সোনার দোকান নয়, এবার দুঃসাহসিক ডাকাতি বেলুড়ের মন্দিরে, ঠাকুরের সোনা গয়না লুট করে পালাল চোর, তদন্তে পুলিশ

বেলুড়ে মন্দিরে চুরির ঘটনায় মূল্যবান গয়না চুরি হয়েছে। এই ঘটনায় স্থানীয় মানুষদের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। চাঁদমারী নেতাজি নগরে অবস্থিত এই মন্দিরে বৃহস্পতিবার মাঝরাতে হানা দেয় চোরেরা। রাতের অন্ধকারে মন্দিরের ভিতরে ঢুকে গয়না নিয়ে পালিয়ে যায়। ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই মন্দির। মন্দির কর্তৃপক্ষ সকালে নিয়মিত পরিদর্শনের সময় চুরির ঘটনাটি বুঝতে পারে। চুরি হওয়া জিনিসগুলির মধ্যে রয়েছে সোনা এবং রুপার গয়না, যা মন্দিরের মূর্তি সাজানোর জন্য ব্যবহার হত। এই গয়নাগুলির আর্থিক মূল্য ছাড়াও ভক্তদের জন্য বিরাট আবেগপ্রবণ এবং আধ্যাত্মিক গুরুত্ব ছিল।

স্থানীয় পুলিশকে তৎক্ষণাৎ খবর দেওয়া হয় এবং চোরেদের ধরার জন্য তদন্ত শুরু হয়। পুলিশ কর্তৃপক্ষ সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করছে এবং ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করছে। পুলিশ আশাবাদী যে তারা শীঘ্রই চোরদের খুঁজে বের করতে এবং চুরি হওয়া জিনিসগুলি পুনরুদ্ধার করতে পারবে।এই ঘটনাটি ধর্মীয় স্থানগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর গুরুতর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

Theft, belur, temple, ornaments, idol, চুরি, বেলুড়, চোর, মন্দির কর্তৃপক্ষ

ভক্ত এবং স্থানীয়রা ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধ করতে আরও কঠোর নিরাপত্তার দাবি জানাচ্ছে। মন্দির কমিটি আশ্বাস দিয়েছে যে তারা নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বাড়িয়ে তুলবে, যার মধ্যে আরও পর্যবেক্ষণ ক্যামেরা স্থাপন এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ করা হবে।এই প্রসঙ্গে, সেখানকার ওসি অনিরুদ্ধ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ফুটেজে দুষ্কৃতী হানা স্পষ্ট। ফলে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।

সম্প্রদায় নেতারা চুরির ঘটনাটির নিন্দা করেছেন, এটিকে অঞ্চলের সাংস্কৃতিক এবং আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের উপর আক্রমণ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তারা জনসাধারণকে সতর্ক থাকতে এবং সন্দেহজনক কার্যকলাপ কর্তৃপক্ষকে রিপোর্ট করার আহ্বান জানিয়েছেন। পুলিশও চোরদের গ্রেপ্তারের জন্য তথ্য জানতে চেয়ে জনসাধারণের কাছে আবেদন জানিয়েছে। তারা আশ্বাস দিয়েছে যে তথ্যদাতাদের পরিচয় গোপন রাখা হবে। তদন্ত চলাকালীন, স্থানীয় সম্প্রদায় আশাবাদী যে ন্যায়বিচার পাওয়া যাবে এবং চুরি হওয়া গয়নাগুলি শীঘ্রই পুনরুদ্ধার করা হবে।

প্রায় পঞ্চাশ বছরের পুরনো এই মন্দিরটির দেখভালে যুক্ত রয়েছেন আরতি কর্মকার। তার কথায়,”নিয়মিত পুজো হয়, ভক্ত সমাগম হয়। মন্দিরে মা শীতলার পাশাপাশি শনিদেব রয়েছেন। ভক্তদের দেওয়া অনেক অলংকারে সজ্জিত ছিলেন দেবী। তা এভাবে চুরি হবে ভাবতে পারিনি।”

RELATED Articles