সত্তরের দশকে বলিউডে এমন এক নারীর আবির্ভাব হয়েছিল, যিনি নিজের সিদ্ধান্তেই জীবন কাটাতে বিশ্বাস করতেন। সমাজের নিয়ম বা সমালোচনাকে বিশেষ গুরুত্ব না দিয়ে তিনি বারবার নিজের মতো করে পথ বেছে নিয়েছিলেন। তাঁর সাহসী পদক্ষেপ যেমন বারবার শিরোনামে এসেছে, তেমনই ব্যক্তিগত জীবনে একের পর এক কঠিন ঘটনার মুখোমুখিও হতে হয়েছে তাঁকে। তাই তাঁর জীবন আজও বহু মানুষের কাছে বিস্ময় ও আলোচনার বিষয়।
১৯৭৪ সালে একটি জনপ্রিয় ম্যাগাজিনের প্রচারের জন্য মুম্বইয়ের জুহু বিচে সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে দৌড়েছিলেন তিনি। সেই ঘটনা গোটা দেশে ব্যাপক চর্চার বিষয় হয়ে ওঠে এবং সংবাদমাধ্যমে তীব্র বিতর্কের জন্ম দেয়। পরে এক জনপ্রিয় অভিনেতার সঙ্গে তাঁর প্রেম ও বিয়েও আলোচনায় ছিল। সংসারে দুই সন্তানের জন্ম হলেও সেই সম্পর্ক বেশিদিন টেকেনি। এরপর ছেলের অকাল মৃত্যুর ধাক্কা তাঁর জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে এবং তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।
জীবনের সেই কঠিন সময় কাটিয়ে তিনি সম্পূর্ণ নতুন পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নেন। গ্ল্যামারের জগত ছেড়ে নিজেকে ধ্রুপদী নৃত্যের সাধনায় নিয়োজিত করেন। ওড়িশি নৃত্যের কিংবদন্তি গুরু কেলুচরণ মহাপাত্রের কাছে দীর্ঘদিন প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজের জীবনকে নতুনভাবে গড়ে তোলেন। পরে বেঙ্গালুরুর কাছে একটি নৃত্যকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন, যা আজও বহু শিল্পীর স্বপ্নপূরণের ঠিকানা। আর এই নারীই ছিলেন প্রতিমা বেদী।
১৯৯৮ সালের অগস্ট মাসে আধ্যাত্মিক টানে তিনি কৈলাশ মানসসরোবর যাত্রায় বেরিয়েছিলেন। কিন্তু উত্তরাখণ্ডের মালপা এলাকায় আচমকা ভয়াবহ ধসে আটকে পড়েন তিনি। সেই দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানা যায়। তবে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় তাঁর দেহ আর উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনাই তাঁর জীবনের শেষ অধ্যায় হয়ে থেকে যায়।

আরও পড়ুনঃ সবুজ শিবিরে রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধা*ক্কা! হঠাৎ তৃণমূল ছেড়ে প্রায় ২০০ পরিবারের সিপিআইএমে যোগদান, কোথায় ঘটল এমন ঘটনা?
একসময় বিতর্ক, গ্ল্যামার এবং সাহসী জীবনযাপনের জন্য পরিচিত প্রতিমা বেদী পরবর্তীতে নৃত্যচর্চা ও সংস্কৃতির প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। জীবনের নানা উত্থান-পতন, ব্যক্তিগত শোক এবং শেষ পর্যন্ত রহস্যময় মৃত্যুর কারণে আজও তিনি ভারতীয় সংস্কৃতি ও বিনোদন জগতের অন্যতম আলোচিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছেন।






