ছয়দিন লড়াইয়ের পর অবশেষে ভেন্টিলেশন মুক্ত অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা শর্মা। তবে এখনও পুরোপুরি জ্ঞান ফেরেনি তাঁর। শারীরিক পরিস্থিতি এখন আগের থেকে অনেকটা ভালো, জানালেন সব্যসাচী চৌধুরী।
গত মঙ্গলবার আমকাই ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা শর্মা। ব্রেন স্ট্রোকের ফলে তাঁর মাথায় রক্ত জমাট বেঁধে গিয়েছে। সেদিন রাতেই অস্ত্রোপচার হয় ঐন্দ্রিলার। সেদিন থেকে কোমায় রয়ছেন তিনি। মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের পর নিউরো আইসিইউ-তে ভর্তি রয়েছেন তিনি। সবসময় তাঁকে আগলে রাখছেন সব্যসাচী। গতকাল, বৃহস্পতিবার সকালে অভিনেতা সৌরভ দাস ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছিলেন, “আমি আর দিব্য সব্যসাচীর সঙ্গে শুরু থেকে রয়েছি। তবে ফোন তোলার মতো পরিস্থিতি নয় এখন। সঠিক সময় সব্য ঠিক জানিয়ে দেবে, যেমনটা ও সবসময় করে আসছে”।
এবার ঐন্দ্রিলার ভেন্টিলেশন-মুক্ত হওয়ার খবর দিয়ে সব্যসাচী ফেসবুকে লিখলেন, “হাসপাতালে ছয় দিন পূর্ণ হল আজ, ঐন্দ্রিলার এখনও পুরোপুরি জ্ঞান ফেরেনি। তবে ভেন্টিলেশন থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছে, শ্বাসক্রিয়া আগের থেকে অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে, রক্তচাপও মোটামুটি স্বাভাবিক। জ্বর কমেছে। ওর মা যতক্ষণ থাকে, নিজের হাতে ওর ফিজিওথেরাপি করায়, যত্ন নেয়। বাবা আর দিদি ডাক্তারদের সাথে আলোচনা করে। সৌরভ আর দিব্য রোজ রাতে আমার সাথে হাসপাতালে থাকতে আসে। আর আমি দিনে তিনবার করে গল্প করি ঐন্দ্রিলার সাথে। গলা চিনতে পারে, হার্টরেট ১৩০-১৪০ পৌঁছে যায়, দরদর করে ঘাম হয়, হাত মুচড়িয়ে আমার হাত ধরার চেষ্টা করে। প্রথম প্রথম ভয় পেতাম, এখন বুঝি ওটাই ফিরিয়ে আনার এক্সটার্নাল স্টিমুলি”।
ঐন্দ্রিলার এই অসুস্থতার সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে নিয়ে নানান ধরণের পোস্ট দেখে বিরক্ত সব্যসাচী। এই নিয়ে তিনি লেখেন, “আমার আজকাল কিছুই লিখতে ইচ্ছা করে না, কিন্তু আজ কিছু মানুষের বর্বরতার নমুনা দেখে লিখতে বাধ্য হলাম। ইউটিউবের কল্যাণে কয়েকটা ভুয়ো ভিডিও আর ফেক্ থাম্বনেল বানিয়ে পয়সা রোজগার করা অত্যন্ত ঘৃণ্য মানসিকতার কাজ বলে আমি মনে করি, সেটা যে ওর বাড়ির লোকের মনে কেমন প্রভাব ফেলে তা হয়তো আপনারা বুঝবেন না”।
সব্যসাচী আশাবাদী হয়ে আরও জানিয়েছেন যে ঐন্দ্রিলা ঠিক সুস্থ হয়ে উঠবেনই। তাঁর কথায়, “আমার চোখে ওর স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটেনি, অবনতি ঘটেছে মানবিকতার। ‘ভালো আছে’ বলতে আমার ভয় লাগে, কিন্তু ঐন্দ্রিলা আছে। প্রচণ্ডভাবে আছে। আমার সামনে শুয়ে থেকেও হয়তো কয়েক সহস্র মাইল দূরে আছে কিন্তু ঠিক ফিরে আসবে। ওর একা থাকতে বিরক্ত লাগে”।





