সুশান্ত সিং রাজপুতের (Sushant Singh Rajput) অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে যিনি রয়েছেন তিনি হলেন তার বান্ধবী রিয়া চক্রবর্তী (Rhea Chakraborty)। দীর্ঘ সাত বছরে অভিনয় কেরিয়ার একদম তলানিতে ঠেকলেও বর্তমানে তাকে ঘিরে যেভাবে টানা তিন মাস ধরে মিডিয়া কভারেজ চলছে তাতে রিয়াকে নিয়ে মানুষের আগ্রহ তুঙ্গে উঠেছে। রিয়া ছোটবেলায় কোথায় পড়তেন থেকে শুরু করে রিয়া কী কী সিনেমায় কখন অভিনয় করেছেন সেসব নিয়ে ক্রমাগত চর্চা চলেছে সংবাদমাধ্যমে এবং মানুষ গুগল সার্চ করেও দেখেছেন।
ফলে এই সুযোগকে কাজে লাগাতে আগ্রহী বেশকিছু বলিউড পরিচালক প্রযোজক। এবার বলিউডের বর্তমানে মাদক যোগ নিয়ে যে হই হই কান্ড চলছে তার সূত্রপাত রিয়ার ড্রাগ চ্যাট ধরে, সেই বিষয়কে লক্ষ্য রেখে সিনেমা (Biopic) বানাতে চলেছেন কিছু পরিচালক, এমনটাই খবর মিলল সর্ব ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম সূত্রে।
শুধু তাই নয় রিয়ার বায়োগ্রাফিও নাকি লেখা হতে চলেছে সেই নিয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে একটি নামী প্রকাশনা সংস্থা। এক্ষেত্রে সেই প্রকাশনা সংস্থা চাইছে রিয়া নিজের জীবন নিজে লিখুন অর্থাৎ রিয়াকে আত্মজীবনী (Autobiography) লেখার জন্য অনুরোধ করতে চলেছে এই সংস্থা।
অন্যদিকে ভারতে বর্তমানে সবথেকে চর্চিত এই মামলাটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক মিডিয়াতেও। আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটিশ যুক্তরাজ্য সব জায়গা থেকেই জাস্টিস ফর সুশান্ত রব উঠেছে।
আবার অন্যদিকে বলিউডের বেশ কিছু সেলিব্রিটি রিয়ার উপর যেভাবে মিডিয়া ট্রায়াল এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় আক্রমণ চলছে তাকে নিন্দা করে জাস্টিস ফর রিয়া ক্যাম্পেইন শুরু করেছেন। তাদের দাবি রিয়া এখনও বিচার ব্যবস্থায় দোষী সাব্যস্ত হননি কিন্তু যেভাবে তাকে নিয়ে টানাহেঁচড়া করছে সকলে তা ভারতীয় গণতন্ত্রের পক্ষে ক্ষতিকারক। এই সেলিব্রিটিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন বিদ্যা বালান, সোনাম কাপুর, শিবানি দান্দেকার, ফারহান আখতার প্রমুখ।
গত ৬ই সেপ্টেম্বর সুশান্ত সিং রাজপুতের অস্বাভাবিক মৃত্যু মামলার সঙ্গে জড়িত মাদকচক্র যোগে এনসিবি রিয়াকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার করা হয় তার ভাইকেও। বর্তমান রিয়া বাইকুল্লা জেলে বন্দী রয়েছেন। বারংবার আদালতে জামিনের আবেদন করলেও তাদের আবেদন খারিজ হয়ে যায় এবং আগামী ৬ই অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াকে জেল হেফাজতেই থাকতে হবে। যদিও আগামীকাল বম্বে হাইকোর্টে তাদের জামিনের আবেদনের ফের শুনানি রয়েছে যেখানে রিয়া আবেদনে লিখেছেন যে তিনি নির্দোষ। সুশান্ত নিজের ড্রাগের অভ্যাসকে চালিয়ে যাওয়ার জন্য আমাকে ব্যবহার করেছে। খুব বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে কোনওরকম ইলেকট্রনিক এভিডেন্স রাখেনি নিজের এই চক্রে জড়িত থাকার। ও নিজের আশেপাশের মানুষদের ফায়দা তুলেছে যেটা খুব দুর্ভাগ্যজনক।





