আর জি কর কাণ্ডের জেরে জুনিয়র চিকিৎসকদের কর্মবিরতির কারণে তাদের নানান সময় বেশ হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে। আর এই নানান হুমকিই এসেছে শাসক দলের নানান নেতানেত্রীদের তরফে। এই নিয়ে দলের তরফে সতর্ক করা হলেও কথা যে কেউ কানে তোলেন নি তা হুমায়ুন কবীরের মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট। ফের একবার জুনিয়র চিকিৎসকদের হুমকি শানালেন ভরতপুরের বিধায়ক।
এর আগেও নানান সময় জুনিয়র চিকিৎসকদের আন্দোলনকে কটাক্ষ করেছেন হুমায়ুন কবীর। আর এর জেরে তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগও দায়ের করা হয়েছিল চিকিৎসক সংগঠনের তরফে। এমনকি দলনেত্রীও আর জি কর বা জুনিয়র চিকিৎসকদের নিয়ে কোনও মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই নির্দেশকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ফের স্বমহিমায় হুমায়ুন।
এবার জুনিয়র চিকিৎসকদের আন্দোলনকে ‘চ্যাংড়ামো’ বলে দাগলেন তৃণমূল বিধায়ক। শুক্রবার এক সভায় তিনি বলেন, “ডাক্তারদের দ্বিতীয় ভগবান বলা হয়। সেই ভগবানের আচরণ কী? সিগারেট নিয়ে নাচানাচি করছেন, ঢাক-ঢোল বাজাচ্ছেন। এ সব কি আন্দোলনের নামে চ্যাংড়ামো নয়”?
তৃণমূল বিধায়কের দাবী, সমস্ত বিরোধী দলগুলি একত্র হয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। আর এই ষড়যন্ত্রের অংশীদার জুনিয়র চিকিৎসকরা। হুমায়ুন কবীর বলেন, “সংখ্যায় যদি বিচার করেন জুনিয়র ডাক্তাররা সারা রাজ্যে মাত্র সাড়ে সাত হাজার। সব ডাক্তার মিলিয়ে মোট মাত্র চুরানব্বই হাজার। আমরা তিন কোটি তৃণমূল কর্মী। ১০ হাজার মাঠে নামলে কী হবে, তখন বুঝবেপ্রয়োজনে রাস্তায় নেমে বিরোধিতা করব। মেডিক্যাল কলেজ, হাসপাতাল ঘেরাও করব। তাতে আমার যা হওয়ার হোক”।
আরও পড়ুনঃ এমএসভিপি-কে ঘিরে তুমুল বিক্ষোভ, কর্মবিরতি জারি জুনিয়র চিকিৎসকদের, তাদের দাবী ন্যায্য বলে সহমত পোষণ অধ্যক্ষের, কী চলছে সাগর দত্ত হাসপাতালে?
বলে রাখি, আর জি কর কাণ্ডের পর জুনিয়র চিকিৎসকদের আন্দোলনকে কটাক্ষ করে নানান মন্তব্য করতে থাকেন তৃণমূলের নেতানেত্রীরা। সেই সময় তাদের আটকাতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্দেশ দিয়েছিলেন, আর জি কর নিয়ে যা মন্তব্য করার তিনি নিজে করবেন। কোনও নেতানেত্রীকে কোনও ধরণের মন্তব্য করতে নিষেধ করেছিলেন তিনি। কিন্তু নেত্রীর সেই নির্দেশকে উপেক্ষা করে ফের জুনিয়র চিকিৎসকদের হুমকি হুমায়ুন কবীরের।





