প্রথমে চীন বিরোধিতা, তারপরেই চীনা সংস্থার পুরস্কার গ্রহণ, বাঙালি নায়িকার ভোলবদলে হয়রান নেটিজেনরা

বর্তমানে গালওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চীনের বিবাদ নিয়ে সরগরম গোটা দুনিয়া। ভারত থেকে উঠেছে চীনা পণ্য বর্জনের ঝড়। তার উপর ভারত সরকার টিকটক, হেলো সহ ৫৯টি চীনা অ্যাপ ভারত থেকে বন্ধ করে দিয়েছে। চীনা দ্রব্য বর্জনের এই ডাকে সাড়া দিয়েছেন প্রচুর সেলিব্রিটি।

সম্প্রতি সেই ডাকে সাড়া দিয়ে চীনা সংস্থা হেলো আয়োজিত চলচ্চিত্র পুরস্কার উৎসবে সেরা অভিনেতার পুরস্কার গ্রহণ করলেন না জিৎ। কিন্তু ইন্ডাস্ট্রিরই একজন প্রথমসারির অভিনেত্রী প্রথমে সোশ্যাল মিডিয়ায় বললেন তিনি সব চাইনিজ অ্যাপ ডিলিট করে দিয়েছেন, তার পরেই হেলো থেকে যে পুরস্কার পাচ্ছেন সেটা গর্বের সঙ্গে ঘোষণা করলেন এবং গতকাল ইনস্টাগ্রামে হেলো থেকে দেওয়া ট্রফি ধরে সগর্বে শেয়ারও করলেন! তাঁর এই ক্ষণে ক্ষণে ভোলবদলে হতবাক নেটিজেনরা।

প্রথমে চীন বিরোধিতা, তারপরেই চীনা সংস্থার পুরস্কার গ্রহণ, বাঙালি নায়িকার ভোলবদলে হয়রান নেটিজেনরা

শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ের কথা হচ্ছে। শুভশ্রী বেশ কয়েকদিন আগে একজন ভারতীয় জওয়ানের একটি ভাইরাল ভিডিও যেখানে সেই জওয়ান চীনা দ্রব্য ব্যবহার করতে নিষেধ করছিলেন সেই ভিডিও ইনস্টাগ্রামে স্টোরিতে পোস্ট করেন। ক্যাপশন দেন, “আই হ্যাভ ডিলিটেড অল চাইনিজ অ্যাপস”।

প্রথমে চীন বিরোধিতা, তারপরেই চীনা সংস্থার পুরস্কার গ্রহণ, বাঙালি নায়িকার ভোলবদলে হয়রান নেটিজেনরা

পরের স্টোরিতেই তিনি হেলো থেকে যে পুরস্কার পাচ্ছেন সেরা অভিনেত্রীর এবং তাঁর অভিনীত পরিণীতা সিনেমা ১০টির মধ্যে ৬টি পুরস্কার ছিনিয়ে নিয়েছে সেটিরও গর্বিত পোস্ট দেন। যা দেখে অবাক হন নেটিজেনদের একাংশ। শনিবার রাতে তিনি দুটি ট্রফি নিয়ে পোস্ট দেন ইন্সটাগ্রামে। যেখানে ট্রফির গায়ে হেলোর লোগো ও নাম জ্বলজ্বল করছে।

একজন নামকরা অভিনেত্রী যিনি প্রথমে প্রকাশ্যে চীনের বিরোধিতা করেছিলেন সেখানে একটি সংস্থার দেওয়া পুরস্কার কী করে গর্বের সঙ্গে গ্রহণ করতে পারেন সেই নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। এই চলচ্চিত্র পুরস্কার উৎসবে সেরা অভিনেতার পুরস্কার জিতেছিলেন জিৎ কিন্তু তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে তিনি এই পুরস্কার নিতে পারবেন না কারণ একটি চীনা সংস্থা এই পুরস্কারের স্পনসর।

প্রথমে চীন বিরোধিতা, তারপরেই চীনা সংস্থার পুরস্কার গ্রহণ, বাঙালি নায়িকার ভোলবদলে হয়রান নেটিজেনরা

সেখানে দাঁড়িয়ে শুভশ্রী এই পুরস্কার বর্জন করতেই পারতেন, মত নেটিজেনদের একাংশের। তবে এর মধ্যে অন্য গল্পও খুঁজে পাচ্ছেন অনেকে। শুভশ্রীর স্বামী পরিচালক রাজ চক্রবর্তী এবং শুভশ্রী নিজেও তৃণমূল সরকারের বেশ ঘনিষ্ঠ। তৃণমূলের হয়ে বিভিন্ন সমাবেশে এঁদের দু’জনকেই দেখা গিয়েছে।

এমনকি গত বছর কলকাতা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের চেয়ারম্যান ছিলেন রাজ। যেখানে তৃণমূলের সদস্য অন্যান্য অভিনেতা-অভিনেত্রী সোহম-নুসরতরা কেন্দ্রীয় সরকারের এই অ্যাপ ব্যানের বিরোধিতা করেছেন সেখানে শুভশ্রীও যে তাঁদের দলেই নাম লেখাবেন একথা বলাই বাহুল্য। অভিনেত্রীর এই ভোলবদল দেখে হতবাক হয়েছেন অনেকেই। যদিও শুভশ্রী এই বিষয়ে এখনও কোনও মন্তব্য করেননি।

RELATED Articles

Leave a Comment