‘দলে নেতৃত্ব দেওয়া আর সরকার চালানো এক নয়, সেটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বোঝেন না, উনি এখনও ফ্যান্টাসির জগতেই রয়েছেন’, বিস্ফোরক রূপা

বিভিন্ন সময় এই রাজনীতির মুখ হিসেবে দেখা যেত রুপা ভট্টাচার্যকে। ‌ ২০২১ সালে সিপিএম পরিচালিত যাদবপুর শ্রমজীবী ক্যান্টিনের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ায় বহু কটাক্ষ শুনতে হয় তাকে। তার জেরেই রাজনীতি ছাড়েন অভিনেত্রী রূপা ভট্টাচার্য। সেসময় ফেসবুক পোস্টে তিনি একথা জানিয়েছিলেন, “রাজনীতি ছাড়লাম। অন্য কোনও রাজনৈতিক দলেই জয়েন করছি না। মানুষের ভালর জন্য ন্যায্য কথা বলব। ভাল কাজকে সমর্থন করব। খারাপের প্রতিবাদ করব।”

সে সময় তার দল ছাড়ার কারণ হিসেবে উঠে এসেছিল দিলীপ ঘোষের সঙ্গে তার তিক্ততা। দল ছাড়ার সময় সে কথাও সোশ্যাল মিডিয়ায় সবাইকে জানান তিনি। একটি পোস্ট করেন রূপা জানান, মুকুল রায়ের হাত ধরে তিনি রাজনীতিতে এসেছিলেন। লবির জন্য প্রচুর নাকানি-চোবানি খেতে হয়েছে। নির্বাচনে বিজেপির পুরনো কর্মীরা টিকিট পাননি বলেও অভিযোগ করেন রূপা। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যাওয়া তারকারাই টিকিটের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার করেছিলেন। ‘শিল্পীদের রগড়ে দেব’ বলে দিলীপ ঘোষ যে মন্তব্য করেছিলেন, তার সমালোচনার প্রেক্ষিতেই তাকে এক হাত নেন সেই অভিনেত্রী।

সময় গড়িয়েছে, এখন সেভাবে তাকে রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকতে দেখা যায় না। তবে রাজনৈতিক বিভিন্ন মতামত তিনি করে থাকেন। কখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কখনও দিলীপ ঘোষ কাউকেই তিনি বাদ দেননি। মানুষের ভালোর জন্য করবেন ভেবেই রাজনীতি ছেড়েছিলেন। প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে নিয়ে বলা তার কথা সর্বসমক্ষে আসে।

এই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেখান থেকে উঠে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হয়েছেন। সেখানে একটা বীভৎস স্ট্রাগল তিনি করেছেন, লিডার হিসেবে সেটা কোন কথা হবে না। কিন্তু লিডার যখন অ্যাডমিনিস্ট্রেটর হলেন তিনি যে ফেল করছেন, বিপ্লব আর রাজনীতি যেমন এক নয় তেমন দলীয় নেতৃত্ব দেওয়া আর সরকার চালানো এক নয়। সেটা উনি একসেপ্ট করতে পারেন না।”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, “উনি মনে করেন উনি ভীষণ ভালো কবিতা লেখেন, উনি মনে করেন উনি ভীষণ ভালো আঁকেন, উনি মনে করেন ভীষণ ভালো গান করেন। আমি জানি উনি বিশ্বাস করেন অসম্ভব ভালো অভিনয়ও করেন। কিন্তু এই যে উনি নিজেকে মনে করছেন.. আমি ছোটবেলায় মনে করতাম আমি ডাক্তার হব আমি ইঞ্জিনিয়ার হব আমি পাখি হব, আমি সব হব। আমরা বড় হয়ে গেছি কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভিতরে শৈশবটা বোধহয় এখনো যায়নি। উনি এখনো পর্যন্তই ফ্যান্টাসির জগতেই রয়েছেন। আর উনি যে কথাগুলো বলছেন বাচ্চারা যেমন কল্পনা করে কথাগুলো বলতে থাকে, ঠিক তেমনই”

আরও অন্যান্য খবর