আজ বাংলা গানের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী অনুপম রায়ের জন্মদিন। এই বিশেষ দিনে সরোদবাদক প্রত্যুষ বন্দ্যোপাধ্যায় অনুপমের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত ও শিল্পী জীবনের কিছু অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। প্রত্যুষ জানান, প্রথমবার তিনি অনুপমকে শুনেছিলেন ছবির হিট গান “অটোগ্রাফ”-এ। তখন শুধু এই গানটি শুনেছিলেন এবং ব্যক্তিগতভাবে কখনো সাক্ষাৎ হয়নি। ২০১২ সালে ন্যাশভিলের বঙ্গমেলায় প্রথম দেখা হয়, যেখানে অনুপমের গান এবং প্রত্যুষের সরোদ এক সঙ্গে পরিবেশিত হয়। সেদিন দর্শকরা মূলত অনুপমের গান উপভোগ করতে এসেছিলেন এবং গান মুখস্থভাবে গাইছিলেন।
সেই অনুষ্ঠানে অনুপম ‘হেমলক সোসাইটি’ ছবির একটি গান তৈরি করেছিলেন। গানে কণ্ঠ দিয়েছিলেন লোপামুদ্রা মিত্র ও রূপঙ্কর বাগচী এবং সরোদ বাজানোর জন্য প্রত্যুষের সহায়তা প্রয়োজন হয়েছিল। প্রথম আলাপ এখানেই গড়ে ওঠে। প্রত্যুষ অনুপমের ভঙ্গিমা এবং মনোযোগে মুগ্ধ হন। গান শোনার সময় তিনি পুরোপুরি মনোযোগ দিয়ে বসতেন এবং পরে নিজে সরোদ গাড়িতে সংরক্ষণ করতেন। শিল্পী হিসেবে এমন বিনয়ী আচরণ খুবই বিরল, যা প্রত্যুষের কাছে প্রশংসনীয় মনে হয়েছে।
এরপর অনুপম প্রত্যুষের কাছে ফোন করে গান শেখার অনুরোধ করেন। যদিও তিনি গুরু নন, তবে রাগ, তাল এবং খামতি বোঝার জন্য সাহায্য করতে রাজি হন। প্রথমে প্রত্যুষ কিছুটা দ্বিধান্বিত ছিলেন, কিন্তু অনুপমের দৃঢ় মনোভাব দেখেই শেখানোর সিদ্ধান্ত নেন। অনুপম সহজাতভাবেই গান করেন এবং নতুন কিছু শিখতে সবসময় আগ্রহী থাকেন। নিজের অগ্রজ শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল মনোভাব এবং নিয়মিত অনুশীলন প্রত্যুষকে মুগ্ধ করেছে।
অনুপম শুধুমাত্র একজন প্রতিভাবান শিল্পী নন, বরং ধারাবাহিকভাবে শিখতে আগ্রহী একজন শিক্ষার্থীও। তিনি নিজের নামের জনপ্রিয়তা ভুলে নতুন কিছু শিখতে পারেন এবং সব কাজ আন্তরিকভাবে করেন। নতুন গান শেখা এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা তার নিয়মিত অভ্যাস। এই ধারাবাহিকতা এবং নতুন চেষ্টায় কখনও কোনো ক্ষয় ঘটে না। সিনেমায় বড় সুযোগ না পেলেও তিনি স্বাধীনভাবে গান নিয়ে গবেষণা ও পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছেন।
আরও পড়ুনঃ তালসারি সৈকতে ডুবে গেলেও প্রথমে বেঁচে ছিলেন রাহুল অরুণোদয়, পরে মৃ’ত্যু! মাঝের সময়ে কী ঘটেছে, জানালেন সহকর্মীরা!
প্রত্যুষ আরও উল্লেখ করেছেন, অনুপমের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা যেমন ‘পিকু’ ছবিতে স্মরণীয়, তেমনই অমিতাভ বচ্চনের ছবিতে সরোদ থিমের কাজও বিশেষ। এই সমস্ত কাজের মাধ্যমে অনুপমের সংগীত জগতে অবদান এবং শেখার আগ্রহ স্পষ্ট হয়েছে। তার নিয়মিত অনুশীলন, মেধা এবং আন্তরিকতা বাংলা গানের প্রেমীদের জন্য অনুপ্রেরণা। অনুপমের এই মনোভাব, শ্রদ্ধা এবং সততা তাকে বিশেষ স্থান দিয়েছে বাংলার সংগীত জগতে।





