চোখের সামনে দেখেছিলেন মায়ের মৃত্যু, এরপর থেকেই আর লাইমলাইটে আসেননি, কেমন আছেন এখন মহুয়া রায়চৌধুরীর ছেলে তমাল চক্রবর্তী?

১৯৭৭ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর ছিল একটি ঐতিহাসিক দিন কলকাতায় এসেছিলেন পেলে। আর সেদিনই প্রচন্ড প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন মহুয়া রায়চৌধুরী (Mahua Roy Chowdhury)। সেদিন এক ফুটফুটে শিশুর জন্ম দিলেন মহুয়া। সেদিনটির জন্য ভালোবেসে ছেলের নাম দিয়েছিলেন গোলা। ভালো নাম তমাল চক্রবর্তী।

১৯৭৬ সালের ২রা মে অভিনেতা তিলক চক্রবর্তীকে বিয়ে করেন মহুয়া (Mahua Roy Chowdhury)। তিলক প্রথমে শিশু শিল্পী হয়ে কাজ করেছেন। তারপরে কিশোর কন্ঠী হয়ে প্রচুর স্টেজ শো করেছেন। একসঙ্গে পারফরম্যান্স করতে করতে প্রেমের সূত্রপাত হয়। মহুয়া (Mahua Roy Chowdhury) নায়িকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরেও প্রথম জীবনের প্রেম ভোলেননি। বিয়ে করেছিলেন তিলক চক্রবর্তীকে। তখন তিলক ব্যাংকে কাজ করেন। বিয়ের পর জীবন কঠিন হয়ে উঠেছিল। প্রচন্ড সন্দেহ করত স্বামী। এই নিয়ে রোজকার অশান্তি লেগেই ছিল।

খুব ছোট থেকেই গোলা বাবা মায়ের মধ্যে ঝামেলা দেখেছে। সে ঝগড়া একদিন শেষ হল কিন্তু যখন শেষ হলো তখন সবই শেষ। ১৯৮৫ সালের ২২শে জুলাইয়ের মধ্যরাতে নিজের বাড়িতে গায়ে আগুন লাগে মহুয়ার (Mahua Roy Chowdhury)। দেহের ৮০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। ‌ এক সপ্তাহ ধরে হাসপাতালে জীবনযুদ্ধে লড়াই করার পর হার মানতে হয় তাকে। মারা যাওয়ার আগে প্রিয় বান্ধবী রত্না ঘোষালকে বলে গিয়েছিলেন গোলা রইল ওকে দেখে রাখিস। চোখের সামনে তীব্র যন্ত্রণায় মাকে মারা যেতে দেখে গোলা।

তখন থেকেই মনের দিক থেকে শক্ত হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। জানতেন জীবনে একা বড় হতে হবে লড়াই করে টিকে থাকতে হবে। আর কোনদিন জন্মদিন পালন করেনি তমাল। তার জন্মদিন ঘটনাচক্রে তার মায়েরও জন্মদিন। প্রত্যেক বছর ২৪শে সেপ্টেম্বর মাকে স্মরণ করেন তিনি। ‌মায়ের (Mahua Roy Chowdhury) মৃত্যুর দিন পালন করেন না।

মহুয়া রায়চৌধুরীর (Mahua Roy Chowdhury) মৃত্যুর পর তার বেশ কিছু ছবি মুক্তি পায়। যেমন অনুরাগের ছোঁয়া,আশীর্বাদ, প্রেম ও পাপ, অভিরাম, আবির, কেনারাম বেচারাম। তার মৃত্যুতে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল গোটা টলি ইন্ডাস্ট্রি। থেমে গিয়েছিল তমাল ও তিলক চক্রবর্তীর জীবন। মহুয়ার মৃত্যুর পর আর সিনে জগতের সাথে কোন সম্পর্ক রাখেননি বাবা-ছেলে। চাকরি করে কষ্ট করেই ছেলেকে মানুষ করেন তিলক চক্রবর্তী। তিনি আর বিয়ে করেননি।

তমাল অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে ডিগ্রী নিয়েছে। প্রথম দিকে পুনের অটোমোবাইল ফার্মে কাজও করেছিলেন। তবে চাকরি ভালো লাগত না তার। এত শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও প্রথাগত জীবন তার মোটেই পছন্দ ছিল না। রক্তে ছিল শিল্পকলা। মায়ের (Mahua Roy Chowdhury) মত সিনে জগতে পা না রাখলেও একজন গিটারিস্ট হিসেবে কাজ করেছেন। ৯০ দশকের সময় ব্র্যান্ডের রমরমা ছিল।

তখন নিজেদের বন্ধু-বান্ধবদের শহর নামে একটি ব্যান্ড স্থাপন করেন তিনি। যারা অনেক গান এখনো হিট। তিনি ছিলেন মিউজিক অ্যারেঞ্জার পাশাপাশি সুরও করতেন। একাধিক টিভি শো ও সিনেমার গান ও তৈরি করেছিলেন। শহর ব্যান্ডে অনিন্দ্য বসুর গাওয়া তোমায় ছুঁতে চাওয়ার মুহূর্ত এই গানের তিনিই ছিলেন প্রথম মিউজিক ডিরেক্টর। অ্যালবামের নাম ছিল যখন। বাংলাদেশে ছবি রাত জাগা পাখির সংগীত পরিচালক ছিলেন তিনি। এ তুমি কেমন তুমি গানের সুর দিয়েছিলেন তমাল। তমাল বর্তমানে বিবাহিত। একটি ফুটফুটে সন্তান রয়েছে।

RELATED Articles