বাংলায় মতুয়া ভোটব্যাঙ্কের দিকে তাকিয়ে সব রাজনৈতিক দলই। বিশেষত শাসক তৃণমূল ও প্রধান বিরোধী বিজেপি। বাংলায় বিধানসভা ভোট হতে এখনও পাঁচ-ছয় মাস বাকি। কিন্তু যুদ্ধের ডঙ্কা বেজে গেছে। বড্ড শক্ত গড় পশ্চিমবঙ্গ আর তাই লড়াই জিততে ইতিমধ্যেই জোর দমে প্রচার শুরু করে দিয়েছে বিজেপি (BJP)। বাংলায় বিজেপি শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দু’দিনের সফরে এসেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (home Minister) তথা বিজেপির চাণক্য অমিত শাহ (Amit Shah)।
আর এই বঙ্গ যুদ্ধে সবথেকে বড় ভূমিকা নেভাতে চলেছে মতুয়া সম্প্রদায় (Matua community)। বিশেষ করে এই সম্প্রদায়ের মানুষদের ভোট পেতে ঝাঁপিয়ে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি। অমিত শাহের সফরের ঠিক আগের দিনই মতুয়া প্রতিনিধিদের নিয়ে নবান্ন সভাঘরে বৈঠক করেন মমতা (Mamta Banerjee)। জমির পাট্টাবিলি করা হয়।
যদিও বিচক্ষণ অমিত আগেই ছক কষে ফেলেছিলেন। রাজ্যে এসে মতুয়া কর্মীর বাড়িতে মধ্যাহ্ন ভোজন করবেন তিনি জানিয়ে দিয়েছিলেন রাজ্য বিজেপি কর্মকর্তাদের। বিধানভবনে সত্যাগ্রহের মঞ্চ থেকে তাই নিয়েই তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপিকে আক্রমণও হানেন অমিত শাহ।
তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, বাংলায় লোকসভা ভোটের সময় থেকেই বিজেপির নজরে ছিল মতুয়া ভোট ব্যাঙ্ক। একদিকে বাংলাদেশ (Bangladesh) থেকে পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশ নিয়ে গলা চড়িয়েছে বিজেপি। অন্যদিকে আবার মতুয়াদের ভোট পেতে মরিয়াও হয়ে উঠেছেন তাঁরা। লোকসভা ভোটের আগেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরাসরি ঠাকুরনগরে গিয়েছিলেন বড়মা-র সঙ্গে দেখা করতে। ফলও পেয়েছিলেন হাতেনাতে। আর এবার একটু অন্যভাবে মতুয়াদের কাছে পৌঁছতে চাইছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আর তাই মতুয়া বিজেপি কর্মীর বাড়িতে মধ্যাহ্ন ভোজনের পরিকল্পনা করেছেন তিনি।
তবে বাংলায় এসে ভোট কেড়ে নিয়ে যাবেন অমিত তা মোটেই পছন্দ নয় বঙ্গ শাসিকার। আর তাই অমিত আগমনের আগের দিনই নবান্নের সভাঘরে মতুয়া প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন বড় চাল খেললেন তিনি। সেখানেই দাবি করেন, তিনি বড়মার চিকিৎসার সবকিছু দেখাশোনা করতেন। তাঁর নির্দেশেই জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকরা বড়মার দেখাশোনা করত। সেই সুবাদেই মমতাবালা ঠাকুরদের (Mamtabala Thakur) সঙ্গে পরিচয়। গতকাল উদ্বাস্তুদের জমির পাট্টাও বিলি করেন তিনি।
আর এবার আসরে নেমেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী (Adhir Ranjan chaudhari)। বাংলার মানুষের কথা শুধু আমরাই ভাবি বলে বিধানভবনে সত্যাগ্রহের মঞ্চ থেকে মতুয়াদের ভোট নিয়ে তৃণমূলের রাজনীতিকে বিঁধেছেন তিনি। কটাক্ষ করে বলেছেন, এবার মতুয়াশ্রী পুরস্কার দেবেন দিদি। লোক দেখানো রাজনীতি চলছে বাংলায়। তপশিলি জাতি উপজাতিদের জন্য প্রথম ভেবেছে কংগ্রেসই। মুখ্যমন্ত্রী বলতে পারবেন না তপশিলি জাতি উপজাতিদের জন্য কতগুলি শূন্যপদ রয়েছে।
‘বাংলায় মদ বিক্রি হয় ২০ টাকায়। মদবেজে জুয়া খেলে টাকা আসছে। এমনই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে রাজ্যে। তাই মমতার মসনদ ছাড়তেই হবে।’ রাজ্যে বাম-কংগ্রেস জোট আরও মজবুত হবে বলে হুঙ্কার দিয়েছেন অধীর চৌধুরী।





