রাজ্যে বিধানসভা ভোট ঘিরে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। একদিকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে মানুষ লাইনে দাঁড়াচ্ছেন, অন্যদিকে একাধিক জায়গায় হিংসা, সংঘর্ষ ও আতঙ্কের খবর সামনে আসছে। ভোটের দিন যত এগোচ্ছে, ততই আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে নানা মহলে।
এই আবহেই মুর্শিদাবাদের নওদা বিধানসভার শিবনগর এলাকায় বোমাবাজির অভিযোগ সামনে এসেছে। ঘটনাটি ঘটে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে, যা একটি ভোটকেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহার করা হচ্ছে। অভিযোগ, ২২ এপ্রিল রাতে ওই এলাকায় হঠাৎই বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনাস্থলের কাছেই তখন উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল প্রার্থী তথা বিদায়ী বিধায়ক সাহিনা মমতাজ খান। যদিও তিনি অক্ষত রয়েছেন, তাঁর দাবি, তাঁকেই লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। তৃণমূলের তরফে অভিযোগের আঙুল উঠেছে হুমায়ুন কবীরের দল আমজনতা উন্নয়ন পার্টির দিকে। তৃণমূল সাংসদ আবু তাহের খানও একই অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের দাবি, সাধারণ ভোটারদের আতঙ্কিত করে ভোট প্রক্রিয়া প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যেই এই হামলা। তবে অপরদিকে আমজনতা উন্নয়ন পার্টি এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে।
ঘটনায় এক স্থানীয় মহিলা আহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে। প্রশ্ন উঠছে, যেখানে আগে থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন ছিল, সেখানে কীভাবে এই ধরনের বোমাবাজি সম্ভব হল। এই ঘটনার রিপোর্ট তলব করেছে নির্বাচন কমিশন, যা পরিস্থিতির গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে। একইসঙ্গে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে বিভিন্ন মহল।
আরও পড়ুনঃ রেশন দুর্নী’তি মামলায় তলব অভিনেত্রী নুসরত জাহানকে! দীর্ঘ ৯ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদ, এডি দপ্তর থেকে বেরিয়ে কী জানালেন তৃণমূলের প্রাক্তন তারকা প্রার্থী?
অন্যদিকে, এই ঘটনার জেরে হুমায়ুন কবীরের বক্তব্যও নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। তিনি বলেন, “আমার লোককে পাথর ছুড়লে পাল্টা রসগোল্লা ছুড়বে নাকি? একটি ঢিল ছুড়লে দুটো পাটকেল খেতে হবে।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। সব মিলিয়ে ভোটের মুখে মুর্শিদাবাদের এই ঘটনা রাজ্যের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিল।





