বাংলা সিনে জগতের অতি পরিচিত মুখ পাওলি দাম (Paoli Dam) শুধু টলিউড নয় বলিউডেও নজর কেড়েছেন তিনি। সাহসী দৃশ্যে তার অভিনয় দক্ষতা বরাবর নজর কেড়েছে দর্শকদের। এই নিয়ে নানান কটাক্ষের মুখোমুখি হতে হয়েছে অভিনেত্রীকে তবে এসব কিছুতেই কান দেননি তিনি। অন্য ধারার ছবিতে অসামান্য অভিনয় দক্ষতায় তিনি নজর কেড়েছেন।
৪ঠা অক্টোবর ১৯৮০ সালে কলকাতার এক যৌথ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন পাওলি (Paoli Dam)। মা পাপিয়া দাম, বাবা অমল দাম এবং ছোট ভাই মৈনাক দাম। পাওলির বাবা ছিলেন একজন ব্যবসায়ী বউবাজারে একটি দোকান ছিল তাদের। পাওলির ছোটবেলা, কৈশোর কেটেছে বউবাজার অঞ্চলে। কলকাতার লরেটো স্কুল থেকে পড়াশোনা শেষ করেন। বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে রসায়নে স্নাতক হন তিনি। এরপর কলকাতার বিশ্ববিদ্যালয় রাজাবাজার সাইন্স কলেজ থেকে রসায়নে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পান। লেখাপড়াতে বরাবরই উজ্জ্বল ছাত্রী ছিলেন তিনি (Paoli Dam)। পড়াশোনার পাশাপাশি নাচেও দক্ষ ছিলেন। ভালোবাসতেন থিয়েটার দেখতে।
লেখাপড়া শেষ হতেই ২০০৩ সালের টেলি ধারাবাহিক ‘জীবন নিয়ে খেলা’-র মাধ্যমে টেলিভিশনে পা রাখেন তিনি। পরে দীর্ঘ ছয় বছর ধরে নানান বাংলা ধারাবাহিককে অভিনয় করেছেন। ২০০৩ এর ধারাবাহিকের পরই সুযোগ পেয়ে যান বড় পর্দায়। ২০০৪ সালে ‘তিন ইয়ারি কথা’য় প্রথম বড় পর্দায় অভিনয় করেন। বহু বছর পর এই ছবিটি ২০১২ সালে মুক্তি পায়। পাওলির প্রথম মুক্তি প্রাপ্ত ছবি ছিল রবি কিনাগী পরিচালিত ২০০৬ সালের ছবি অগ্নিপরীক্ষা। এরপর তুলকালাম, আই লাভ ইউ, হচ্ছেটা কি ইত্যাদি বহু ছবিতে অভিনয় করেছেন। তবে এই ছবিগুলির মাধ্যমে দর্শকদের চোখে ধরা পড়েননি অভিনেত্রী (Paoli Dam)।
কেরিয়ার শুরুর প্রায় ছয় বছর পর গৌতম ঘোষের ছবি কালবেলা ছবিতে অভিনয়ের পর দর্শকদের কাছে বিপুল জনপ্রিয়তা পান। এই ছবিতে মাধবীলতার চরিত্রে তার অভিনয় মুগ্ধ করে সকলকে। এই ছবির পর তাকে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। একের পর এক নানান ছবিতে কাজ করতে থাকেন। তার মধ্যে ঋতুপর্ণ ঘোষ পরিচালিত সব চরিত্র কাল্পনিক ও গৌতম ঘোষ পরিচালিত মনের মানুষ ছবিতে পাওলির অভিনয় দারুন প্রশংসিত হয়। পরপর অনেকগুলি ছবিতে সুনাম অর্জনের পর হেট স্টোরি ছবি দিয়ে বলিউডে পা রাখেন পাওলি (Paoli Dam)।
২০১২ সালে ছত্রাক ছবিতে নগ্ন দৃশ্যে অভিনয় করে প্রচুর সমালোচনার শিকার হয়েছিলেন অভিনেত্রী। অনেক সাহসিকতার সঙ্গে সবকিছু সামলেছেন তিনি (Paoli Dam)। তবে এই ছবিতে সেন্সর বোর্ড অনেক কাটাছেঁড়া করেছিল। এই ছবিটি কখনো সিনেমা হলে মুক্তি পায়নি ঠিকই। তবে যতবারই এই ছবি ফিল্ম ফেস্টিভেলে দেখানো হয়েছে ততবারই প্রশংসিত হয়েছেন পাওলি (Paoli Dam)।
পাওলির (Paoli Dam) বেশভূষা বরাবরই জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। পাওলির কর্মজীবন সমালোচিত হলেও তার প্রভাব পড়েনি ব্যক্তিগত জীবনে। ২০১৭ সালে গুয়াহাটি নিবাসী ব্যবসায়ী অর্জুন দেবকে বিয়ে করে সুখের সংসার করছেন পাওলি। প্রেম করেই বিয়ে। পাঁচ বছর অর্জুনের সঙ্গে সুখে সংসার করছেন পাওলি দাম (Paoli Dam)।





