‘দেশে আর শান্তি খুঁজে পাই না!’ মন্তব্য সঞ্জয় দত্তের! পকেটে a’k-47 থাকলে শান্তি পাওয়া যায় না! অভিনেতাকে আয়না দেখালো নেট পাড়া

বলিউড অভিনেতা সঞ্জয় দত্তের একটি মন্তব্য ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে আলোচনা। সম্প্রতি অভিনেতা হাজির হয়েছিলেন শেখর সুমনের টক শো ‘Shekhar Tonite’-এ। গান্ধী জয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ এই পর্বে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নিজের মনের কথা জানান সঞ্জয়। অভিনেতার কথায়, দেশের মানুষ অত্যন্ত ভালো মনের, উদার এবং অতিথিপরায়ণ। কিন্তু বর্তমানে ভারতে তিনি সেই আগের মতো শান্তির অনুভূতি পাচ্ছেন না। এরপরই ভগবান শিবের কাছে প্রার্থনা করেন তিনি, যাতে সেই সময় আবার ফিরে আসে। সঞ্জয়ের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই তা নিয়ে সমাজমাধ্যমে শুরু হয় বিস্তর আলোচনা।

শোয়ে সঞ্জয় বলেন, দেশের মানুষের মধ্যে উদারতা এবং অতিথিপরায়ণতার মতো গুণ রয়েছে, তাই দেশে শান্তি থাকা উচিত। কিন্তু তাঁর নিজের অনুভূতি অনুযায়ী, এখন আর সেই শান্তি খুঁজে পাচ্ছেন না তিনি। সেই প্রসঙ্গেই শিবের কাছে প্রার্থনার কথা জানান অভিনেতা। তবে তিনি ঠিক কোন সময়ের কথা বলছেন বা কোন পরিস্থিতিকে শান্তির সময় হিসেবে উল্লেখ করছেন, তা স্পষ্ট করেননি। আর এই জায়গা থেকেই তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। তাঁর বক্তব্যের পর সমাজমাধ্যমে কেউ তাঁর মন্তব্যের সঙ্গে সহমত জানিয়েছেন, আবার কেউ জানতে চেয়েছেন, সঞ্জয় দত্ত কোন ‘আগের সময়’-এর কথা বলছেন। ফলে একটি সাধারণ কথোপকথন থেকেই তৈরি হয়েছে যথেষ্ট কৌতূহল।

এরপর অনুষ্ঠানের অন্য একটি অংশে আরও অন্য মেজাজে দেখা যায় সঞ্জয়কে। তাঁকে কল্পনা করতে বলা হয়, যদি পাঁচ মিনিটের জন্য তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী হতেন, তাহলে দেশবাসীর উদ্দেশে কী বলতেন? সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে নিজের জনপ্রিয় ‘মুন্নাভাই’ চরিত্রের ভঙ্গিতে কথা বলেন অভিনেতা। মহাত্মা গান্ধীর তিন বাঁদরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, খারাপ কিছু দেখা, শোনা বা বলা থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি ভুল কিছু দেখলে সেটি ঠিক করার দায়িত্বও নিতে হবে। এই অংশে তাঁর কথায় ছিল রসিকতা এবং ব্যঙ্গের মিশেল। রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয়কে নিজের সিনেমার পরিচিত চরিত্রের ধাঁচে তুলে ধরেন তিনি।

সঞ্জয়ের এই বক্তব্যের কিছু অংশ প্রকাশ্যে আসার পর অবশ্য সমাজমাধ্যমে বিতর্ক তৈরি হয়। তাঁর ‘ভারতে শান্তি অনুভব করি না’ মন্তব্য নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বিষয়টি নিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার পর অভিনেতা নিজেই নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেন। ৪ অক্টোবর এক বিবৃতিতে তিনি জানান, তাঁর মন্তব্যের উদ্দেশ্য কোনও ব্যক্তি, সম্প্রদায় বা প্রতিষ্ঠানকে আঘাত করা কিংবা অসম্মান করা ছিল না। তাঁর দাবি, পুরো কথোপকথনটি আগে থেকে তৈরি একটি স্ক্রিপ্টেড, হালকা ও হাস্যরসাত্মক পর্বের অংশ ছিল। ‘মুন্নাভাই’ ছবির ব্যঙ্গ এবং ‘গান্ধীগিরি’র ভাবনার মতো করেই সেখানে ভালোবাসা, উষ্ণতা, একতা ও সৌহার্দ্যের বার্তা দেওয়াই উদ্দেশ্য ছিল বলে জানান তিনি। তাঁর কথাগুলি সেই প্রেক্ষাপটের বাইরে গিয়ে ব্যাখ্যা করা হয়েছে বলেও স্পষ্ট করেন সঞ্জয়।

আরও পড়ুনঃ দেব-শুভশ্রীর রসায়নে যখন টলিপাড়া সরগরম, তখনই স্ত্রীকে নিয়ে রাজের তুলকালাম করা পোস্ট! কি লিখলেন তিনি?

অর্থাৎ, প্রথমে দেশের পরিস্থিতি নিয়ে সঞ্জয়ের মন্তব্য ঘিরে যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল, পরে তাঁর ব্যাখ্যায় সামনে এল সম্পূর্ণ অন্য একটি দিক। তিনি নিজের বক্তব্যকে ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অবস্থান হিসেবে না দেখে অনুষ্ঠানের নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটের অংশ হিসেবেই দেখতে বলেছেন। তবে তাঁর ‘শান্তি’ মন্তব্যটি ইতিমধ্যেই নেটদুনিয়ায় যথেষ্ট আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ‘মুন্নাভাই’-এর পরিচিত হাস্যরসের আড়ালে দেশের পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর কথাগুলি কতটা আলাদা ভাবে নেওয়া হল, আর কেনই বা শিবের কাছে ‘সেই দিনগুলি’ ফিরে আসার প্রার্থনা করলেন তিনি, তা নিয়েই এখন চর্চা তুঙ্গে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর