একসময় কাজের প্রয়োজনে রোগা হওয়ার জন্য শরীরের উপর যথেষ্ট চাপ দিতেন ঋতাভরী চক্রবর্তী। কোনও ছবির শুট বা ফোটোশুটের আগে প্রায় দু’সপ্তাহ কার্বোহাইড্রেট, চিনি, তেল-নুন খাওয়া বন্ধ করে দিতেন অভিনেত্রী। দ্রুত ওজন কমলেও পরে বুঝেছিলেন, এমনভাবে শরীরকে নিয়ন্ত্রণ করার ফল খুব একটা ভালো নয়। বরং সেই অতিরিক্ত রোগা চেহারার সময়েই শরীর ভেঙে পড়েছিল তাঁর। এরপর একের পর এক অস্ত্রোপচার, ওষুধ, স্টেরয়েড ও অ্যান্টিবায়োটিকের কারণে ওজন বাড়তে থাকে। সম্প্রতি সেই বাড়তি ওজন থেকে প্রায় ১৮ কেজি ঝরিয়ে ফেলেছেন অভিনেত্রী। তবে তাঁর এই বদল কোনও চটজলদি ডায়েটের ফল নয়, বরং দীর্ঘ সময় ধরে নিয়ম মেনে চলার ফল।
ঋতাভরী জানিয়েছেন, প্রায় দেড় বছর আগে নিজের শরীরকে নতুন করে ফিট করে তোলার সিদ্ধান্ত নেন। লক্ষ্য ছিল শুধু রোগা হওয়া নয়, বরং এমন জায়গায় পৌঁছনো যেখানে খাওয়াদাওয়া একেবারে বন্ধ করতে হবে না এবং সিঁড়ি দিয়ে উঠলেও হাঁপ ধরে যাবে না। সেই লক্ষ্যেই ধীরে ধীরে বদল আনেন নিজের জীবনযাত্রায়। ওজন কমানোর পথে কোনও ওষুধের সাহায্য নেননি তিনি। বরং পুষ্টিবিদ, এন্ডোক্রিনোলজিস্ট এবং অন্যান্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েই এগিয়েছেন। দীর্ঘ দেড় বছরে প্রায় ১৮ কেজি ওজন কমেছে তাঁর। অভিনেত্রীর মতে, এই গোটা যাত্রায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল ধৈর্য এবং নিজের শরীরকে বোঝা।
তাঁর দিনের শুরু হয় ডাবের জল দিয়ে। প্রাতরাশে থাকে একটি গোটা ডিম, তিনটি ডিমের সাদা অংশ, মাখন মাখানো এক টুকরো পাউরুটি এবং একটি কলা। গলব্লাডার বাদ যাওয়ার পর থেকে খালি পেটে চা-কফি খাওয়ার অভ্যাসও ছেড়ে দিয়েছেন। শরীরচর্চার ক্ষেত্রেও শুরু থেকেই কঠিন নিয়ম চাপিয়ে দেননি নিজের উপর। প্রথম দিকে দিনে প্রায় ৬ হাজার পা হাঁটতেন। ধীরে ধীরে সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১০ হাজার। বাড়িতে জিমের ব্যবস্থা থাকায় সেখানেই নিয়মিত ব্যায়াম করেন। কাজের দিনে প্রায় ৩৫ মিনিট এবং ছুটির দিনে আরও কিছুটা বেশি সময় শরীরচর্চা করেন। প্রতিদিন এক ঘণ্টা কঠোর ব্যায়াম করতেই হবে, এমন ধারণায় বিশ্বাসী নন অভিনেত্রী।
খাওয়াদাওয়ার ক্ষেত্রেও একেবারে পছন্দের সব খাবার বাদ দেননি ঋতাভরী। দুপুরে কখনও মটন স্টু ও ব্রাউন রাইস, আবার কখনও রোস্টেড চিকেন, কাবলিছোলার ডাল এবং রুটি খান। সঙ্গে থাকে স্যালাড। বিকেলের খিদে মেটাতে শুধু তথাকথিত ‘ডায়েট ফুড’-এর উপর নির্ভর করেন না। আলুসেদ্ধ, ছোলাসেদ্ধ দিয়ে তৈরি চাট, চুরমুর, মুড়িমাখা কিংবা ভুট্টার চাটও তাঁর খাবারের তালিকায় থাকে। রাতের খাবারে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ কমিয়ে দেন। তবে সপ্তাহে একদিন নিজের পছন্দের খাবারও রাখেন। রবিবার আধ প্লেট মটন বিরিয়ানি খাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ ‘কত ভালো, ম্যাচিওরড আর…’, দেবের প্রশংসায় পঞ্চমুখ শুভশ্রী, পাশে বসে লজ্জায় লাল নায়ক
ঋতাভরীর মতে, ওজন কমানোর সঙ্গে সঙ্গে শরীরের শক্তি এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন ফিরিয়ে আনাটাই ছিল আসল লক্ষ্য। একসময় যেখানে ফিট থাকার জন্য অত্যন্ত কম খেতেন, এখন সেখানে পরিমিত খাবার এবং নিয়মিত শরীরচর্চাকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন। বর্তমানে সাধারণত প্রায় ১৫০০ ক্যালোরির খাবার খাওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। পুজোর আগে তাই আরও নিয়ম মেনে শরীরচর্চা করছেন অভিনেত্রী। তবে উদ্দেশ্য শুধু রোগা হয়ে যাওয়া নয়। বরং পুজোর সময় নিজের পছন্দের খাবার উপভোগ করার জন্যই এখন থেকে নিয়ম মেনে চলছেন তিনি। তাঁর এই দীর্ঘ যাত্রা তাই দ্রুত ওজন কমানোর বদলে ধীরে, নিজের শরীরের কথা বুঝে ফিট থাকার দিকেই জোর দেয়।






