হুবহু টোকা নচিকেতার ‘রাজশ্রী’ গানের সুর! ‘বেকার কথা, ২৫ বছর পুরোনো গান নিয়ে এখন পোস্টমর্টেম করছে’, বিতর্কের মুখে বললেন গায়ক

নচিকেতা চক্রবর্তীর ফ্যানবেস অন্য সকলের থেকে খানিকটা আলাদা। নচিকেতার একের পর এক সুপারহিট গান পাড়ার রক থেকে শুরু করে প্রেমিকার হৃদয়ে বারবার ঝড় তুলেছে।তার গাওয়া গানগুলির মধ্যে জনপ্রিয় গানগুলি হল নীলাঞ্জনা-বৃদ্ধাশ্রম-রাজশ্রীর মতো গান। নচিকেতার খুবই জনপ্রিয় গান রাজশ্রী বড় প্রশ্নের মুখে। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট দেখে চমকে গেছেন সকলে। এক ব্যক্তি নচিকেতার গাওয়া গান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি তার পোস্টে দাবি করেছেন এক মিশরীয় গানের সুর নিয়ে তৈরি এই রাজশ্রী। নচিকেতা সেই সুরের জন্য ক্রেডিটও দেননি। সোশ্যাল মিডিয়ায় ওই ব্যক্তির পোস্টে রীতিমতো হইচই পড়ে গেছে।

ওই ব্যক্তি সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, “‘রাজশ্রী’ গানটার সুর একটা মিশরীয় গান থেকে হুবহু টোকা সেটা জানতামই না! নেট ঘেটে অরিজিনাল গানটাকে কোথাও ক্রেডিট দেওয়া হয়েছে বলে মনে হল না! নচিকেতার নিজের ওয়েবসাইটে লেখা মিউজিক নাকি নচিকেতা! জ্ঞানপাপী কি একেই বলে? গতকাল আরবে একটা মিউজিক্যাল কনসার্টে একটা আরবি গান শুনে হঠাৎ করে মনে হল চেনা চেনা লাগছে। পরে বুঝলাম এ যে নচিকেতার গলায় শুনেছি! পৃথিবীটা খুব ছোট না”?

ওই ব্যক্তি আরও লিখেছেন, “অরিজিনাল গানটা Habibi Nour El Ain January 1996 তে রিলিজ হয়, মিশরীয় গায়ক Amr Diab এর গান। Wiki তথ্য অনুযায়ী সেই গানটা নাকি ঐসময় খুব জনপ্রিয় হয়েছিল, আর এভাবেই হয়তো আমাদের নচিকেতা বাবু “রাজশ্রী” গানটা লিখে ফেলেন সেই সুর হুবহু টুকে 1998 তে। কিন্তু রাজশ্রীর মতো এরকম একটা জনপ্রিয় গানের আসল সুরকে কি তিনি কোথাও কৃতজ্ঞতা স্বীকার জানিয়েছেন? কারো জানা থাকলে জানাবেন অবশ্যই। আমি দুটোর রিলিজ ডেট কমেন্টে দিলাম wiki থেকে স্ক্রিনশট নিয়ে। কোথাও কোনও কৃতজ্ঞতা নেই! উনার গাওয়া ‘চোর’ গানটা আমার মনে পড়ে গেল”!

ভিডিওতে লিখেছেন, “অনেক গরীব বাউল বা লোকগীতিকার তাঁদের প্রাপ্য সম্মান পায়নি, প্রাপ্য পারিশ্রমিক পাননি। এরকম কিছু মানুষের কারণে (নচিকেতা বলছি না, যে কেউ প্রভাবশালী এরকম করেছে আগে) শ্রদ্ধেয় রতন কাহার স্যারকেও এরকম অনাচারের সম্মুখীন হতে হয়েছে”।

এই ঘটনার পর মুখ খুললেন নচিকেতা চক্রবর্তী। তিনি বলেন, “একেবারে বেকার কথা! আজ থেকে প্রায় ২৫ বছর আগে একটা গান লিখেছি, সেটার এখন পোস্টমর্টেম হচ্ছে! কোনও কাজ নেই! এই গানটার পিছনে পড়েছে। এদিকে এসবিআই যে ইলেক্টরাল বন্ডের হিসেব দিচ্ছে না, সেই বিষয়ে কোনও মাথাব্যথা নেই কারও। আর টোকা তো কী হয়েছে! হতেই পারে প্রচুর গান থেকেই মানুষ অনুপ্রাণিত হয়। রবীন্দ্রনাথও করেছে। একটা গান থেকে আর একটা গান তৈরি হয়েই থাকে। কী বলতে চাইছে! নচিকেতা সব গান ঝেড়ে দিয়েছে। ও এরকমই একটা কিছু করে দেখাক না। কোনও কাজ নেই এদের। ২৫ বছর আগের গানকে পোস্টমর্টেম করছ। যেখানে প্রতিবাদ করার দরকার করে না।”

RELATED Articles