২০১৫ সালে বলিউড অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন এমন একটি পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, যা শুধু তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের জন্যই নয়, দেশের মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতার ইতিহাসেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই সময় তিনি প্রথমবারের মতো টেলিভিশনের পর্দায় বসে প্রকাশ্যে জানান, কীভাবে দীর্ঘ সময় ধরে তিনি বিষণ্নতার সঙ্গে লড়াই করেছিলেন। এই সাহসী স্বীকারোক্তি তখন অনেক মানুষের কাছে বড় বার্তা হয়ে দাঁড়ায়। দীপিকা এরপর থেকে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে নিয়মিত কাজ করছেন।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে দীপিকার বাবা, প্রখ্যাত ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় প্রকাশ পাড়ুকোন, মেয়ের সেই সিদ্ধান্তের পেছনের গল্প তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, দীপিকা যখন মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি প্রকাশ্যে বলার চিন্তা করছিলেন, তখন পুরো পরিবার তার পাশে দাঁড়িয়েছিল। তাদের বিশ্বাস ছিল যে একজন জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে দীপিকার অভিজ্ঞতা অনেক মানুষের জন্য প্রেরণার উৎস হতে পারে। প্রকাশ পাড়ুকোন বলেন, “মানুষের উপকারে আসে এমন কাজ করার জন্য লজ্জা বা দ্বিধা হওয়ার কোনও কারণ নেই। মানসিক স্বাস্থ্যও শারীরিক অসুস্থতার মতোই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সমাজে এখনও এই বিষয় নিয়ে অনেক ভুল ধারণা ও সংকোচ রয়েছে।”
প্রকাশ আরও জানান, এক বন্ধুর অকাল মৃত্যুর ঘটনা দীপিকাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। এই অভিজ্ঞতার পর তিনি উপলব্ধি করেন যে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে বৃহৎ পরিসরে কাজ করা খুব জরুরি। সেই ভাবনা থেকেই জন্ম নেয় ‘দ্য লাইভ লাভ লাফ ফাউন্ডেশন’। ফাউন্ডেশনটি গত এক দশক ধরে অসংখ্য মানুষের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রকাশ বলেন, “আমাদের মূল উদ্দেশ্য কোনও মতাদর্শ প্রচার করা নয়। আমরা চাই মানুষ বুঝুক যে মানসিক সমস্যা চিকিৎসাযোগ্য এবং সময়মতো সাহায্য নিলে তা সহজেই সমাধান সম্ভব।”
যদিও এই পথ মোটেই সহজ ছিল না। দীপিকা নিজেও বহুবার বলেছেন, প্রথমে তার এই উদ্যোগ নিয়ে নানা প্রশ্ন ও সমালোচনা এসেছে। কেউ কেউ এটিকে ‘প্রচারের কৌশল’ বলেও কটাক্ষ করেছিলেন। তবুও তিনি সেই বিতর্কে মনোযোগ না দিয়ে নিজের লক্ষ্যেই অটল ছিলেন। দীপিকার কথায়, “সমালোচনা ছিল, সন্দেহও ছিল। কিন্তু আমরা জানতাম আমাদের কাজটা কেন করছি। তাই মাথা নিচু করে শুধু কাজ চালিয়ে গিয়েছি।”
আরও পড়ুনঃ “টলিউডের হৃত গৌরব পুনরুদ্ধারই লক্ষ্য, আমি বার্তাবাহ মাত্র…” কলাকুশলীদের দোটানা ও টলিউডে SIR প্রসঙ্গে, শুভেন্দু অধিকারীর সিদ্ধান্ত নিয়ে কী জানালেন রুদ্রনীল ঘোষ?
এক দশক পেরিয়ে ফিরে তাকালে দেখা যায়, দীপিকার সেই সাহসী উদ্যোগ শুধু অসংখ্য মানুষকে মানসিক শক্তি জোগায়নি, বরং ভারতে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে খোলামেলা আলোচনা শুরু করতেও বড় অবদান রেখেছে। এই প্রচেষ্টা আজও মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে প্রেরণার উৎস হয়ে আছে। মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব নিয়ে জনসাধারণের ভাবনায় পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে দীপিকার ভূমিকা অনস্বীকার্য।






