“মমতা রাজ্যের শিল্প শেষ করেছেন, মোদী দেশকে বিক্রি করতে উঠেপড়ে লেগেছেন” একযোগে কেন্দ্র-রাজ্যকে আক্রমণ করলেন রাহুল গান্ধী! এই মন্তব্যে কি নতুন করে গরম হবে ভোটের লড়াই?

পশ্চিমবঙ্গের ভোটের আবহ দিন দিন যেন আরও গরম হচ্ছে। রাজনৈতিক মঞ্চে একের পর এক নেতার আগমন, সভা-মিছিল, প্রতিশ্রুতি আর পাল্টা অভিযোগ সব মিলিয়ে রাজ্য জুড়ে এখন টানটান উত্তেজনা। ঠিক এই আবহেই মঙ্গলবার থেকে নিজের প্রচার অভিযান শুরু করলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। প্রথম জনসভাতেই তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে গেল, এবার তিনি শুধু একদলকে নয়, একসঙ্গে একাধিক শক্তিকে নিশানায় রাখতে চলেছেন। কিন্তু তাঁর কথার আসল বার্তা কী, সেটাই এখন চর্চার কেন্দ্রবিন্দু।

রায়গঞ্জের সভা থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুরুতেই রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গে যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে সরাসরি বা পরোক্ষে লাভবান হচ্ছে বিজেপি। তাঁর দাবি, রাজ্যের শাসকদল যদি নিজেদের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করত, তাহলে এই পরিস্থিতি তৈরি হতো না। এখানেই তিনি আক্রমণের সুর চড়িয়ে বলেন, রাজ্যে হিংসা ও অশান্তির পরিবেশই অন্য শক্তির জন্য সুযোগ তৈরি করছে।

এরপরই তিনি সরাসরি তোপ দাগেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর দিকে। তাঁর অভিযোগ, একসময় শিল্পে সমৃদ্ধ এই রাজ্য আজ পিছিয়ে পড়েছে। ছোট-বড় কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া, কর্মসংস্থানের অভাব—এই সব বিষয় তুলে ধরে তিনি প্রশ্ন তোলেন, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কতটা কাজ হয়েছে। বেকারত্বের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, লক্ষ লক্ষ যুবক আজও কাজের অপেক্ষায়। শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তবে কতটা উন্নতি হয়েছে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধেও সরব হন তিনি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-কে নিশানা করে তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতি ও শিল্পক্ষেত্রের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিদেশনীতি, বাণিজ্য চুক্তি, এমনকি দেশের তথ্য নিরাপত্তা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, দেশের স্বার্থের চেয়ে অন্য বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনে। ছোট ও মাঝারি শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়েও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুনঃ “ছদ্মবেশে ঢুকে ৪০ দিনের নজরদারি!” TCS অফিসে কী ভয়ং*কর চক্র ফাঁস করল মহিলা পুলিশ? কর্পোরেট দুনিয়ার আড়ালে লুকিয়ে ছিল কোন অন্ধকার সত্য?

সবশেষে তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে আরও তীব্র অভিযোগ। দুর্নীতি, চিটফান্ড কেলেঙ্কারি, সিন্ডিকেট রাজ এই সব ইস্যুতে তিনি রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করেন, আবার ভোট প্রক্রিয়া নিয়েও বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, দেশের নানা প্রান্তে ভোট নিয়ে অনিয়ম হয়েছে। তবে এই সমস্ত অভিযোগের মাঝেই তাঁর মূল বার্তা ছিল স্পষ্ট রাজ্যে এবং দেশে পরিবর্তনের জন্য কংগ্রেসকেই বিকল্প হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা। আর সেই কারণেই প্রথম সভা থেকেই তিনি একযোগে আক্রমণের পথ বেছে নিলেন, যা আগামী দিনে রাজনীতির লড়াইকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles