জি বাংলার (Zee Bangla) জনপ্রিয় ধারাবাহিক মিঠিঝোরা (Mithijhora)– তে তিন বোনের গল্প দেখানো হয়। তাই আমরা তিন জুটিকে এই ধারাবাহিকে দেখতে পাই। রাই-অনি, নীলু শৌর্য্য ও স্রোত সার্থক, তবে প্রথম দুটো জুটি নিয়ে যতখানি সমালোচনা হয় দর্শক ততটাই ভালোবাসায় ভরিয়ে দেন তৃতীয় জুটি স্রোত সার্থককে। কারণ তাদের রসায়নটাই টক ঝাল মিষ্টি। রাইকে অনির্বাণ প্রচন্ড পরিমাণে ভালোবাসে কিন্তু সেই ভালোবাসার মধ্যে বিশ্বাস নেই।
অন্যদিকে, প্রথম ভালোবাসাকে ভুলে নীলুকে নিজের স্ত্রীর মর্যাদা দিয়েছিল শৌর্য্য। কিন্তু নীলু তার দাম দিতে পারেনি, নিজের স্বার্থপরতা, পরশ্রীকাতর চরিত্রের জন্য সে নিজের সুন্দর দাম্পত্য নিজেই নষ্ট করেছে। অন্যদিকে রাইকে পাগলের মত ভালোবাসলেও প্রতিকূল পরিস্থিতিতে রাইয়ের পাশে দাঁড়িয়ে থাকার পরিবর্তে তাকেই ভুল বুঝতে থাকে অনির্বাণ। তাই প্রথম এই দুই জুটির মধ্যেই একটা তিক্ততা রয়ে গেছে যেটা ভীষণভাবে অনুভব করেন দর্শক। সেখানে মিঠিঝোরা ধারাবাহিকের মধ্যে প্রাণ খোলা হাওয়ার মত একটি জুটি আছে যাদের বেশ পছন্দ করেন দর্শক। সেই জুটি হল স্রোত সার্থকের জুটি!
স্রোত ডাক্তারি নিয়ে পড়াশোনা করছে আর সেই কলেজের প্রফেসর সার্থক সেনগুপ্ত। প্রথম থেকে সার্থক আর স্রোতের সম্পর্কের মধ্যে ঝগড়াঝাটি হলেও দিনশেষে স্রোতের অসুস্থতা হোক অথবা বিপদ সবসময় কিন্তু সার্থক স্রোতকে আগলে রেখেছে-যা দেখে মুগ্ধ হয়ে গিয়েছেন দর্শক। রাই যখন অসুস্থ হয় এবং নিজের সবথেকে কাছের মানুষের ক্যান্সার হওয়ায় চিন্তায় পড়ে যায় স্রোত, তখন প্রথম থেকে এই বিপদে মানসিকভাবে সাহস যুগিয়ে হোক অথবা আর্থিকভাবে সবসময় স্রোতের পাশে ছিল সার্থক।
সম্প্রতি ধারাবাহিককে দেখা যাচ্ছে, সার্থকের মনের কথা যাতে মুখ দিয়ে বের হয় সেই কারণে উজ্জ্বলবাবু একটা জবরদস্ত পরিকল্পনা করেছেন, তিনি বলেছেন তার বন্ধুর ছেলের সাথে স্রোতের বিয়ের কথা বলে রাখবেন! অন্যদিকে সার্থকের কথাই রেগে গিয়ে উজ্জ্বলবাবুর প্রস্তাবে হ্যাঁ বলে দিয়েছে স্রোত। এরপর ধারাবাহিকে দেখা যায় যে একটা জায়গায় টিউশন পড়াতে গিয়ে ঝড় জলের কারণে আটকা পড়ে যায় স্রোত, সার্থক তাকে বৃষ্টিতে ভিজতে দেখে গাড়ি থামায় ও গাড়িতে উঠে আসতে বলে। কিন্তু স্রোত যেতে রাজি হয় না।
এরপর সার্থক নিজে নেমে আসে এবং স্রোতের সাথে বৃষ্টিতে ভিজতে থাকে! এই সময় জোরে বাজ পড়ে আর সার্থক ভিজে যায় যা দেখে হাসতে থাকে স্রোত। আর স্রোতের দিকে মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে সার্থক। স্রোত-সার্থক একে অপরের সাথে ঝগড়া করলেও তাদের ঝগড়ার মধ্যে যে খুনসুটি রয়েছে তা বেশ উপভোগ করেন দর্শক। ওদিকে সার্থক স্রোতকে বলে, বিয়ের সম্বন্ধের বিষয়টা সে বাবাকে বুঝিয়ে বলে মানা করে দেবে, কিন্তু স্রোত বলে, এতে আঙ্কেল আহত হবেন। তাই কিছু বলার দরকার নেই। কিন্তু বোঝা যায়, এই সম্বন্ধ নিয়ে স্রোত আর সার্থক দুজনেই বেশ কষ্টে আছে। কিন্তু তাদের বুক ফাটছে তবু মুখ ফুটছে না।





