‘কালী’ তথ্যচিত্রের বিতর্কিত পোস্টার নিয়ে ইতিমধ্যেই জল অনেক দূর গড়িয়েছে। সেই বিতর্কের আঁচ লেগেছে বঙ্গ রাজনীতিতেও। এবার এই নিয়ে নিজের মতামত ব্যক্ত করলেন বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিন। মাঝেমধ্যেই নিজের মতামত সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে জানিয়ে থাকেন তিনি। এবারও নিজের পোস্টে তসলিমা লিখলেন, “হিন্দুরা দিন দিন মুসলিম হয়ে উঠছে”।
প্রসঙ্গত, গত শনিবার একটি পোস্টার টুইট করে পরিচালক লীনা মানিমেকালাই। এই পোস্টারে মা কালীর বেশে এক মহিলাকে দেখা যাচ্ছে। ধূমপান করতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। তাঁর হাতে ধরা LGBTQ+-এর একটি পতাকা। এই পোস্টারকে নিয়েই ছড়ায় ব্যাপক বিতর্ক।
নেটিজেনদের একাংশের অভিযোগ, ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করেছেন লীনা মানিমেকালাই। অবিলম্বে ওই পোস্টার বাতিলের দাবী জানানো হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। এমনকী পরিচালককে গ্রেফতারির দাবীও তুলেছেন অনেকেই। ‘গও মহাসভা’র নেতা অজয় গৌতম ওই ছবি এবং পোস্টারের বিরুদ্ধে দিল্লি পুলিশে অভিযোগ জানান।
এই বিতর্কিত পরিস্থিতির মধ্যেই তসলিমা নাসরিন ফেসবুকে লিখলেন, “হিন্দুদের যে জিনিসটা আমার ভাল লাগে তা হল তাদের ভগবানকে যে যে রূপেই দেখুক, যে যেভাবেই কল্পনা করুক, এমনকী ভগবানকে যা খুশি তাই বলুক, তাতে তাদের কিছু যায় আসে না। কারণ তাদের গল্পে ভগবানদের নানা রকম কীর্তি কাহিনির কথা লেখা, তারা মানুষের মতোই কখনও ভাল কাজ করে, কখনও মন্দ কাজ করে। আদিকাল থেকে মানুষ এক ভগবানকে মেনেছে, আরেক ভগবানকে মানেনি। অথবা সব ভগবানেরই সমালোচনা করেছে”।

এরপরই তিনি আরও লেখেন, “এখন অনেকে বলছে এই ভগবানের গায়ে কাপড় নেই কেন, ওই ভগবানের মুখে সিগারেট কেন, সেই ভগবান সম্পর্কে সে কেন অমন কথা বললো, এতে আমাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে, সুতরাং আঘাতকারীর মুণ্ডু চাই। এটা হিন্দুরা শিখেছে উগ্র মুসলিমদের কাছ থেকে।” নিজের বক্তব্যের কথা বলতে গিয়ে উত্তরপ্রদেশের ঘটনার উদাহরণ দেন তিনি। তসলিমা পোস্টে লিখেছেন, সেই বিক্রেতা কাগজের ঠোঙায় মাংস বিক্রি করছিলেন। কিন্তু ঠোঙায় হিন্দু দেবতার ছবি থাকার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়”। শেষে তসলিমা লিখেছেন, “দুঃখ এই, হিন্দুরা দিন দিন মুসলমান হয়ে উঠছে”।





