তাঁর অভিনয় মানুষকে যেমন হাসিয়েছে তেমনই কাঁদিয়েছে। করেছেন নানা রকমের চরিত্র। কমেডিয়ান থেকে নায়ক আবার খলনায়ক সমস্ত চরিত্রেই অভিনয় করেছেন তিনি। তবে চরিত্র বাছার মত পরিস্থিতি কোনওদিনই ছিল না তাঁর। সংসার চালানোর জন্য যখন যেমন চরিত্র পেয়েছেন করেছেন। শুধু তো নিজের সংসার না, আত্মীয়-স্বজন বন্ধু-বান্ধব সহ অভিনেতা-অভিনেত্রী যখন যে বিপদে পড়েছে তার পাশে গিয়ে দাঁড়াতেন তিনি। গণনাট্য আন্দোলনের অন্যতম মুখ ছিলেন তিনি। একাধিক সামাজিক কাজেও যুক্ত ছিলেন এই অভিনেতা।
তিনি অভিনেতা সত্যেন দাস। তবে এই নামে কেউ চেনে না তাঁকে। বাঙালি তাকে চেনে অনুপ কুমার নামেই। চরিত্র যেমনই হোক না কেন অনুপ কুমার সেই অভিনয়কে নিয়ে গেছিলেন জলভাতের পর্যায়ে। এই অভিনয়ের জোরেই বাঙালির মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন অভিনেতা। সেই জন্যই হয়ত অন্যতম দিয়েও অভিনেতা ছিলেন পরিচালক তরুণ মজুমদারের। এমনকি তাঁর জন্য উত্তম কুমারকেও নিজের ছবি থেকে বাদ দিয়েছেন পরিচালক তরুণ মজুমদার।
শোনা যায়, ‘পলাতক’ ছবির জন্য অনুপ কুমারকেই নেবেন বলে তরুন মজুমদার বাদ দিয়ে দেন উত্তম কুমারকে। তবে ছবির প্রযোজকের ইচ্ছা ছিল উত্তম কুমারই অভিনয় করুক এই ছবিতে। গল্প শুনে চরিত্রটি পছন্দ হয়েছিল উত্তম কুমারেরও। কিন্তু তরুণ মজুমদার সবাইকে জানিয়ে দেন যে অনুপ কুমারকে মাথায় রেখেই এই ছবির চিত্রনাট্য লেখা হয়েছে। সেই জন্য পলাতকে আর অভিনয় করার হয়নি উত্তম কুমারের। পরবর্তীতে অনুপ কুমারের ‘পলাতক’ ছবি দারুন হিট হয়। প্রশংসা হয় অনুপ কুমারের অভিনয়ের।
পরবর্তীতে এর উল্টো ঘটনা ঘটতে দেখা যায় ‘অগ্রগামী’ ছবির ক্ষেত্রে। ছবির পরিচালক উত্তম কুমারের সঙ্গে অনুপ কুমারকেও ছবিতে নিতে চাইলে তাতে সাফ মানা করে দেন উত্তম কুমার। উত্তম কুমার নাকি বলেছিলেন ‘এই ছবিতে অনুপ কে নেওয়া যাবে না’।
উত্তম কুমারের আদেশ অমান্য করা পরিচালকের জন্য সম্ভব ছিল না। এই কথা নাকি শুনে বিশ্বাসই করতে পারেননি অনুপ কুমার। তবে কোনও ব্যক্তিগত সংঘাত ছিল না তাদের মধ্যে। ছিলেন কাছের বন্ধু। এই উত্তমকুমারই অনুপ কুমারকে নিজেই জায়গা করে দিয়েছিলেন ‘অ্যান্টনি কবিয়াল’ ছবিতে। বাংলা ছবির সোনালী সময়ের সম্পর্কগুলোও ছিল সোনালী রঙের।





