত সচরাচর খুঁজে পাওয়া যায়না। এই ভক্ত ভগবানের আসনে রেখেছেন অমিতাভ বচ্চনকে(Amitabh Bachchan)। অমিতাভ বচ্চনের বয়স হয়েছে প্রায় ৮১ বছর। এই বয়সেও নিজেকে সরিয়ে রাখেননি কাজ থেকে। বয়েসের তোয়াক্কা না করে কাজ করে বেড়াচ্ছেন শাহেনশাহ। যারা বিগবিকে ভগবান তুল্য মনে করেন তাদের কাছে বিষয়টি দারুণ। সঞ্জয় পাটোদিয়া এবং তাঁর পরিবারের কাছে বিগবির কাজ করাটা গর্বের।
বন্ডেল রোডে সঞ্জয়ের বাড়িতে ঢুকলেই দেখা যাবে নীচের তলায় প্রত্যেকটি দেওয়ালে টাঙানো অমিতাভের বড়ো বড়ো ছবি। সঞ্জয়ের বাড়ির মধ্যেই রয়েছে মন্দির। সেখানে অধিষ্ঠিত স্বয়ং বিগ বি। যেখানে সিংহাসনে বসে আছেন অমিতাভ বচ্চন। নিত্যদিন পুজো হয় সেই মন্দিরে। নিয়ম করে দুবেলা অমিতাভ-চালিসা পাঠ করা হয়।
সঞ্জয়ের একটি ঘরে রয়েছে সিংহাসন। সিংহাসনেই অধিষ্ঠিত অমিতাভের বিরাট মূর্তি। নীল রঙের স্যুট-প্যান্ট পরা সেই মূর্তিতে পরানো মালা। তাঁর চারপাশে পুজোর সামগ্রী, লম্বা প্রদীপ, কাসর, ঘণ্টা। প্রতিদিন তিন বেলা নিজের হাতে বিগ বি-কে পুজো করেন সঞ্জয়। অমিতাভের জন্মদিন সঞ্জয়ের কাছে বড় উৎসব। বিগ বি-র জন্মদিনে উৎসব হয় সঞ্জয়ের বাড়ি। সমাজ সেবার কাজেও নিযুক্ত সঞ্জয়বাবু।
সঞ্জয় বলেছেন, “জানেন তো, আমাদের ঈশ্বর অমিতাভ বচ্চন মনে করেন, জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর। অর্থাৎ, জীব সেবার মধ্যেই যে শিব সেবা, বিশ্বাস করি আমরা। অমিতজির প্রত্যেক জন্মদিনে গরিব মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়াই। তাঁদের হাতে তুলে দিই কিছু সাহায্য। এটা অমিতাভ বচ্চনেরই দেখানো পথ। সেই পথেই চলছি আমরা।”
অমিতাভ জানেন তাঁর এই পাগল ভক্তের কথা। অমিতাভের সাথে দেখা করার প্রসঙ্গে সঞ্জয় পটোদিয়া জানান, “আমি মুম্বইয়ে গিয়ে বহুবার দেখা করে এসেছি অমিতজির সঙ্গে। তিনি আমাদের দেখতে পেয়ে খুবই খুশি হন। আমার ছেলে এবং মেয়ের নামকরণও করেছিলেন তিনি। একটা কথা তিনি বারবারই বলেন, ‘আমার জয় গান করবে না। তোমরা যদি অভাবীদের পাশে গিয়ে দাঁড়াও, তাতেই আমি সবচেয়ে বেশি খুশি হব।'”





