‘যে ক্লাবগুলোকে ভোট কেনার জন্য রেখেছেন, তাদের গাছ লাগাতে বলুন, না করলে জেলে পাঠান’, মুখ্যমন্ত্রীকে সবুজায়নের বার্তা চন্দন সেনের

Chandan Sen Talk about his Political View: কখনো তিনি মিছিলে হাটা সাধারণ কর্মী, কখনো তিনি নাট্যকর্মী, কখনো তিনি অভিনেতা আবার কখনো তিনি ছোট পর্দার কাছের মানুষ। তিনি চন্দন সেন (Chandan Sen)। তার কলম সকলকে ভয় পাওয়ায়। কখনো নাটকের মঞ্চে কখনো বুদ্ধিজীবীদের মিছিলে তিনি প্রতিবাদের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছেন। বাক স্বাধীনতায় বিশ্বাসী তিনি। চলচ্চিত্র তাকে গ্রাস করতে পারেননি তবে এত বছর পর মনের মত চরিত্র পেলেন তিনি। মারণ রোগের সঙ্গে লড়াই করে জয়ী হয়েছেন এই অভিনেতা (Chandan Sen Talk about his Political View)। সাক্ষাৎকারে চন্দন সেন বলছেন, “যতদিন আছি যে কাজগুলো করার ইচ্ছা সে কাজগুলো করে যেতে চাই। অনেক দেরিতে বুঝেছি পড়াশোনা করিনি। সেই পড়াশোনায় মন দিয়েছি এখন। জঙ্গলের নেশা লেগেছে, তিনমাসে একবার যেতে হয়”।

রাজনৈতিক ছবি যেখানে স্পষ্ট বক্তব্য থাকবে তেমন ছবি তৈরি হয় না। এ প্রসঙ্গে চন্দন সেন (Chandan Sen) জানাচ্ছেন, “প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক ছবি যদি করতে হয়, আর যদি প্রযোজক পেতে হয় তবে প্রযোজকের ভাবনা থাকতে হবে। আর এই ধরনের সময় সবচেয়ে যেটি বেশি হয় সেটা হচ্ছে প্রতিস্পর্ধী সংস্কৃতি। যখন অত্যাচার চূড়ান্ত মাত্রায় ওঠে, তখন প্রতিস্পর্ধার বিচ্ছুরণ ঘটে। তার জন্য যে সমস্ত ভোগান্তি রয়েছে সেটার জন্য তৈরি থাকতে হবে। এসব ছবি তৈরি করতে গিয়ে এত মিথ্যে দেখানো হয়েছে আমি বেশ অখুশি । সুদীপ্তর (কেরালা স্টোরি) যা ছিল তার জন্য দরকার ছিল না বিজেপির হয়ে ছবি বানানোর‌। বিবেককে আমি পাত্তা দিই না” (Chandan Sen Talk about his Political View)

এখন বাক স্বাধীনতার লোপ পাচ্ছে, এই প্রসঙ্গে চন্দন সেন (Chandan Sen) বলেন, “রাজ্য এবং রাষ্ট্র যদি এতটাই স্বৈরাচারী হয়, অগণতান্ত্রিক হয় যাকে বলে পুলিশ স্টেট হয়, তাদের হাতে যদি এই পরিমাণ গুন্ডা বাহিনী থাকে যাদের লেলিয়ে দেওয়া যায়। এদের ৫ কেজি চাল গম আটা দিয়ে যা খুশি করানো যায়। ২০০ টাকা দিয়ে যা খুশি করানো যায়। এরম বাহিনী রয়েছে এদেশে। তার সাথে কোন চাকরি, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নেই। চারপাশে কত মদের দোকান হচ্ছে, স্পা হচ্ছে, মল হচ্ছে। উল্টোদিকে ৮২০০ স্কুল বন্ধ হচ্ছে তাহলে কোথায় বাস করছি আমরা। তাহলে দুর্নীতি তো হবেই। এই মুহূর্তে ভারতে যদি আমরা ৬ কোটি ৬৮ লাখ গাছ লাগাই আমাদের টেম্পারেচার ৩ ডিগ্রী কমে যাবে। আমার তেঁতুল গাছ আমি কাটবো তোর বাবার কি? এমনকি গাছ কেটে পয়সা হবে আমার” (Chandan Sen Talk about his Political View)

কখনো কথা বলতে গিয়ে এটা বলব না এমন মনে হয়েছে চন্দন সেনের (Chandan Sen), উত্তরে তিনি জানান, “আমার কাজ অন্যায়ের বিরোধিতা করা। সেটা নাগরিক হিসেবে আমার দায়িত্ব। ওটা আমাদের প্রাথমিক কাজ শিল্পী হিসেবে। ২০০৮ সাল থেকে যে চেহারাটা পশ্চিমবঙ্গের বুকে শুরু হল তখন আমরা ১০০ বছর পিছিয়ে গেলাম। শেষের দিকে এসে মনে হয়েছিল বামফ্রন্ট সরকার সবচেয়ে খারাপ সরকার। কিন্তু আমি এখনের পরিস্থিতি কল্পনা করিনি। বামফ্রন্ট আমলে বলতে দিত ওরা তর্ক করত। আর এখন আমি মেডলি বাঙালি তো একটা চরিত্র করেছিলাম যে কথা বলার আগেই ঘুষি মেরে দেয়”। ‌

চন্দন সেন (Chandan Sen) মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর কাছে একটি আর্জি জানিয়েছেন, ‌বলেছেন, “আপনি যে কোটি কোটি টাকা খরচা করে ক্লাবগুলোকে ভোট কেনার জন্য রাখেন এদের বাধ্য করুন নিজের এলাকায় অন্তত ৩০ হাজার গাছ লাগাও, না বড়ো করো, তাহলে জেলে পাঠাও”।

RELATED Articles