বাংলা চলচ্চিত্র জগতে আমরা এমন কিছু মানুষকে দেখে থাকি যাদের অভিনয় আমাদেরকে মাত করিয়ে দেয়। তাদের কথাবার্তা, চরিত্রের মধ্যে পুরো ঢুকে পড়া, কমিক সেন্স সবকিছু মিলিয়ে যেন এক অদ্ভুত রূপকথার জগৎ সৃষ্টি হয়।
সে রকমই একজন অভিনেতা হলেন পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে চেনেন না এরকম বাঙালি খুব কম আছেন। কিন্তু জানেন কি তিনি নিজের অভিনয় কেরিয়ার শুরু করেছিলেন ৬০ বছর বয়সের পর থেকে?পৃথিবীর ইতিহাসে খুব কম ব্যক্তি আছে যিনি ৬০ বছর বয়সের পর নিজের কেরিয়ার শুরু করে চূড়ান্ত সাফল্য পান, পরাণ বাবু তাঁদের মধ্যে একজন।
আজ তাঁর ৮১তম জন্মদিন। ১৯৪০ সালের ১৮ই অক্টোবর বাংলাদেশের যশোর জেলায় তাঁর জন্ম। তাঁর ছোটবেলার জীবন কাহিনী খুব করুণ যা শুনলে আপনার চোখে জল চলে আসবে। খুব অল্প বয়সেই পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর মাকে হারান। সেই শোক ভুলতে না পেরে নিরুদ্দেশ হয়ে যান বাবা। খুব ছোট বয়সেই বাবা মাকে হারিয়ে অথৈ জলে পড়ে যান পরাণ বাবু।
তাঁর বিপদের খবর পেয়ে ছুটে আসেন তাঁর পিসি আর তাঁকে নিয়ে চলে আসেন নিজের বাড়ি দমদমে। সেখানেই কষ্টেসৃষ্টে মানুষ হতে থাকেন পরাণ বাবু। সিটি কলেজ থেকে পড়াশোনা করার পর তিনি সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন। তবে সেই সঙ্গে ছিল তার অভিনয়ের নেশা। এরপর ধীরে ধীরে গণনাট্য আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন তিনি।
পরে তিনি পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন এবং তার স্ত্রী শিক্ষকতা করতেন। তবুও তাঁদের সংসারের অভাব ঘোচেনি।চূড়ান্ত কষ্টের মধ্যে কেটেছে দিন কারণ গণনাট্য আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে জেলায় জেলায় ঘুরে বেড়াতে হতো পরাণ বাবুকে তার জন্য তাঁর অফিস কামাই যেত এবং মাইনেও ঠিকমতো তিনি পেতেন না।
২০০০ সালে তিনি চাকরি থেকে অবসর নেন এবং তার কিছুদিন আগেই সত্যজিৎ রায়ের ছেলে সন্দীপ রায়ের চোখে পড়েন তিনি এবং সাধন বাবুর সন্দেহ গল্পের জন্য তাঁকে মূল চরিত্রে বাছা হয়। এরপর জন্মভূমি সিরিয়ালে তাঁর অভিনয় তাকে তুমুল জনপ্রিয়তা দেয়।
২০০০-২০১০ সাল পর্যন্ত তার পঁয়ত্রিশটি সিনেমাতে কাজ করা হয়ে গিয়েছিল এবং তার তুখোড় কমিক সেন্স তাকে বাংলার অন্যতম জনপ্রিয় কৌতুকাভিনেতা করে তুলেছিল। একের পর এক বাংলা সিনেমায় তিনি নিজের জাত চিনিয়েছেন এবং এখনও চিনিয়ে যাচ্ছেন। তার জন্মদিনে আমাদের টিমের পক্ষ থেকে রইল আন্তরিক শ্রদ্ধা।






