‘কালী’ তথ্যচিত্রের বিতর্কিত পোস্টার (controversial poster) নিয়ে গোটা দেশেই কার্যত বেশ শোরগোল পড়েছে। সেই নিয়ে বাংলার রাজনীতিতেও তৈরি হয়েছে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি। বিতর্কিত এই পোস্টার নিয়ে তথ্যচিত্রের পরিচালকের পাশে দাঁড়ান তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra)। আর এরপরই শুরু হয় আরও বড় বিতর্ক।
মহুয়া মৈত্র বলেছিলেন, “আমার কাছে কালী মানে যিনি মাংস ভক্ষণ এবং সুরা গ্রহণ করেন। নিজের ভগবানকে তুমি কীভাবে দেখতে চাও তা কল্পনা করার অধিকার রয়েছে। কিছু জায়গা রয়েছে যেখানে ভগবানকে হুইস্কি দেওয়া হয়, আবার কিছু কিছু জায়গায় তা ভগবানের অপমানের সমান”।
এরপরই বিজেপির তরফে তৃণমূল নেত্রীকে গ্রেফতার করার দাবী তোলা হয়েছে। মহুয়ার এহেন মন্তব্যের কারণে তাঁর পাশে নেই তাঁর নিজের দলও। তবে এদিকে নিজের মন্তব্যে অনড় মহুয়া। গতকাল এক সাক্ষাৎকারে তৃণমূল সাংসদ বলেন, “আমি কালীর উপাসক। কোনও কিছুতে ভয় পাই না। বিজেপি যা করতে পারে করে নিক। আমি তোমাদের অজ্ঞতাকে ভয় পাই না, তোমাদের গুন্ডাদের ভয় পাই না, তোমাদের পুলিশকে ভয় পাই না, তোমাদের সমালোচনাকে তো নয়ই”।
ইতিমধ্যেই নিজের হোয়াটসঅ্যাপের ডিপি বদলে ফেলেছেন মহুয়া মৈত্র। সেখানে দেখা যাচ্ছে কালীঠাকুরের ছবি। উক্ত ওই সাক্ষাৎকারে মহুয়া মৈত্র স্পষ্ট বলেন, “বিজেপি বাংলার যে কোনও থানায় অভিযোগ দায়ের করুক আমার বিরুদ্ধে। সেই থানার পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে একটি কালী মন্দির পাওয়া যাবে। তারা জানুক সেখানে কী দিয়ে দেবীকে পুজো করা হয়”।
মহুয়া মৈত্রের এই মন্তব্যের রেশ টেনেই উঠে এসেছে বহিষ্কৃত প্রাক্তন বিজেপি নেত্রী নূপুর শর্মার নবী হজরত মহম্মদকে নিয়ে করা বিতর্কিত মন্তব্যও। নূপুর শর্মার সেই মন্তব্যের জেরে দেশে কম বিক্ষোভের আগুন জ্বলে নি। এখনও কোথাও কোথাও সেই বিক্ষোভের আঁচ রয়েছে। এর থেকে প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কী মহুয়া মৈত্র নূপুর শর্মার মন্তব্যকেও সমর্থন করছেন?
এই প্রসঙ্গে মহুয়া বলেন, “নূপূর শর্মা নবি মহম্মদকে অপমান করেছেন। আমি দেবী কালীকে উদযাপন করেছি”। তাঁর কথায়, “আমি নিজের ধর্মের উপর মন্তব্য করেছি। কাউকে আঘাত করার জন্য নয়”। সাংসদের বক্তব্য, “আমি এমন ভারতে থাকতে চাই না যেখানে আমি ধর্ম নিয়ে কথা বলতে পারব না”।






