ছোটপর্দায় কেজের বিশেষ শর্ত দিলেন পরান বন্দ্যোপাধ্যায়! ১৪ ঘণ্টার শ্যুটিংয়ে কেন ‘না’ বললেন বর্ষীয়ান অভিনেতা?

স্টার জলসার নতুন ধারাবাহিক ‘সংসারের সংকীর্তন’ নিয়ে দর্শকদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এই ধারাবাহিকে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করছেন মানালি দে ও সব্যসাচী চৌধুরী। ধারাবাহিকটির অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন প্রবীণ অভিনেতা পরান বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও পরান বন্দ্যোপাধ্যায় মূলত বড় পর্দার অভিনেতা, তবুও তিনি একাধিক জনপ্রিয় ধারাবাহিকে কাজ করেছেন, যেমন ‘বয়েই গেল’ এবং ‘সংসার সুখের হয় রমনীর গুনে’। তবে এই ধারাবাহিকটিতে অভিনয় করার আগে তিনি পরিচালককে একটি বিশেষ শর্ত দিয়েছেন, যা জানানো হয়েছে সম্প্রতি।

পরান বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তিনি আর ১৪ ঘণ্টা ধরে শ্যুটিং করতে পারবেন না। কারণ, তার বয়স হয়েছে এবং শারীরিক অবস্থাও আগের মতো নেই। দীর্ঘ শ্যুটিংয়ের জন্য তার এখন আর সামর্থ্য নেই। তার মতে, শারীরিকভাবে আর আগের মতো শক্তি নেই, বিশেষত চোখের দৃষ্টি কমে যাওয়া কারণে। তাই, তিনি পরিচালককে জানিয়ে দিয়েছেন যে, একদিনে ৬ ঘণ্টার বেশি কাজ করতে পারবেন না। এই শর্তে রাজি হয়ে পরিচালকও শ্যুটিংয়ের সময়সূচী সাজিয়েছেন যাতে তাকে ৬ ঘণ্টার বেশি কাজ করতে না হয়।

এটা নিয়ে কিছু প্রশ্ন উঠতে পারে, বিশেষত বয়সের কারণে কেন পরান বন্দ্যোপাধ্যায় এত দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিকে অভিনয় করতে চান? এর আগে অনেকেই বয়স হয়ে গেলে ধারাবাহিকে অভিনয় করতে চান না, কারণ এই ধরনের কাজ দীর্ঘমেয়াদী এবং একটানা চলে। তবে পরান বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজি হওয়ার পেছনে একটি কারণ রয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, এই প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে তার পুরনো সম্পর্ক রয়েছে। এর আগে তিনি এই সংস্থার অধীনে দুটি সিনেমা করেছেন, ‘কীর্তন’ এবং ‘কীর্তনের পর কীর্তন’, যা দর্শকরা ভালোভাবে গ্রহণ করেছে।

এই দুটি সিনেমার সফলতার পরেই প্রযোজনা সংস্থা সিদ্ধান্ত নেয় যে, সেই গল্প নিয়ে একটি ধারাবাহিক তৈরি করা হবে। ধারাবাহিকের গল্পের প্রতি তার আগ্রহ এবং এই প্রযোজনা সংস্থার সাথে পুরনো সম্পর্কের কারণে পরান বন্দ্যোপাধ্যায় রাজি হন ধারাবাহিকে কাজ করতে। তবে, তার শর্ত ছিল, কাজের সময় ৬ ঘণ্টার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে, যা পরিচালক মেনে নিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ “মমতা রাজ্যের শিল্প শেষ করেছেন, মোদী দেশকে বিক্রি করতে উঠেপড়ে লেগেছেন” একযোগে কেন্দ্র-রাজ্যকে আক্রমণ করলেন রাহুল গান্ধী! এই মন্তব্যে কি নতুন করে গরম হবে ভোটের লড়াই?

পরান বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সিদ্ধান্ত থেকে বোঝা যায়, বয়স বেড়ে গেলেও একজন অভিনেতার জন্য শখ এবং পেশা এখনও গুরুত্বপূর্ণ। তবে শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকায় তার জন্য কাজের পরিবেশ অবশ্যই আলাদা হতে হবে। এই ধরনের শর্ত দেওয়া একটি প্রাকৃতিক সিদ্ধান্ত, যেহেতু কোনো শিল্পী তার সক্ষমতার বাইরে গিয়ে কাজ করতে চায় না। এখন দেখার বিষয়, এই শর্তের মধ্যে কীভাবে ‘সংসারের সংকীর্তন’ ধারাবাহিকটি সাফল্যের শিখরে পৌঁছায়।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles