‘কালীঘাট থেকে ফোন আসছে, নায়ক-নায়িকারা প্রচারে চলে যাচ্ছেন’, সিরিয়ালের শুটিং বন্ধ হওয়ার কারণ নিয়ে রাজনীতিকেই দুষলেন ‘কৃষ্ণকলি’ খ্যাত অভিনেত্রী শর্বরী মুখার্জি

Sharbari Mukherjee: ইন্ডাস্ট্রির অভিনেতা-অভিনেত্রীদের রাজনীতির ময়দানে যোগ দেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। তবে এই অভিনেতা-অভিনেত্রীরাই বহু জায়গায় ভুল কিছু মন্তব্য করে বসছেন। সেই মন্তব্য কখনো হয়ে উঠছে হাস্যকর আবার কখনো কটুক্তির। বারবার শাসকদানের তরফে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের টিকিট দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলরা। এ প্রসঙ্গে বরাবর সরব থেকেছেন রুদ্রনীল ঘোষ। এবার বিজেপি নেত্রী শর্বরী মুখার্জি (Sharbari Mukherjee) অভিনেতা-অভিনেত্রীদের রাজনীতিতে আসা নিয়ে কথা বললেন। তিনি বলেছেন, সিরিয়ালে শুটিংয়ে কাজ‌ বাধা প্রাপ্ত হত। ‌

অভিনেত্রী শর্বরী মুখার্জির (Sharbari Mukherjee) কথায়, “পশ্চিমবঙ্গে এই মুহূর্তে শাসক দল যে পরিস্থিতিতে রয়েছে, আমি ২০২১ সালের বিধানসভায় দেখেছিলাম সিরিয়ালগুলোর শুটিং বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। কারণ নায়ক আর নায়িকার ফোন আসছে কখনও কালীঘাট থেকে কখনও হরিশ মুখার্জি থেকে। নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে প্রযোজককে পরিচালককে এক্ষুনি নায়ক-নায়িকাকে ছাড়তে হবে কারণ তারা প্রচারে অংশগ্রহণ করবেন। প্রযোজক পরিচালক মাথার চুল ছিঁড়ছেন। এমনও দেখেছি যে জেতার পর তৃণমূল নেতারা শুটিং ফ্লোরে ঢুকে যাচ্ছেন। মহিলা শিল্পীদের মেকআপ রুমে ঢুকে যাচ্ছেন তাদের সাথে সেলিব্রেশন করতে। অভিনেতা অভিনেত্রীরা লোভের শিকার হচ্ছেন। এই লোভের বাতাবরণ তৈরি করেছে তৃণমূল কংগ্রেস।”

অভিনেতা অভিনেত্রীরা রয়েছে অভিনয় করার জন্য। তাদের রাজনীতির ময়দানে ডেকে আনা মোটেই পছন্দ নয় বিরোধীদলের। তবে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনে তরুপের তাস করা হয়েছিল তারকা প্রার্থীদের। ইন্ডাস্ট্রি ছেড়ে অভিনেতা-অভিনেত্রীরা রাজনীতির ময়দানে নামছেন। ‌এই প্রসঙ্গে রুদ্রনীল বলেছেন, শিল্পীদের ভূমিকা চিরকাল ছিল, আছে। তৃণমূল পছন্দ করে এমন শিল্পী, নুসরাত জাহান কিংবা রচনা ব্যানার্জীর মত শিল্পীদের, যারা সমাজ সম্পর্কে কম জানেন। তৃণমূল সেইসব অভিনেতা-অভিনেত্রীদের টিকিট দেন না যারা নিজের কাজের পাশাপাশি সমাজের অন্যান্য মানুষদের দুঃখ কষ্ট বুঝবে। সমাজের নিয়মকানুন জানেন, এমন লোকেদের টিকিট দেওয়া হয় না। এমন লোকেদের টিকিট দিলেই তারা ভালোভাবে কাজ করবে।

অভিনেতা অভিনেত্রীদের রাজনীতির ময়দানে নেমে অকপট অস্বস্তিকর মন্তব্য মোটেই পছন্দ করেন না রুদ্রনীল ঘোষ। এ প্রসঙ্গে তিনি বলছেন, ” রচনা দি আমার প্রফেশনের সিনিয়র অভিনেত্রী। উনি বলছেন ভোটে জিতলে আমি সবাইকে দিদি নাম্বার ওয়ানে নিয়ে যাব। উনি কি ভোটে দাঁড়িয়েছেন দিদি নাম্বার ওয়ানে নিয়ে যাওয়ার জন্য। ওনার কথায় স্পষ্ট, একজন সাংসদ হিসেবে ওনার কেন্দ্রে কি কি সমস্যা তিনি জানেন না। ‌ তৃণমূল জানায়নি আর তারও জানবার ইচ্ছা হয়নি। ‌ সাংসদ হিসেবে তার কি কর্তব্য এবং হুগলিতে কি কি প্রয়োজন তা তিনি জানেন না। ‌ তাই এসব ধোঁয়া ধোঁয়া কথা বলে উনি নিজে ট্রোল হচ্ছেন।”

কেন রাজনীতির ময়দানে নিয়ে আসা হয় অভিনেতা-অভিনেত্রীদের এ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে রুদ্রনীল বলছেন, “সিপিএমের হয়ে দাঁড়িয়েছে দেবদূত ঘোষ, আরো অনেকেই দাঁড়িয়েছে। সমস্যা হয়েছে মিডিয়া মিমি, নুসরতদের দেখাতে বেশি পছন্দ করছে। এদের মুখ দিয়ে যখন কোন মন্তব্য বেরিয়ে আসছে তখন সবাই হাসছে। ভাবছে সব শিল্পীরাই এমন। এমন নয় যে আমাকে রাজনীতি করতে গেলে ২৪ ঘন্টা রাজনীতির ভাত খেতে হবে। রাজনীতি একজন কৃষক করবেন ভাই, মা-বোনেরা, সকলে করবেন। সোসাইটির সবাই মিলে এসে যখন রাজনীতি করবেন, তবে রাজনীতি সমৃদ্ধ হবে। সব পেশার মানুষটা যদি রাজনীতিতে থাকে তবেই বলতে পারবে তার পেশার অসুবিধাগুলো কি কি। তারাই বলতে পারবে মানুষকে কিভাবে সরকার ভালো রাখতে পারবে। এই কারণে সকল পেশার মানুষদের নিয়ে আসা হয় রাজনীতির ময়দানে।”

আরও অন্যান্য খবর