বাংলা বিনোদন জগতের তারকা অভিনেতা-অভিনেত্রীদের নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ এখন আর শুধু তাঁদের অভিনয়, নতুন কাজ কিংবা ব্যক্তিগত জীবনেই সীমাবদ্ধ নেই। তাঁরা কোন রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাস করেন, কোন দল বা ভাবনাকে সমর্থন করেন, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে তাঁদের অবস্থান কী তা নিয়েও অনুরাগীদের কৌতূহল থাকে যথেষ্ট। আর কোনও তারকা যখন প্রকাশ্যে নিজের রাজনৈতিক চিন্তাভাবনা কিংবা সমসাময়িক পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করেন, তখন তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয় সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যেও। সম্প্রতি অভিনেত্রী শোলাঙ্কি রায়ের একটি সাক্ষাৎকারের এমনই কিছু বক্তব্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
ছোটপর্দা থেকে শুরু করে ওয়েব সিরিজ এবং সিনেমা বিভিন্ন মাধ্যমে নিজের অভিনয়ের ছাপ রেখেছেন শোলাঙ্কি রায়। ‘ইচ্ছে নদী’-র মেঘলা থেকে পাশাপাশি ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও তাঁকে দেখা গিয়েছে। ‘বাবা বেবি ও’-এর হাত ধরে বড়পর্দাতেও তাঁর যাত্রা শুরু হয়। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে পড়াশোনা করেছিলেন অভিনেত্রী। একটি পুরনো সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়ার সময়ই ‘কথা দিলাম’-এর লেখক তাঁকে লক্ষ্য করেন এবং অডিশনের সুযোগ দেন।
সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে রাজনৈতিক মতাদর্শ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে শোলাঙ্কি জানান, তিনি যাদবপুরের ছাত্রী এবং তিনি ‘আগাগোড়াই বামপন্থী’ ভাবনায় বিশ্বাসী। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়েও তাঁকে প্রশ্ন করা হয়। ভারতের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বর্তমানে কেমন এই প্রসঙ্গে তিনি সরাসরি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বদলে ‘রিলেশনশিপ’ শব্দটি ব্যবহার করে একটি রসিকতামূলক মন্তব্য করেন। তাঁর এই মন্তব্যকে কেউ কেউ বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির প্রতি কটাক্ষ হিসেবে দেখছেন। তবে সাক্ষাৎকারের ওই বক্তব্যের ভিত্তিতে তাঁর নির্দিষ্ট কোনও রাজনৈতিক দলকে উদ্দেশ্য করে মন্তব্য ছিল কি না, তা আলাদাভাবে স্পষ্ট করা হয়নি।
এরপরই পুরাণের চরিত্র নিয়ে শোলাঙ্কির মন্তব্য আরও বেশি নজর কাড়ে। অভিনেত্রী জানান, এই সময়ে দাঁড়িয়ে তাঁর রাবণকে বেশি ভালো লাগে। এর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, রাবণ কোনওদিন সীতাকে ‘টাচ’ পর্যন্ত করেননি। অর্থাৎ প্রচলিত রামায়ণ-কেন্দ্রিক বয়ানের বদলে রাবণের চরিত্রের একটি নির্দিষ্ট দিককে সামনে রেখে নিজের পছন্দের কথা জানিয়েছেন তিনি। একই প্রসঙ্গে রাবণকে ‘জেন্টলম্যান’ হিসেবেও উল্লেখ করেন অভিনেত্রী। তাঁর এই বক্তব্য নিয়েই ইতিমধ্যে দর্শকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নানা ধরনের আলোচনা।
আরও পড়ুন: “আমার মহাদেব জানেন, কাউকে শারীরিক বা মানসিক আ*ঘাত দিতে চাইনি!” মনামীর সঙ্গে দুর্ব্যবহারের জন্য প্রকাশ্যে হাতজোড় করে ক্ষমা চাইলেন জিতু কমল! ‘আজ আবার জিতুকে ভালো লাগল, অনুশোচনা যখন মন থেকে আসে, তার চেয়ে বড় প্রায়শ্চিত্ত আর কিছু হয় না’, ‘আমরা তো এই জিতুকেই চাই, জেনুইনলি নিজের ভুলটা বুঝতে পেরেছে’ এবার মন গলল দর্শকদের?
অভিনেত্রীর এই মন্তব্যগুলি মূলত তাঁর ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি ও ব্যাখ্যা হিসেবেই সামনে এসেছে। একজন অভিনেত্রী হিসেবে অভিনয়ের পাশাপাশি সমাজ, রাজনীতি এবং পুরাণের চরিত্র নিয়েও তিনি নিজের মত প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে রাবণকে নিয়ে তাঁর ব্যতিক্রমী ব্যাখ্যা যে সাধারণ প্রচলিত ধারণার থেকে আলাদা, তা বলাই যায়। ফলে সাক্ষাৎকারের এই অংশগুলি প্রকাশ্যে আসার পর শোলাঙ্কি রায়ের রাজনৈতিক চিন্তাভাবনা থেকে শুরু করে রামায়ণের চরিত্র নিয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি সবকিছু নিয়েই নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।






