রমজান মাসে দোকান বাজারে প্রায় কিছুরই দাম বাড়ে। ফলের বাজারে হাত দিতে ছেঁকা লাগার জোগাড়। মঙ্গলবার থেকে রোজা শুরু হয়েছে। এই সময় ইফতারের ফল কিনবেন মুসলিমরা। এ মাসে ফলের দাম বেশিই থাকবে। তাই দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে বড় ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকারের।
রাজ্যের কৃষি বিপণন মন্ত্রী বেচারাম মান্না জানিয়েছেন, “সুফল বাংলার স্টলে সংখ্যা বাড়িয়ে ৪৬৭টি করা হয়েছে। এই স্টলগুলি থেকে বাজারদামের থেকে অনেক কমে ফল পাওয়া যাবে।”
কৃষি মন্ত্রী বলেছেন, “রমজান মাস উপলক্ষে ৪৬৭টি সুফল বাংলার স্টলে রোজাদারদের জন্যে রাজ্য সরকার পক্ষ থেকে ফলের দাম অনেক কমানো হয়েছে। বাজারদরের চেয়ে প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ কমে কয়েকটি ফল পাওয়া যাবে। আলু, পিঁয়াজ, আঙুর, কলা, তরমুজ, পেঁপে, ছোলা, খেজুর এইসব ফল ও সব্জি কম দামে কেনা যাবে।”
ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে রোজা। মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে রমজান মাস। এই সময়টা মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষরা দিনভর রোজা রাখেন। রোজা রাখার অর্থ উপবাস করা। সূর্যাস্তের পরে নিয়ম মেনে উপবাস ভাঙা হয়। সেই সময়ে ফলাহার করেন তারা। তাই এই সময় ফলের চাহিদা বেশি থাকে। সেই সুযোগে ব্যবসায়ীরা বেশি মুনাফা লাভের আশায় ফলের দাম বাড়িয়ে রাখে। শুধুমাত্র দাম বাড়ানোই নয়, আকাশছোঁয়া মূল্য হয় ফলের। বাজারদরের চেয়ে অনেক বেশি দামে ফলের বিক্রি হয় এই সময়। আপেল, কলা, পেয়ারা, পেঁপে, বেদানা, খেজুর কিনতে গিয়ে সাধারণ মানুষের পকেট প্রায় হালকা হয়ে যায়। রমজান মাস শুরু থেকেই ফলের দাম দেড় থেকে দুগুণ বেড়ে যায়।
রাজ্যের কৃষি বিপণন মন্ত্রী বেচারাম মান্না জানিয়েছেন, “ফলের দাম বেড়ে গেলে সাধারণ-মধ্যবিত্ত মানুষ ফল কিনবেন কী ভাবে? রমজান মাসে ফলের উপরেই বেঁচে থাকেন মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষেরা। ওঁদের কথা ভেবে দাম যাতে নিয়ন্ত্রণে থাকে, সেটা চেষ্টা করা হচ্ছে।”
বাজারে মাত্রাতিরিক্ত ফলের দাম বাড়ার প্রসঙ্গে এক বিক্রেতা বলেন, ‘এখন খেজুরের ব্যাপক চাহিদা বেড়েছে। বাজারে এখন ২০০ টাকা থেকে ১৬০০ টাকা কেজি দরে খেজুর বিক্রি হচ্ছে। ফলের দাম ছেড়েই দিন। পাইকারি বাজারেই দাম লাগামছাড়া হয়েছে। সেখানে খুচরো বাজারে তো তার প্রভাব পড়বেই।’





