শ্যামপুর থেকে বিজেপির প্রার্থী হিরণ চট্টোপাধ্যায় সম্প্রতি মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর নতুন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এলেন। মনোনয়নপত্রে স্ত্রীর নামের পাশে “সেপারেটেড” উল্লেখ থাকায় অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানান। চলতি বছরের শুরুতেই হিরণ গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করেছিলেন ঋতিকা নামের মহিলার সঙ্গে। হিরণ নিজেই বেনারসের ঘাটে গাঁটছড়া বাঁধার ছবি শেয়ার করেছিলেন, যা প্রকাশের পরই অনিন্দিতা জানান, তারা এখনও আইনত বিচ্ছিন্ন হননি।
অনিন্দিতা অভিযোগ করেন, তিনি হিরণের দ্বিতীয় বিয়ে বা নতুন সম্পর্কের ব্যাপারে আগে কিছু জানতেন না। হিরণের পোস্টের মাধ্যমে এই তথ্য জানতে পেরে তিনি আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নেন। মনোনয়নপত্রে তার নাম থাকার সঙ্গে “সেপারেটেড” লেখা থাকায় তিনি বলেন, এটি সম্পূর্ণ ভুল এবং আইনগতভাবে কোনো গুরুত্ব বহন করে না। অনিন্দিতা উল্লেখ করেন, মুখে বা মনোনয়নপত্রে লেখা হলেই সেটা বৈধ হয় না, নোটিশ দেওয়া ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ছাড়া ‘সেপারেটেড’ শব্দ ব্যবহার করা যায় না।
তিনি আরও বলেন, “আমাদের সমাজ ও আইন এক নয়। আইনের দিক থেকে বিবাহিত থাকা অবস্থায় অন্য কোনো সম্পর্ক স্বীকৃত নয়, কিন্তু হিরণ দীর্ঘদিন ধরে অন্য মহিলার সঙ্গে রয়েছেন। এটি স্পষ্টভাবে আইনবিরুদ্ধ।” অনিন্দিতা জানান, এই পরিস্থিতিতে তার মেয়ে ও তিনি মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে আছেন, কিন্তু সমাজে তারা লাঞ্ছিত হচ্ছেন। তিনি দাবি করেন, অপরাধীর শাস্তি না পাওয়া এবং ভুক্তভোগীর কষ্ট বোঝার কেউ নেই।
অনিন্দিতা জানিয়েছেন, আগে একবার তিনি আইনের দ্বারস্থ হয়েছিলেন এবং এবারও প্রয়োজন হলে পুনরায় আইনি পদক্ষেপ নেবেন। তিনি স্পষ্ট করেন, মিথ্যা বলার কোনো কারণ নেই এবং তিনি কখনও অসম্মানজনক জীবন যাপন করেননি। তার মন্তব্য নতুন বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে। রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত জীবন এখন নজরের কেন্দ্রবিন্দুতে।
আরও পড়ুনঃ “তৃণমূলের নির্মম সরকার শুধু অনুপ্রবেশ বাড়িয়েছে, নকল নথি বানিয়েছে, যুবসমাজকে ডবল ধোঁকা দিয়েছে.. যা সহজে পূরণ হওয়ার নয়”, হলদিয়া থেকে বিস্ফো*রক অভিযোগ নরেন্দ্র মোদির! তবে কি বাংলায় সত্যিই ভয় আর দুর্নীতির রাজ? ডবল ইঞ্জিন সরকার ও ৬ গ্যারান্টি দিয়ে কী বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী?
এই ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, হিরণের মনোনয়নপত্রে থাকা তথ্য এবং অনিন্দিতার প্রতিক্রিয়া রাজনৈতিকভাবে প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, আইনগত দিক থেকে এই বিষয়টি এখনও পরিষ্কার নয়। ভবিষ্যতে অনিন্দিতার পদক্ষেপ এবং হিরণের প্রতিক্রিয়া কেমন হবে, তা জনগণের নজরেই থাকবে।





