‘বাঙালি যেভাবে হইহই করে কিশোর কুমারের জন্মদিন পালন করে, সেভাবে যদি বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের জন্মদিনটাও পালন করত!’ আফশোস করছেন মীর আফসর আলী

“রেডিওটা রেডি তো?” মহালয়ার আগের দিন, এই কথাটা সোশ্যাল মিডিয়ায় সবথেকে বেশি ঘুরতে দেখা যায়। মহালয় মানেই রেডিও , বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্র মহাশয়ের চণ্ডীপাঠ এবং দেবীপক্ষের সূচনা। রেডিও মানেই এই মুহূর্তে যে নামটা সকলের মনের মধ্যে ফুটে ওঠে মীর আফসার আলীর নাম।

সংবাদমাধ্যমে মহালয়া নিয়ে নস্টালজিয়ায় ভাসলেন মীর। এমনিতেই সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে তার পোস্ট সব সময় ভাইরাল হয়। তার হাসির পোস্ট বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম। বয়স বেড়েছে তার সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ব্যস্ততা, তবুও এই একটা দিন মহালয়া মিস করেন না মীর। তার কথায় “বাড়ির সকলে একসঙ্গে সকালবেলায় ঘুম থেকে উঠে রেডিয়োও মহিষাসুরমর্দিনী শোনা হয়। এই অভ্যাস ঠাকুর্দার আমলে তৈরি হয়েছিল। নয়-দশ বছর বয়সে ঠাকুর্দার সঙ্গেই মহিষাসুরমর্দিনী শোনা শুরু হয়েছিল। অভ্যাসটা আজও একই আছে”

মহালয়া মানে বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্র। তার কণ্ঠে চণ্ডীপাঠ না হলে বাঙালির জীবনে পূজার সূচনা ঘটে না। ব্যতিক্রম নয় অভিনেতা সঞ্চালক মীর। তার কথায় “বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র সত্যি সত্যিই বাঙালি জীবনের একটা গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। শুধু বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রই নন, বাণী কুমার এবং পঙ্কজ মল্লিক, মানে এই ট্রায়ো… তাঁদের কীর্তি অবিস্মরণীয়, রেডিয়ো জগতে ওঁদের কন্ট্রিবিউশন, আনম্যাচড। আর কেউ করে উঠতে পারবেন না।”

বাঙালির জীবনে সত্যজিৎ রায়, রবীন্দ্রনাথ কিংবা কিশোর কুমার যতটা প্রাসঙ্গিক, মহালয়া ক্ষেত্রে বীরেন্দ্র বাবু কি কিছুটা পিছিয়ে! মীরের দাবি “৪ঠা অগস্ট বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের জন্মদিন। ওই একইদিনে কিশোর কুমারেরও জন্মদিন। বাঙালি যেভাবে হইহই করে কিশোর কুমারের জন্মদিন পালন করে, বোধহয় বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের জন্মদিনটাও পালন করা উচিত। কিন্তু অনেকে হয়তো তাঁর জন্মদিন কবে, সেটা জানেনই না।”

কথাপ্রসঙ্গে নিজের বাবা-মাকে ধন্যবাদ জানালেন মীর আফসার আলী। ছোটবেলা থেকেই ধর্ম নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামাতে নারাজ এই সঞ্চালক। তার বাবা মা রেডিওতে মহিষাসুরমর্দিনী শুনেই দুর্গাপূজার সূচনা করেন অন্যথা হয়নি মীরের জীবনে।
তিনি জানান “ধন্যবাদ ওঁদের যে ধর্মের বেড়াজালে মহিষাসুরমর্দিনী শোনার ব্যাপারটাকে বেঁধে রাখেননি। ঠাকুর্দার পর আব্বা-মায়ের সঙ্গেই মহিষাসুরমর্দিনী শুনে বড় হয়েছি।”

সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিকবার কটাক্ষের সম্মুখীন হয়েছেন মীর। নিজে মুসলিম ধর্মালম্বী হলেও হিন্দুদের উৎসবেও তিনি একই রকম ভাবেই মিলেমিশে থাকেন। আর এই বিষয়টা নিয়েই নেটিজেনদের কটাক্ষের মুখে পড়েন। এই বিষয়ে তিনি জানান “সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাদের সবাইকে, বিশেষত যাঁরা পাবলিক ডোমেইনে কাজ করি, তাঁদের একটা নীতি মেনে চলতে হয়। এই সমস্ত নেগেটিভ কমেন্টকে যত পাত্তা দেব, ততই নেগেটিভিটি ছড়াবে। তাই ওটাকে পাত্তা দিই না। জানি যেটা করছি, সেটা ঠিক। এই ধর্মের নাম করে কত মানুষ কত ভণ্ডামি করে বেড়ায়…”

Khabor24x7 Desk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর