বরাবরই ইন্ডাস্ট্রির তারকারা বলে এসেছেন রাজনীতির সঙ্গে অভিনয় জগতের কোনও যোগসাজশ নেই। রাজনীতি একটা আলাদা মঞ্চ এবং অভিনয় জগত আলাদা। অনেক ক্ষেত্রে আমরা প্রমাণও পেয়েছি। একই সঙ্গে কাজ করতে দেখা গিয়েছে তৃণমূলকে সমর্থন করা তারকা ব্যক্তি ও বামপন্থী তারকাকে। অনেক সময় একই ধারাবাহিকে কাজ করেন বিরোধী দলের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিত্বরা। কিন্তু তাতে কাজে বাঁধা আসেনি। তবে এবার প্রশ্ন উঠছে, রাজনীতি কি বন্ধুত্বের সম্পর্কে ফাটল ধরিয়েছে? নাকি যেভাবে একসঙ্গে কাজ করে চলেছেন সেভাবেই বাস্তব জীবনে বন্ধুত্বটাও বজায় রয়েছে? না কি শুধু কাজ করতে হবে বলে একই স্টেজে একই সেটে উপস্থিত হচ্ছেন তাঁরা?
প্রসঙ্গত কথা হচ্ছে শ্রীলেখা মিত্র, রাজ চক্রবর্তী অনির্বাণ, কাঞ্চন ও রুদ্রনীলের। এদিন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বন্ধুত্বের সমীকরণ নিয়ে কথা বললেন রুদ্রনীল। কারোরই অজানা নয় বিজেপি শিবিরে যোগদানের পরই তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। তবু তার পরেও বন্ধুর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন বিজেপি কর্মী। জানালেন, “অভিনয় এবং পরিচালনার দিক থেকে নিজেকে আরও ধারালো করেছেন ‘বনি’র পরিচালক।” একইসঙ্গে মন্তব্য করেছেন, “বন্ধুত্বে যদি বিজেপি, সিপিএম নাক গলায় তা হলে তো বাজারে বেরিয়ে আলুওয়ালা বিজেপি কিনা সেটা আগে জানতে হবে। তিনি বিজেপি সমর্থক হলেই তবে তাঁর থেকে আলু কিনতে পারব!”
কারোরই অজানা নয় একসময় রুদ্রনীল ঘোষের খুব কাছের বন্ধু ছিলেন রাজ চক্রবর্তী, কাঞ্চন মল্লিক, শ্রীলেখা মিত্র। তবে এখনো কি সেই একই সম্পর্ক বজায় রয়েছে? তার উত্তরে অভিনেতা জানালেন, “গুণী শিল্পী শ্রীলেখা। কিন্তু তাও বাংলা ছবির দুনিয়া সঠিক ব্যবহার করতে পারলো না ওঁকে। আমার চোখে পড়েছে। যথেষ্ট খারাপ লাগে।” কিন্তু এদিকে ব্যাতিক্রম যীশু সেনগুপ্ত। তাঁর সঙ্গে আজও বন্ধুত্ব রয়ে গিয়েছে।
এদিন জানালেন, শ্রীলেখার সঙ্গে খুব বেশি হৃদ্যতা তাঁর কোনো দিনই ছিল না। দেখা হলে শুধু সৌজন্যের খাতিরে কথা বলা হতো। সেটা এখনও রয়ে গিয়েছে। এখনও সামনাসামনি দেখা হলে ভাল ভাবেই একজন আরেকজনের সঙ্গে কথা বলে থাকেন। অন্যদিকে অনির্বাণ ভট্টাচার্যকে নিয়ে বললেন, তাঁকে যতটা পরিশ্রম করে পায়ের তলার মাটি শক্ত করতে হয়েছে, অনির্বাণকে অতটা পরিশ্রম করতে হয়নি। সঠিক সময়ে সঠিক পরিচালক-প্রযোজক তাঁকে সুযোগ করে দিয়েছে। তাই এই প্রজন্মের অভিনেতার খাটনি অনেকটাই কম। রুদ্রনীলের কথায়, “আমার তো লড়তে লড়তেই ৬-৭ বছর নষ্ট হয়ে গিয়েছে।”
দেখতে গেলে কিছু ক্ষেত্রে তাঁর যুক্তি খাটে। এদিন আবার টলিউডের এই জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব বলেন, “কেউ তাঁর বন্ধুদের দেশ ছাড়ার কথা বলেনি। নিজেরাই নিজেদেরকে শোনাচ্ছেন, এই দেশ ছেড়ে তাঁরা কোথাও যাবেন না।” এদিকে কাঞ্চন মল্লিক ও রাজ চক্রবর্তীর সঙ্গে কতটা সম্পর্ক বজায় রয়েছে! তা নিয়ে জানালেন, কথা বন্ধ না হলেও বাক্যালাপ অনেকটাই কমে গিয়েছে। ব্যস্ত বিধায়কের সঙ্গে তেমন আর কথা বলা হয়ে ওঠেনা। একইভাবে আড্ডায় ঘনিষ্ঠ বন্ধু কাঞ্চনকে নিয়ে এদিন বলেন, “জীবনের সব জটিলতা সরিয়ে ভালো থাকুক। কাঞ্চনের মতো ভালো মানুষ খুবই কম হয়।”
কিন্তু তাঁর কথাতে বোঝা গেল, সমস্ত বন্ধুরাই শাসকদলের ঘ’নি’ষ্ঠ। তাই তাঁদের থেকে বেশি বন্ধুত্ব টিকে রয়েছে যিশু সেনগুপ্তর সঙ্গে। কারণ তিনি রাজনীতির ধারে পাশে নেই। আবার উল্টোদিকে বন্ধুদের প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “শাসক দল হয়তো ভয় পায় রুদ্রনীলকে!”





