বিতর্কে ‘A Suitable Boy’! মন্দিরের ভেতরে হিন্দু-মুসলমানের চুম্বনদৃশ্য, প্রতিবাদে Netflix বয়কটের ডাক

ফের ভারতে জোরদার লাভ জিহাদ বিতর্ক। মাসখানেক আগেই জনপ্রিয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সে মুক্তি পেয়েছে মীরা নায়ার পরিচালিত সিরিজ ‘অ্যা স্যুটেবল বয়’। দীর্ঘদিন না হলেও কিছুদিন যাবৎ‌ই চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তাবু, ইশান খট্টর অভিনীত এই সিরিজ।

মূলত এই সিরিজের একটি বিতর্কিত দৃশ্য নিয়েই যত ঝামেলা। আর এই বিতর্কের মাত্রা এতদুর পর্যন্ত গড়িয়েছে যে নেটফ্লিক্সের বিরুদ্ধে এফআইআর পর্যন্ত দায়ের করে ফেলেছেন বিজেপি নেতা গৌরব তিওয়ারি!

এই ওয়েব সিরিজটিতে মূল বিতর্কের শুরুটা হয়েছে এক চুম্বন দৃশ্যকে ঘিরে। যে সে চুম্বন দৃশ্য নয়, একেবারে হিন্দু-মুসলমানের চুম্বন দৃশ্য! আর সেটাই ওই বিজেপি নেতার আপত্তির মূল কারণ। এই চুম্বনদৃশ্যটি আবার দৃশ্যায়িত হয়েছে মন্দিরের ভেতরে। যা কোনওভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তিনি। টুইট বার্তায় এফআইআর দায়ের করার খবর জানিয়ে তিনি লেখেন- নেটফ্লিক্স ইন্ডিয়া নিজেদের অনুষ্ঠান (সিরিজ) অ্যা স্যুটেবল বয়ের একটি এপিসোডে তিন বার মন্দির প্রাঙ্গনে চুম্বনের দৃশ্য প্রদর্শন করেছে। প্রেক্ষাপট অনুসারে মুসলিম যুবক, এক হিন্দু মহিলাকে ভালোবাসে…তবে সব চুম্বনের দৃশ্য মন্দিরেই কেন শ্যুট করা হয়েছে? প্রশ্ন তাঁর!

তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন আমি বিষয়টি নিয়ে রিবা (মধ্যপ্রদেশ)-তে এফআইআর দায়ের করেছি। ভগবান রামের আরতির সময় মন্দির প্রাঙ্গনে হিন্দু-মুসলিম যুবক-যুবতীর চুমু খাওয়ার এই দৃশ্য নিয়ে বেজায় চটেছেন নেটিজেনদের একাংশ‌ও। টুইটারে ট্রেন্ডিং করছে #BoycottNetflix, গোটা বিষয়টি হিন্দু দেবদেবীদের অপমান এই ডাক তুলেছেন তাঁরা।

বিক্রম শেঠের লেখা একই নামের উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি হয়েছে মীরা নায়ারের টিভি সিরিজ ‘অ্যা স্যুটেবল বয়’। বিসিসিতে সম্প্রচারিত হওয়ার পর গত ২৩ অক্টোবর নেটফ্লিক্সে মুক্তি পায় এই সিরিজ। ছয় এপিসোডের এই সিরিজ সদ্য স্বাধীন ভারতের (১৯৫১) প্রেক্ষাপটে তৈরি। কয়েকটি পরিবারের কাহিনি উঠে এসেছে এই সিরিজে, যাঁরা নিজেদের বিবাহযোগ্য কন্যার জন্য একজন যোগ্য পাত্র খুঁজছেন।

প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য, এই বিষয়টি নিয়ে পুলিশকে যথাযথ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন মধ্যপ্রদশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী নরোত্তম মিশ্রা। টুইট বার্তায় তিনি বলেন- ‘অ্যা স্যুটেবল বয়’ নামের একটি ছবি ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পেয়েছে, এবং এর বেশ কিছু দৃশ্য নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মানুষের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত এনেছে বলে অভিযোগ। আমি পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছি বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করতে’।

RELATED Articles