লকডাউনের সময়েই ‘চা কাকু’ ওরফে মৃদুল দেব বেশ ভাইরাল হন। সোশ্যাল মিডিয়াতে তাকে নিয়ে বিতর্কের ঝড় উঠে। এই সময় তার পাশে দাঁড়ান সাংসদ-অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী। সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন তাঁর দিকে। দশমীর পর ফের একবার ‘চা কাকু’-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি, শোনেন তাঁর সমস্যার কথাও।
গত ২২শে মার্চ জনতা কার্ফুর দিন বাইরে চা খেতে বেরিয়েছিলেন যাদবপুরের বাসিন্দা মৃদুল দেব। এই সময় এক তরুণীর ভিডিওতে বন্দী হন তিনি। কাঁচুমাচু মুখ করে মিষ্টিভাবে জিজ্ঞেস করেন, “আমরা কী চা খাব না? চা খাব না আমরা?” এরপরই তাঁর এই উক্তিটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়, এই উক্তি দিয়ে নানারকম মিম বানানো শুরু হয়। এরপর থেকেই সকলের কাছে ‘চা কাকু’ বলেই পরিচিত হন।
পরবর্তীকালে একটি সংবাদমাধ্যমের করা ভিডিও থেকে জানা যায় যে, মৃদুলবাবু পেশায় দিনমজুর। পরিশ্রম করে কষ্টের মধ্যেই দিন কাটে তাঁর। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় সেই কাজও হারান তিনি। বাড়িতে তাঁর বয়স্কা মা, মানসিক ভারসাম্যহীন দিদি, ও তাঁর স্ত্রী পুত্র রয়েছে। তাঁর এই অবস্থা দেখে প্রাণ কাঁদে অনেকেরই। অনেকেই তাঁর দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন।
এইসময় মৃদুলবাবুর পাশে দাঁড়ান মিমি। তাঁর সঙ্গে দেখা করেন, লকডাউনের সময়ে মৃদুলবাবুর বাড়িতে চাল, ডাল-সহ সংসারের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস পাঠিয়ে দেন। এমনকি, রাখি পূর্ণিমার দিনও তাঁর বাড়িতে উপহার ও মিষ্টি পাঠাতে ভোলেন নি সাংসদ-অভিনেত্রী। নিয়মিত খোঁজ খবরও রেখেছেন তাঁর।
এরপর গতকাল বৃহস্পতিবার পাটুলিতে নিজের অফিসে ‘চা কাকু’-এর সঙ্গে ফের দেখা করলেন মিমি। আলাপচারিতায় মৃদুলবাবুর সমস্যার কথাও শোনেন, খোঁজ নেন তাঁর শারীরিক অবস্থার। এই করোনা পরিস্থিতিতে মৃদুলবাবুকে সাবধানে থাকার পরামর্শও দেন তিনি। তবে দশমীর পরে দেখা, আর মিষ্টি মুখ হবে না, তা কী করে হয়? মৃদুলবাবুর সঙ্গে দেখা করার পর তাঁর হাতে মিষ্টির বাক্সও তুলে দেন মিমি। মিমির সঙ্গে দেখা করেও ‘চা কাকু’ বেজায় খুশি। তবে এদিন শুধু ‘চা কাকু’-ই নন, পাটুলির অফিসে এলাকার অনেক মানুষের সঙ্গেই দেখা করেন মিমি। তাদের সঙ্গে তাদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়েও আলোচনা করেন তিনি।





