তিনি অভিনেত্রী। একেবারে খোদ বলিউডের। স্পটলাইটের আলোয় থাকা তাঁর স্বভাবজাত। গ্ল্যামার ঝরে পড়ছে সর্বত্র! কিন্তু একটি ঘটনায় হঠাৎ করেই এই চকচকে জীবন বদলে ম্যাড়মেড়ে হয়ে গেছে বলিউড অভিনেত্রী এবং প্রয়াত অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের (Sushant Singh rajput) বিতর্কিত বান্ধবী রিয়া চক্রবর্তীর (Rhea chakravarti)।
বলিউড অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর তদন্তে মাদক মামলায় জড়িয়ে গেছেন রিয়া চক্রবর্তী। প্রায় এক মাস এর কাছাকাছি সুখের জীবন ছেড়ে থেকেছেন সংশোধনাগারে। আর যথারীতি সংশোধনাগারের পরিবেশ বাড়ির আরামদায়ক, আনন্দময়, নয়। যেকোনও স্বাভাবিক জীবন-যাপনে অভ্যস্ত মানুষের কাছেই সংশোধনাগার অত্যন্ত কষ্ট দায়ক। যে লাইফ স্টাইলে অভ্যস্ত রিয়া তার সিকিভাগ সুবিধাও তিনি পাননি বাইকুল্লা জেলে।
এমনটাই জানিয়েছেন রিয়ার আইনজীবী সতীশ মাণশিন্দে। তার কথায়, “জেলে আমি রিয়ার সঙ্গে দেখা করতে যেতাম। বহু বছর বাদে আমি নিজে ব্যক্তিগতভাবে জেলে কোনও মক্কেলের সঙ্গে জেলে দেখা করতে গেলাম। ও জেলের ভিতর কী অবস্থায় রয়েছে সেটা নিজের চোখে দেখতে চেয়েছিলাম। দেখে ভাল লাগত, এত কিছুর পরও ভেঙে পড়েননি রিয়া। পজিটিভ থাকতেন। নিজের খেয়াল রাখতেন।” অভিনেত্রী হওয়ার সুবাদে কোনওরকম আলাদা সাহায্য তিনি পাননি জেল কর্তৃপক্ষের তরফে। মেঝেতেই ঘুমাতেন এবং অন্যানদের মতন ডাল-রুতি-ভাত খেতেন।
জানা গেছে জেলে থাকাকালীন নিয়মিত যোগাসন অভ্যাস করতেন রিয়া চক্রবর্তী। নিজেই শুধু করতেন এমনটা নয়। বাকিদেরও এই একই পাঠ দিতেন। সতীশ মাণশিন্দে (Satish Manshinde) জানান, জেলে নিজের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে নিয়মিত যোগা করতেন রিয়া। জেলের অন্যান্য আবাসিকদের জন্যে নিয়মিত যোগাসনের ক্লাসও নিতেন রিয়া।
সতীশ মাণশিন্দে এও জানান, “ছোটবেলা থেকেই সেনা বাহিনীর পরিবেশে বড় হয়ে ওঠার কারণে, যে-কোনও প্রতিকূল পরিস্থিতিতে মাথা ঠাণ্ডা করে লড়াই করার ক্ষমতা ও ধৈর্য আছে রিয়ার। যাঁরা ওঁর দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন, ইমেজ নষ্ট করার চেষ্টা করেছেন, তাঁদের প্রত্যেকের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত রিয়া।”
২৮ দিন জেলে কাটানোর পর ১লক্ষ টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে সই করে জামিন পেয়েছেন অভিনেত্রী রিয়া চক্রবর্তী। কিন্তু এই মাদক মামলায় জড়িত অভিযোগে তার ভাই সৌভিক চক্রবর্তী এখনও সংশোধনাগারেই রয়েছেন।





