গত দু’সপ্তাহের মধ্যে রাজ্যে পরপর তিনটে খুন, গণহত্যা। এসবের জেরে গোটা বাংলা এখন উত্তপ্ত। এই ঘটনায় বিরোধীরা বলছেন, রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা নেই। অন্যদিকে শাসকদলের দাবী, রাজ্যকে বদনাম করার জন্য কুৎসা রটানো হচ্ছে।
গত সোমবার সন্ধ্যায় বীরভূমের রামপুরহাটে বগটুই গ্রামে খুন হন তৃণমূল নেতা ভাদু শেখ। এরপরই সেখানে শুরু হয় তৃণমূলের তাণ্ডব। রাতভর গ্রামের একের পর কে বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এর জেরে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় ১০ জনের। যদিও স্থানীয়দের দাবী, আরও বেশিজনের মৃত্যু হয়েছে কিন্তু রাতেই অনেক দেহ লোপাট করে দেওয়া হচ্ছে।
এই ঘটনায় শাসকদলের নেতারা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। রাজ্য সরকারের তরফে তদন্তের জন্য গঠন করা হয় সিট। সিট স্বীকার করেছে যে ওই বাড়িগুলিতে আগুন লাগানো হয়েছে অর্থাৎ ইচ্ছাকৃতভাবেই খুন করা হয়েছে।
এই ঘটনায় পরিচালক অনীক দত্ত ফেসবুকে নিজের প্রতিক্রিয়া দেন। পোস্টে তিনি লেখেন, “পৃথিবীতে বাংলাই বোধহয় সেই জায়গা যেখানে বুদ্ধিজীবী শব্দটি নোংরা, প্রায় গালাগালির সমান”। এক সংবাদমাধ্যমের তরফে তাঁকে যোগাযোগ করে এই ঘটনা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তাঁর জবাব, “আমার মনে হয়, এই ঘটনা কলকাতায় হলেও বুদ্ধিজীবীরা রাস্তায় নামতেন না”। তিনি এও বলেন যে এই রাজ্যে মানুষ বুদ্ধিজীবী শব্দটাকে বিশেষ পাত্তা দেন না।
এই একই বিষয়ে ওই সংবাদমাধ্যমের তরফেই রাজ্যের কিছু বুদ্ধিজীবীদের প্রশ্ন করা হয়। এই বিষয়ে কবীর সুমন জানান, “মার্জনা করবেন। আমি কোনও ব্যাপারে কোনও মত দেব না। আপনার মঙ্গল হোক। নমস্কার নেবেন”।
শুভাপ্রসন্নের কথায়, “আমি তো বাইরে আছি। আমি জিনিসটা জানি না গো। সারাদিন মিটিংয়ে রয়েছি। জানলে নিশ্চয়ই দিতাম”।
সুবোধ সরকার জানান যে তিনি এখন কবিতা উৎসবে। বিষয়টা তিনি জানেন না। তাঁকে সমস্ত ঘটনা বলা হলে তাঁর উত্তর, “বাড়ি ফিরতে ফিরতে রাত হয়ে যাবে। আমাকে বিষয়টা দেখতে হবে”। এরপর ফোন কেটে দেন তিনি। আবার জুন মালিয়া জানান, “আমি শুটিংয়ে ব্যস্ত। এখন কথা বললে ফ্লোরে বকা দেবে”।
এই বিষয়ে দেবের জবাব, “আমার এ বিষয়ে কিছু বলার নেই”। কাঞ্চন মল্লিকের কথায়, “আমি এই মুহূর্তে শটের মাঝে রয়েছি, বিশ্বাস করুন। ফোনটা ধরেছি বলে শুটিংটাই বন্ধ হয়ে আছে। পাশে লোক দাঁড়িয়ে। আমি একটু পরে আপনার সঙ্গে কথা বলছি”।
রামপুরহাট কাণ্ড নিয়ে তৃণা সাহা বলেন, “একবিংশ শতাব্দীতেও যে এই ধরনের ঘটনা ঘটছে, ভাবতেই আমার অবাক লাগছে। এখনও এরকম পলিটিক্যাল ক্রাইসিসের মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে আমাদের। এখনও যে এরকম ঘটতে পারে, ভাবতে পারি না। এ দিকে মানুষ কত আধুনিক। দেশও চালায় তারা। আসলে সবচেয়ে বড় দোষী মানুষের মস্তিষ্ক। মানুষ কেন এগুলো করছে, কেন মারছে, নিজেরাই বুঝতে পারছে না”।
বিজেপি নেতা রুদ্রনীল ঘোষের কথায়, “আমি ভীত। আমি শিহরিত। ঘটনার কথা ভাবলেই বারেবারে চমকে উঠছি। রাতের অন্ধকারে এমন ভয়াবহ ঘটনা আমারই বাংলার বুকে! এ কী অরাজকতা। এ কী অন্ধকার সময়”।
এই বিষয় নিয়ে গৌতম ঘোষ জানান, “ভয়ঙ্কর ঘটনা। আমার মনে হয়, হিংসা-প্রতিহিংসা আমাদের কিছুতেই ছাড়ছে না। দীর্ঘদিন ধরেই চলছে। অনেক সময়ই লক্ষ্য করেছি এবং এক্ষেত্রেও মনে হল দ্বন্দ্ব কিংবা গোষ্ঠীদ্বন্দ্বর কারণেই এরকমটা হতে পারে। সব সময় যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে হবে, তেমনটা কিন্তু না-ও হতে পারে। রাজনৈতিক হিংসা থাকেই। এছাড়াও, এই ব্যক্তিগত কিংবা গোষ্ঠীদ্বন্দ্বও এরকম জায়গায় চলে গিয়েছে। যেটা বুঝলাম, একমাত্র প্রশাসনকেই কঠোরভাবে সমাধান করতে হবে, যাতে এই ধরনের কাণ্ড আর না ঘটে”।





